স্বপ্নের মতো জীবন : পর্ব – কুড়ি
সন্ধ্যার আগেই বিপ্রদাস খুব সেজেগুজে তার বাইকে চড়ে চলে এল। তার কিছুক্ষণ পর খাবার নিয়ে ঢুকল ক্যাটারারের লোকজন। যাদের নিমন্ত্রণ করা হয়েছে তারা একে একে আসতে শুরু করেছে। পূর্ণিমা আর পিঙ্কি তাদের অভ্যর্থনা ও আপ্যায়ন করে ছাদে নিয়ে যাচ্ছে। পূর্ণিমা পরেছে নীল শাড়ি ব্লাউজ টিপ। আর পিঙ্কি পরেছে লাল শাড়ি ব্লাউজ টিপ। ওদের দু’জনকে দেখাচ্ছে যেন নীল পরি আর লাল পরি। বাদল পরেছে সবুজ পাঞ্জাবী আর সাদা ট্রাউজার। বিপ্রদাস আর বাদল ছাদের লোকজনদের নিয়ে গিয়ে খাবার জায়গায় বসিয়ে দিচ্ছে।
সবার খাওয়া শেষ হতে রাত ন’টা বাজল। মোট বাইশ জন এসেছে। তিনজনের খাবার উদ্বৃত্ত হয়েছে। ক্যাটারার সেই খাবারগুলি প্যাকেট করে রেখে তাদের বালতি গামলা সব পাত্র গুছিয়ে নিয়ে তাদের ভ্যানে তুলল। রঙিন বড় ছাতা চেয়ার টেবিল সাজিয়ে-গুছিয়ে নিয়ে ভ্যানে রাখল। তারপর বাকি পাওনা সাড়ে আট হাজার টাকা বাদলের কাছ থেকে বুঝে নিয়ে চলে গেল।
পিঙ্কি পাওয়া উপহারগুলি গুছিয়ে নিয়ে বাদলের স্টাডিরুমে রাখল।
বাদল তাদের জন্য এক প্যাকেট খাবার রেখে, বাকি দু’প্যাকেট খাবার বিপ্রদাস আর পূর্ণিমাকে নিয়ে যেতে বলল। কিন্তু পূর্ণিমা একা বড়ি ফিরবে কিভাবে বাদল চিন্তায় পড়ল। শুনে পিঙ্কি বলল, কেন? বিপ্রদাসবাবু তো বাইক নিয়ে এসেছেন, তিনি একটু পূর্ণিমাকে বাইকে করে পৌঁছে দিতে পারবেন না?
বাদল বলল, দেখি বিপ্রদাসকে বলে। বাদল বলতেই বিপ্রদাস রাজি হয়ে গেল। পিঙ্কি দু’প্যাকেট খারার একটা প্লাস্টিকের প্যাকেটে ভরে বাদলের হাতে দিয়ে ওদের কে দিয়ে দিতে বলল। বিপ্রদাস প্লাস্টিকের প্যাকেটটা বাদলের হাত থেকে নিয়ে পূর্ণিমাকে ধরতে বলল।
আগে নিজে বাইকে উঠে বসে, তারপর সেই প্যাকেট তার হাতে নিয়ে পূর্ণিমাকে পিছনের সীটে উঠে বসতে বলল। পূর্ণিমা বাইকের বঁদিকের পা-দানীতে পা দিয়ে উঠে পিছনের সীটে বসল। পূর্ণিমা উঠে বসার পর বিপ্রদাস বাইকে স্টার্ট দিল। পূর্ণিমাকে বলল, আমাকে শক্ত করে ধরে থাকবেন, নাহলে বাইক থেকে ছিটকে নীচে পড়ে যাবেন।
– আচ্ছা। বলে,পূর্ণিমা জড়তাহীনভাবে বিপ্রদাসের কোমড় জড়িয়ে ধরে বসে রইল।
বাইক চলতে শুরু করল। মাঝে মাঝে রাস্তার বাম্পে চাকা পড়তেই বাইক লাফিয়ে উঠতে লাগল, তা’তে পূর্নিমা বিপ্রদাসের পিঠের উপর ঝুঁকে পড়ছিল। বিপ্রদাস তার পিঠে পূর্ণিমার সুডৌল স্তনের স্পর্শ পাচ্ছিল। তাতে পূর্ণিমার মনে কোন সংকোচ ছিল না। বিপ্রদাসের শরীর শিহরিত হয়ে উঠছিল। রোমাঞ্চিত হচ্ছিল মন।
এইভাবে কিছুক্ষণ বাইক চলার পর, পূর্ণিমা বিপ্রদাসকে এক জায়গায় এসে বাইক থামাতে বলল।
– এখানেই নামব। কাছেই বাড়ি। আমি এই পথটুকু হেঁটেই যেতে পাবর।
বিপ্রদাস বুঝল, পূর্ণিমা একজন যুবকের সঙ্গে বাইকে চড়ে এসে বাড়ির সামনে নামতে চাইছে না। তাদের বাইক থেকে একসঙ্গে নামতে দেখলে, পাড়ার লোক নানা কু-কথা বলতে পারে। তাই সে পাড়ার মোড়ে এসে বাইক থামাতে বলেছে বিপ্রদাসকে।
বিপ্রদাস বাইক থামাল। পূর্ণিমা নেমে দাঁড়াল। তারপর বলল, পৌঁছে দেওয়ার জন্য ধন্যবাদ।
– ধন্যবাদ দেওয়ার কিছু নেই। এ আমার কর্তব্য। আচ্ছা একটা কথা বলব আপনাকে, কিছু মনে করবেন না তো?
– মনে করব কেন? বলুন।
– আপনি আবার বিয়ে করছেন না কেন?
পূর্ণিমা হি হি করে হেসে বলল,
– কে আমাকে বিয়ে করবে? দেশে কি মেয়ের অভাব পড়েছে, যে আমার মতো একজন বিধবাকে বিয়ে করবে কেউ?
– আপনি রাজি থাকলে, আমি বিয়ে করব।
– এ আপনার কোন দুর্বল মুহূর্তের মোহ। মোহ কেটে গেলেই বুঝবেন, আপনি কত বড় ভুল করতে যাচ্ছিলেন।
– আপনার ফোন নম্বরটা দিতে কোন আপত্তি নেই তো?
– কোনও আপত্তি নেই। আপনার এই অলীক মোহ কেটে গেলেই দেবো। তারপর নিঃশব্দে হেসে বিপ্রদাসকে বলল, আজ তবে আসি। বলে আর সে মুহূর্তের জন্য আর দাঁড়াল না। হাঁটতে শুরু করল।
যতক্ষণ তাকে দেখা গেল, বিপ্রদাস ততক্ষণ সেখানে নিশ্চল দাঁড়িয়ে তাকিয়ে রইল। পূর্ণিমার হেঁটে যাওয়া সে পলকহীন চোখে দেখল। তারপর পূর্ণিমা দৃষ্টির অগোচর চরে গেলে, সে তার বাইকে স্টার্ট দিল।
