Skip to content

Banglasahitya.net

Horizontal Ticker
বাঙালির গ্রন্থাগারে আপনাদের সকলকে জানাই স্বাগত
"আসুন শুরু করি সবাই মিলে একসাথে লেখা, যাতে সবার মনের মাঝে একটা নতুন দাগ কেটে যায় আজকের বাংলা"
কোনো লেখক বা লেখিকা যদি তাদের লেখা কোন গল্প, কবিতা, প্রবন্ধ বা উপন্যাস আমাদের এই ওয়েবসাইট-এ আপলোড করতে চান তাহলে আপনার লেখা আপলোড করার জন্য ওয়েবসাইটের "যোগাযোগ" পেজ টি ওপেন করুন।

পিঙ্কি কলেজে যাবে, আয়নার সামনে চুল আঁচড়াতে গিয়ে দেখল, আয়নার মুখটা ঠিক ডাইরীতে পাওয়া ছবিটার মতো যেন। পিঙ্কি আশ্চর্য হয়ে ভাবল, এটা কেমন করে হবে? তখনই ডাইরী থেকে সে ছবিটা বের করে তার মুখের পাশপাশি দেখে নিশ্চিন্ত হল, তার মুখটা ঠিক ছবিটার মতোই তবে একটু গোল প্রকৃতির। ছবির মেয়েটার চোখ দু’টি তার মতো। তাই হয়তো মনে হয়েছে।

মনের ভিতরে এই বিস্ময় নিয়েই আচমকা তার ঘুমটা ভেঙে গেল। সে দেওয়াল ঘড়ির দিকে তাকিয়ে দেখল, রাত দু’টো দশ। বেড সুইচ টিপে লাইট জ্বালিয়ে সে বাথরুমে গেল। বাথরুম সেরে, চোখে মুখে ভাল করে জল দিয়ে ফিরে এল। টাওয়েল দিয়ে হাত মুখ মুছে আবার বিছানায় শুয়ে পড়ল। কিন্তু তার চোখে ঘুম এল না আর। ভাবতে লাগল, এই স্বপ্নটা সে কেন দেখল? এর কি কোনও মানে আছে? নাকি নিছক একটা স্বপ্ন মাত্র?


সকালে উঠে পিঙ্কি কলেজে গেল। ক্লাসের পর অফ পিরিয়ডে সে শিপ্রাকে বলল, চল ক্যান্টিনে গিয়ে চা খাই।

– না, আমি এখন দীপকের দোকানে যাব।

– দীপকের সঙ্গে তোর দেখা হবে আজ?

– হ্যাঁ, কেন বল তো?

– চল তবে ওই বকুল গাছটার তলায় পাঁচ মিনিট বসি। বলছি তোকে।

– পাঁচ মিনিটের বেশি আমি কিন্তু বসব না।

– বেশ, তবে চল তো এখন।

ওরা দু’জনে বকুল গাছটার তলায় এসে বসল।

– বল?

– আচ্ছা ছেলেদের মানিব্যাগে কি থাকে বলত?

– টাকা থাকে।

– হ্যাঁ, টাকা তো থাকেই। টাকা ছাড়া আর কি থাকে?

– আর কি থাকে আমি জানি না।

– ন্যাকা, আর কি থাকে আমি জানি না। কেন দীপকের মানিব্যাগে কি থাকে তুই জানিস না?

– সত্যি জানি না।

– কেন দীপকের মানিব্যাগ তুই দেখিস নি?

– মানিব্যাগ দেখেছি, কিন্তু ভিতরে কি থাকে খুলে দেখিনি।

– আজ খুলে দেখবি, সেখানে তোর একটা ছবি, তোকে লেখা এক টুকরো চিঠি আর তোকে দেওয়া দামি কোনও উপহার কেনার রশিদ। আর যাই থাক, সঙ্গে এ’গুলি থাকা উচিত। আর না থাকলে বুঝবি দীপক তোকে মন থেকে মোটেও ভালোবাসে না। তোর সঙ্গে টাইম পাশ করে, ব্যাপারটা পেকে উঠলেই গাছ থেকে পাকা ফলের মতো তোকে নীচে ঝেরে ফেলবে। তখন তুই কি করবি?

– পেকে উঠলে মাানে?

– আমি প্রেম করি না। প্রেম করিস তুই। আমার চেয়ে তুই ব্যাপারটা ভালো জানবি পেকে ওঠা মানে কি।

শুনে শিপ্রার বুকের ভিতরটা অকারণে কেঁপে উঠল। সে বলল,

– তুই এসব কী বলিস?

– ঠিকই বলি।

– তুই জানলি কি করে এসব?

– প্রাকটিক্যাল অভিজ্ঞতা থেকে।

– তুইও কি প্রেম করসিস নাকি?

– না।

– তবে তুই জানলি কি করে?

– তোকে সেসব পরে বলব। পাঁচ মিনিট হয়ে গেছে, এখন তুই ওঠ, যা। দীপকের কাছে গিয়ে দেখ, তার মানিব্যাগে কি আছে?


দীপকের কাছ এসে শিপ্রা ইতস্ততঃ করতে লাগল, এইভেবে যে দীপকের কাছে সে মানিব্যাগ দেখতে চাইবে কিভাবে?

দীপক কাষ্টমারদের নিয়ে ব্যাস্ত ছিল। শিপ্রা এসে কখন তার দোকানের পাশে দাঁড়িয়েছে, দেখতে পায়নি। কাষ্টমারদের ভিড় একটু কমলে শিপ্রা দীপকের কাছে গিয়ে বলল, এই তোমার মানিব্যাগটা একবার দাও তো দেখি।

শুনে দীপক একটু অবাক হয়ে বলল,কেন, তোমার টাকার দরকার? কতটাকা লাগবে বল?

– টাকা লাগবে না, তুমি একবার ব্যাগটা দাও না?

– টাকা লাগবে না তো মানিব্যাগ নিয়ে তুমি কি করবে?

– দেখব।

– কি দেখবে?

– যা দেখার তা আমি দেখব, তুমি দেবে কিনা, বলো?

দীপক অনিচ্ছা সত্বেও প্যান্টের ব্যাক পকেট থেকে বিরক্ত হয়ে মানিব্যাগটা বের করে শিপ্রার হাতে দিল।

শিপ্রা মানিব্যাগের সবক’টি খাপ খুলে ভাল করে খুঁজে দেখে, ব্যাগের ভিতর কোথায়ও তার ছবি নেই। আর তাকে লেখা টুকরো চিঠিরও কোনও হদিস পাওয়া পেল না। আর দামি উপহার দেওয়ার ক্যাশমেমো পাওয়ার প্রশ্নই ওঠে না, কারণ দীপক তাকে কোন দামি উপহার দেয়নি কোনও দিন। শিপ্রা হতাশ ভাবে মানিব্যাগটা ফেরৎ দিয়ে দিল দীপককে।

দীপক মানিব্যাগটা ফেরৎ নিয়ে শিপ্রাকে বলল, কি হল?

– না, কিছু না।

– তবে?

– না, এমনি।

Pages: 1 2 3 4 5 6 7 8 9 10 11 12 13 14 15 16 17 18 19 20 21 22 23 24 25 26 27 28 29 30

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *