স্বপ্নের মতো জীবন : পর্ব – তেইশ
সাড়ে চারটার আগেই পূর্ণিমা পৌঁছে গেল দাদাবাবুর বাড়ি। সেখান থেকে ওরা একটা ট্যাক্সি করে পাঁচটার মধ্যেই বাঙুর হসপিটালে পৌঁছে গেল। পৌঁছে বাদল বিপ্রদাসকে ফোন করল, তুই কোথায়?
– হসপিটালে।
– আমরা হসপিটালের গেটের সামনে দাঁড়িয়ে আছি।
– আচ্ছা। আমি আসছি।
স্বল্পক্ষণ পরেই বিপ্রদাস হসপিটালের গেটের সামনে এসে, পূর্ণিমাকে দেখে অবাক হয়ে গেল। পূর্ণিমা পিসিমাকে দেখতে আসবে বিপ্রদাস কখনও কল্পনাও করতে পারেনি। তাই বিস্ময়ের ঘোর কাটতে একটু সময় লাগল তার। বিস্ময়ের ঘোর কাটিয়ে বিপ্রদাস তার বুক পকেট থেকে হসপিটালের ভিজিটিং কার্ডটা বের করে বাদলের দিকে এগিয়ে দিয়ে বলল, তোরা দু’জনে আগে গিয়ে দেখে আয়। তোরা ফিরে এলে আমরা দু’জন যাব। বাদল কার্ডটা বিপ্রদাসের হাত থেকে নিয়ে, পিঙ্কিকে সঙ্গে নিয়ে ভিতরে ঢুকে গেল।
ভিজিটিং কার্ডে লেখা এডমিট টু। মানে দু’জনের ভিতরে ঢোকার অনুমতি আছে। গেটের প্রহরী তার বেশি লোক ভিতরে ঢুকতে দেয় না। দু’জনের বেশি লোক ঢুকতে গেলে বাধা দেয়। তাই দু’জন করে ঢুকতে হয় হসপিটালের ভিতরে। বাদলরা চলে যেতেই বিপ্রদাস বলল, আপনি এসেছেন দেখে আমি খুব খুশি হয়েছি। আপনি যে আসবেন আমি ভাবতে পারিনি।
– পিসিমার কবে সেলিব্রাল অ্যাটাক হয়েছে?
– কাল।
– কেমন আছেন এখন?
– ভাল না।
– আপনি ভাববেন না, ঠাকুরের কৃপায় সব ঠিক হয়ে যাবে।
– তাই যেন হয়। তারপর হঠাৎ বিপ্রদাস বলল, পিসিমা মরে গেলে আমি কি নিয়ে বাঁচব বলুন তো?
– বিয়ে করে নিজের সংসার গড়বেন।
কথাটা শুনেই বিপ্রদাস পূর্ণিমার হাতটা খপ করে ধরে ফেলে কাতর ভাবে অনুনয়ের সুরে বলল, আপনি আমার পাশে থাকলে পরে বাঁচার মানে খুঁজে পাব আমি।
পূর্ণিমা তখন বিপ্রদাসের থেকে তার হাতটা ছাড়িয়ে নিল না। তাকে ধরে থাকতে দিল। তারপর পিঙ্কিদের আসতে বিপ্রদাসের মুখের দিকে তাকিয়ে পূর্ণিমা মৃদু স্বরে বলল, ওই যে পিঙ্কিদিদিরা ফিরে আসছেন। পূর্ণিমার কথা শুনে বিপ্রদাস পূর্ণিমার হাতটা ছেড়ে দিল।
পিঙ্কি আর বাদল ফিরে এসে ভিজিটিং কার্ডটা বিপ্রদাসের হাতে ফিরিয়ে দিয়ে বলল, যা এবার তোরা গিয়ে দেখে আয়।
বিপ্রদাস কার্ড হাতে পূর্ণিমাকে সঙ্গে নিয়ে ভিতরে ঢুকে গেল। পূর্ণিমা ভিতরে ঢুকে দেখল, বিপ্রদাসবাবুর পিসিমা নিস্তেজ হয়ে শুয়ে আছেন বেডে। প্রাণ আছে কিনা, দেখে বোঝা যাচ্ছে না। শরীরে নল দিয়ে ওষুধ আর সেলাইন যাচ্ছে।
দৃশ্যটা দেখে পূর্ণিমার মাথাটা কেমন করে উঠল। সে সেখান থেকে বাইরে বেরিয়ে এল। একটু পরে বিপ্রদাসবাবু বেরিয়ে এসে বললেন, আপনি একটু বসুন, আমি ডাক্তারের সঙ্গে কথা বলে আসছি। পূর্ণিমা তাকে মুখে কিছু না বলে, মাথা নেড়ে সম্মতি জানাল।
তারপর পূর্ণিমা হসপিটালের গ্রীলের রেলিং ধরে দাঁড়িয়ে বাইরে তাকিয়ে রইল। দেখল গেটের সামনে কত লোক। কারও চোখে মুখে করুণ আর্তি। কারও চোখ দু’টি ব্যথাতুর। সকলেই তাদের প্রিয়জনদের সুস্থ করে ফিরিয়ে নেবার জন্য এখানে এসেছেন। কেউ কেউ সফল হয়ে আনন্দে ঘরে ফিরে যাবেন। আর যারা অসফল হবেন, তারা শোক বেদনা নিয়ে বাড়ি ফিরবেন।
ডাক্তারের সঙ্গে কথা বলে ফিরতে বিপ্রদাসবাবুর দশ মিনিটের বেশি সময় লাগল। বিপ্রদাসবাবু ফিরে এসে বললেন, চলুন। পূর্ণিমা তার পিছনে পিছনে হাঁটতে লাগল।
হসপিটালের বাইরে বেরিয়ে এলে, বাদল বিপ্রদাসবাবুকে বললেন, ডাক্তার কি বলল?
– ডাক্তার তো ভরসা দিচ্ছেন। চিন্তা করতে বারণ করছেন। কিন্তু আমার মন তা’তে মানছে না।
– তবে তুই কি করতে চাস?
– তাই ভাবছি।
– কি, অন্য হসপিটালে দেওয়ার কথা?
– হ্যাঁ।
– কোথায়?
– আম্রি বা অ্যাপোলেতে।
– সেখানে তো অনেক খরচ।
– তাই তো ভাবছি।
– পিসিমার কোন মেডি-ক্লেম আছে?
– না।
– তবে খরচ চালাবি কি করে?
– আমাদের নাটকের গ্রুপের দেড় লাখ টাকা আমার কাছে আছে। ভাবছি সেটাই এখন খরচ করব।
– নাটকের গ্রুপ যখন টাকা ফেরত চাইবে, তখন কি বলবি?
– যা সত্যি তাই বলব।
– সেখানে গিয়েও যে পিসিমা বাঁচবেন, তার নিশ্চয়তা কি? তাছাড়া সরকারি হসপিটালে ভাল চিকিৎসা হয় না, এ ধারণা সব সময় ঠিক নয়।
– তাহলে, তুই কি বলিস?
– আমি বলি, যা করবি সব দিক ভাল করে চিন্তা করে করবি। আবেগের বসে এমন কোন সিদ্ধান্ত নিবি না, যাতে পরে তোকে পস্তাতে হয়।
পিঙ্কি বলল, আচ্ছা আজ তবে আসি আমরা বিপ্রদাসবাবু।
– আচ্ছা।
ওরা একটা ট্যাক্সি ভাড়া করে বাড়ি ফিরে এলো। তারপর পূর্ণিমা দাদাবাবুর বাড়ি থেকে হেঁটেই বাড়ি ফিরল।
ভিজিটিং কার্ডে লেখা এডমিট টু। মানে দু’জনের ভিতরে ঢোকার অনুমতি আছে। গেটের প্রহরী তার বেশি লোক ভিতরে ঢুকতে দেয় না। দু”জনের বেশি লোক ঢুকতে গেলে বাধা দেয়। তাই দু’জন করে ঢুকতে হয় হসপিটালের ভিতরে। বাদলরা চলে যেতেই বিপ্রদাস বলল, আপনি এসেছেন দেখে আমি খুব খুশি হয়েছি। আপনি যে আসবেন আমি ভাবতে পারিনি।
– পিসিমার কবে সেলিব্রাল অ্যাটাক হয়েছে?
– কাল।
– কেমন আছেন এখন?
– ভাল না।
– আপনি ভাববেন না, ঠাকুরের কৃপায় সব ঠিক হয়ে যাবে।
– তাই যেন হয়। তারপর হঠাৎ বিপ্রদাস বলল, পিসিমা মরে গেলে আমি কি নিয়ে বাঁচব বলুন?
– বিয়ে করে নিজের সংসার গড়বেন।
কথাটা শুনেই বিপ্রদাস পূর্ণিমার হাতটা খপ করে ধরে ফেলে কাতর ভাবে অনুনয়ের সুরে বলল, আপনি আমার পাশে থাকলে, বাঁচার মানে খুঁজে পাব আমি।
পূর্ণিমা তখন বিপ্রদাসের থেকে তার হাতটা ছাড়িয়ে নিল না। পিঙ্কিদের আসতে বিপ্রদাসের মুখের দিকে তাকিয়ে পূর্ণিমা মৃদু স্বরে বলল,ওই যে পিঙ্কিদিদিরা ফিরে আসছেন। পূর্ণিমার কথা শুনে বিপ্রদাস পূর্ণিমার হাতটা ছেড়ে দিল।
