Skip to content

Banglasahitya.net

Horizontal Ticker
বাঙালির গ্রন্থাগারে আপনাদের সকলকে জানাই স্বাগত
"আসুন শুরু করি সবাই মিলে একসাথে লেখা, যাতে সবার মনের মাঝে একটা নতুন দাগ কেটে যায় আজকের বাংলা"
কোনো লেখক বা লেখিকা যদি তাদের লেখা কোন গল্প, কবিতা, প্রবন্ধ বা উপন্যাস আমাদের এই ওয়েবসাইট-এ আপলোড করতে চান তাহলে আপনার লেখা আপলোড করার জন্য ওয়েবসাইটের "যোগাযোগ" পেজ টি ওপেন করুন।

রেজিষ্ট্রি অফিস থেকে বেরিয়ে এসে, রাস্তার মোড় থেকে একটা ট্যাক্সি ধরে গড়িয়াহাটে ‘সোনালী কেবিনে’-য়ে চলে এল ওরা। সকলের জন্য বিরিয়ানি আর চিলি চিকেনের অর্ডার দেওয়া হল। মেয়েরা সকলে নিজেদের মধ্যে চাপা স্বরে কী সব কথা বলছিল আর খুব হাসাহাসি করছিল, হেসে হেসে একে অপরের গায়ে গড়িয়ে পড়ছিল। আর তৃপ্তি করে বিরিয়ানি চিলি চিকেন খাচ্ছিল। পিঙ্কিও তাদের সঙ্গে হাসিতে যোগ দিয়েছিল। বাদল ওদের হাসি দেখে মজা উপভোগ করছিল । বিপ্রদাস বিরিয়ানি আর চিলি চিকেন খেতে খেতে খেতে খেতে দেখছিল, পূর্ণিমাকে। যেন এক সবুজ পরি বন থেকে বেরিয়ে এসে তাদের সঙ্গে খাবার টেবিলে যোগ দিয়েছে। খাওয়া শেষ হয়ে গেলে, আবার সে বনের ভিতর উড়ে যাবে।

হাসি আর গল্প খাওয়ার আনন্দটা অনেক বেড়ে গেল। ওরা অনেকটা সময় কাটালো ‘সোনালী কেবিনে’।

পিঙ্কি ‘সোনালী কেবিনের’ বিল মেটাল। বিয়ের খরচ বাদব সে এটা করল। ওরা ‘সোনালী কেবিন’ থেকে যখন বের হল, দেখল বাইরে বৃষ্টি যেন নুপূর পায়ে ঝম্ ঝম্ শব্দে নাচছে। নাচ কখন শুরু হয়েছে, ওরা কেউ টের পায়নি। ওরা তখন রেস্টুরেন্টের ভিতরে ছিল। এবার বাড়ি ফিরবে কিভাবে ভেবে, সকলেই চিন্তায় পড়ল। এখন বাজে সাড়ে ন’টা। বৃষ্টি কখন থামবে তার কোনও ঠিক নেই। পিঙ্কি বাদলকে বলে সে তার স্কুলের দিদিমণিদের (যারা তার হয়ে সাক্ষী দিতে গেছিলেন) নিয়ে বেশি ভাড়া দিয়ে একটা ট্যাক্সি জোগাড় করে, তাতে চড়ে পঞ্চানন তলায় এসে নামল। নামতে গিয়ে ওরা বৃষ্টিতে অনেকটা ভিজে গেল। দিদিমণিরা রিক্সা নিয়ে যে যার বাড়ি চলে গেল। পিঙ্কি পাশেই তার হোস্টেলে ঢুকে পড়ল।

বাদল আর পূর্ণিমা আর একটা ট্যাক্সি ধরে বাড়ি ফিরল। বাদল পূর্ণিমাকে বাড়ির সামনে নামিয়ে দিল।

বিপ্রদাস থাকে ভবানীপুরে বকুলতলা রোড। সে হাজরাগামী একটা বাস পেয়ে, তাতে লাফিয়ে উঠে পড়ল।

পরদিন সকালে পিঙ্কি বাদলের ফোন পেল। সে মোবাইল হাতে তুলে নিয়ে খুব মোলায়েম গলায় বলল, – হ্যালো।

– কাল সবাই ঠিক মতো বাড়ি পৌঁছে ছিলেন তো?

– এখনও আপনি?

বাদল হাসল। বলল, আপনি বলতে বললে, তুমি বলব।

– আমি বলার কে? এটা এখন তোমার অধিকার।

অধিকার কেউ কাউকে দেয় না। আদায় করে নিতে হয়। যেমন আমার অধিকারে আমি তোমাকে তুমি বলছি।

– তাই নাকি?

– হ্যাঁ, মশাই।

– সকলে কি আর তোমার মতো এত অধিকার সচেতন হয়?

– যারা হয় না, তারা দুর্ভোগে ভোগে নির্বোধের মতো।

– আমি তাহলে, নির্বোধ বলতে পার। আমি তেমন অধিকার সচেতন নই।

– সচেতন হা হলে, কি করে নিজের অধিকার আদায় করবে?

– অধিকার বুঝি আদায় করে নিতে হয়?

– নিশ্চয়ই। অধিকার কেউ কাউকে দেয় না। আদায় করে নিতে হয়।

বাদল কথা ঘুরাবার জন্য বলল,

– বেশ বুঝলাম। এখন কি করছো তুমি?

– এইমাত্র ঘুম থেকে উঠলাম, এবার বাথরুমে যাব।

– বেশ, তবে যাও। পরে কথা হবে। বলে বাদল ফোনটা কেটে, মোবাইলটা টেবিলে রেখে দিল।

সেদিন কাগজের অফিসে গিয়ে বাদল এটেনডেন্স রেজিষ্টারে স্বাক্ষর করার পর, ম্যানেজার তথা মালিক সন্তোষ লাহিড়ির চেম্বারের দরজার কাছে গিয়ে দাঁড়াল। সন্তোষ লাহিড়ির বয়স প্রায় পঞ্চাশের কাছাকাছি। তিনি বেশ গম্ভীর প্রকৃতির রাশভারী মানুষ। প্রয়োজন ছাড়া খুব একটা কথা বলেন না। দরজার পাশে দাঁড়িয়ে বাদল বলল, একবার আসব স্যার? খুব ব্যস্ত আছেন নাকি?
– কে?

– আমি বাদল সোম।

– এসো।

বাদল চেম্বারে ঢুকেই সন্তোষ বাবুর পায়ের কাছে ঝুঁকে পড়ে তার পা ছুঁয়ে প্রণাম করতে গেলে, তিনি পা সরিয়ে নিয়ে বললেন, করেন কি?

বাদল বলল, স্যার একবার প্রণাম করতে দিন, তারপর বলছি। বলে বাদল তার পা ছুঁয়ে প্রণাম করে উঠে দাঁড়াল। তারপর হাসি মুখে বলল, স্যার আমি কাল বিয়ে করেছি রেজিষ্ট্রি করে।

– বল কি? এ তো ভয়ংকর সুখবর। তোমাদের তো তবে একটা উপহার দিতে হয় আমাকে। ওনার কথা-বার্তার ধরণই এরকম।

– আপনার আশীর্বাদই আমাদের কাছে বড় উপহার।

– তা বললে কি আর হয়? আশীর্বাদ তো অবশ্যই করছি, তার সঙ্গে উপহারও চাই তার প্রমাণ স্বরূপ।

বাদল তাকে আবার প্রণাম করে, আসি স্যার বলে বাইরে বেরিয়ে এল। তারপর ফিরে এসে নিজের চেয়ারে বসল। তার কাছে পাঠানো সব খবরগুলি দেখে, ভাবছিল কোন খবরগুলি কাগজের প্রথম পাতায় লীড করা যাবে। এরই মধ্যে সে বিয়ে করেছে খবরটা কর্মচারীদের মধ্যে ছড়িয়ে পড়েছে। তারা এসে বলল, একটা সুখবর শুনলাম আপনার। বাদলদা মিষ্টি খাওয়ান। মালিককে ছাড়া মোট পনেরো জন কর্মচারী এই কাগজে কাজ করে। আজ এসেছে নয়জন। বাদল দশজনের জন্য দুটো করে রাজভোগ আনার জন্য পকেট থেকে মানিব্যাগ বের করে একটা দু’শ টাকার নোট বের করল। তারপর নোটটা আর্দালি দশরথের হাতে দিয়ে বলল, কুড়িটা রাজভোগ কিনে নিয়ে এসো। মিষ্টি নিয়ে কিছুক্ষণের মধ্যেই ফিরে এল দশরথ।

বাদল তখন দশরথকে দুটো করে মিষ্টি সকলকে বেঁটে দিতে বলল। আর একটা প্লেটে দুটো মিষ্টি নিয়ে সে নিজেই গেল সন্তোষবাবুর ঘরে। দরজার পাশে দাঁড়িয়ে বলল, স্যার আসব, আমি বাদল সোম।

– আসুন।

বাদল চেম্বারে ঢুকে টেবিলের উপর টেবিলের উপর মিষ্টির প্লেটটা রেখে বলল, স্যার একটু মিষ্টিমুখ করুন।

তার কথা শুনে সন্তোষবাবু অমায়িক হাসলেন।

তারপর বললেন, আমার সুগার আছে, মিষ্টি খাওয়া বারণ, তবুও আপনার বিয়ে উপলক্ষে একটা মিষ্টি আমি খাব। বলেই একটা মিষ্টি তুলে নিলেন। তারপর প্লেটটা বাদলের দিকে এগিয়ে দিয়ে বললেন, এটা আপনি খান। বলেই হাতে তুলে নেওয়া মিষ্টিটা মাথাটা একটু পিছন দিকে হেলিয়ে কাত করে, মুখটা তুলে ধরে বিশাল একটা হাঁ করে মিষ্টিটা মুখের ভিতর আলগোছে ছেড়ে দিলেন। বাদল দেখল সন্তোষবাবু উপরের মাড়ির একটা দাঁত নেই। এই কথাটা তার জানা ছিল না।

Pages: 1 2 3 4 5 6 7 8 9 10 11 12 13 14 15 16 17 18 19 20 21 22 23 24 25 26 27 28 29 30

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *