Skip to content

Banglasahitya.net

Horizontal Ticker
বাঙালির গ্রন্থাগারে আপনাদের সকলকে জানাই স্বাগত
"আসুন শুরু করি সবাই মিলে একসাথে লেখা, যাতে সবার মনের মাঝে একটা নতুন দাগ কেটে যায় আজকের বাংলা"
কোনো লেখক বা লেখিকা যদি তাদের লেখা কোন গল্প, কবিতা, প্রবন্ধ বা উপন্যাস আমাদের এই ওয়েবসাইট-এ আপলোড করতে চান তাহলে আপনার লেখা আপলোড করার জন্য ওয়েবসাইটের "যোগাযোগ" পেজ টি ওপেন করুন।

পূর্ণিমার খুব আনন্দ হচ্ছে আজ দাদাবাবুর ঘরে পিঙ্কি ম্যাডাম আসবে বলে। সে খুব সুন্দর করে ফুল দিয়ে ঘরটাকে সাজাবার চেষ্টা করছে। বাদলও তার সঙ্গে হাত মিলিয়েছে। পূর্ণিমা বলল, দাদাবাবু, বাজার থেকে আরও কিছু রজনীগন্ধা স্টিক কিনে আনুন। বাদল উৎসাহিত হয়ে বাজার থেকে রজনীগন্ধার দু’ডজন স্টিক কিনে এনে পূর্ণিমার হাতে দিল। পূর্ণিমা খাটের মাথার দিকের টেবিলটার উপর দু’টো ফ্লাওয়ার ভাসে কিছুটা জল ভরে ছ’টি করে রজনীগন্ধা স্টিক দু’টোতে ভরে রাখল।

ঘর সাজাবার পর, পূর্ণিমা বলল, দাদাবাবু চা করব, চা খাবেন?

– করো।

পূর্ণিমা রান্না ঘরে চলে গেল। রান্না ঘর ছাড়া বাদলদের দু’টি পাকা ঘর। উপরে কংক্রিট ঢালাই ছাদ আছে। একটিতে মা থাকতেন। একটিতে বাদল থাকত। মা করোনায় মারা যাবার পর, মার ঘরটি বাদলের স্টাডি রুম হয়েছে।

বাদল স্টাডি রুমে এসে চেয়ারে বসল। তার মনটা হঠাৎ কেমন করে উঠল মার কথা ভেবে। মা আজ বেঁচে থাকলে কী খুশিই না হতেন। লিলির সঙ্গে তার বিচ্ছেদের ঘটনাটা মা জানত। তিনি বাদলের বিয়ে দেখে যেতে চেয়েছিলেন। কিন্তু বাদলের আর্থিক সচ্ছলতার অভাবে সে সময় তা করা সম্ভব হয়ে ওঠেনি। আজ মা বেঁচে থাকলে বোধহয় তার চেয়ে বেশি খুশি কেউ হতেন না। ভাবতে ভাবতে বাদলের চোখ ভিজে উঠছিল। এমন সময় পূর্ণিমা চা নিয়ে এসে ঢুকল। বাদল পূর্ণিমাকে বলল, চা-টা টেবিলে রাখো, আমি বাথরুম থেকে আসছি। বলে সে চোখের জল লুকোতে বাথরুমে ঢুকে পড়ল।

চোখ-মুখ ধুয়ে বাথরুম থেকে ফিরে এসে চেয়ারে বসতেই মোবাইল ফোনটা বেজে উঠল। চায়ের কাপে একটা চুমুক দিয়ে, মোবাইলটা তুলে নিয়ে দেখল, পিঙ্কি ফোন করেছে। ফোনটা রিসিভ করে বাদল মোলায়েম সুরে বলল, সুপ্রভাত।

– সুপ্রভাত। কি করছো?

– চা খাচ্ছি। তুমি কখন আসবে?

– দশটার মধ্যে চলে আসব।

– তুমি কি করছো, সাজু-গুজু?

– হুম।

– তোমার স্কুলের সকলকে বলছো আজ সন্ধ্যায় আমাদের বাড়িতে আসতে?

– হুম।

– মোট কতজন আসবে?

– বলেছি তো সবাইকে।

– কতজন?

– চারজন।

– বেশ।

– মোট কতজনের খাবার ব্যবস্থা করেছো?

– পঁচিশজন।

– তোমার কতজন আসবে?

– পনেরো-ষোল জন।

– আচ্ছা।

– দশটায় দেখা হচ্ছে।

– ওকে, মাই ডারলিং।

এরমধ্যে ক্যাটারারের লোকজন নিয়ে বিপ্রদাস এসে হাজির হল। তাদের নিয়ে সে ছাদে চলে গেল। বাদল পূর্ণিমাকে ডেকে ওদের জন্য চা করতে বলল।

পূর্ণিমা বলল, আচ্ছা দাদাবাবু।

পূর্ণিমা চা করে নিয়ে ওদের ছাদে দিতে গেল।

পূর্ণিমাকে চা নিয়ে ছাদে আসতে দেখে, বিপ্রদাস মুগ্ধ চোখে তার দিকে তাকাল। পূর্ণিমা তাকে দেখে একগাল হেসে বলল, কেমন আছেন বিপ্রদাসবাবু?

বিপ্রদাসের বলতে ইচ্ছে করছিল, ভাল নেই। তোমাকে দেখার পর থেকে মোটেও ভাল নেই।

সে কথা বলা যায় না। তাই বিপ্রদাস বিগলিত হয়ে হেসে বলল, ভালো। আপনি কেমন আছেন পূর্ণিমাদেবী?

শুনে পূর্ণিমা খিল খিল করে হেসে উঠল।

– হাসছেন কেন?

– হি হি হি হি। আমাকে দেবী বলছেন কেন?

– এতে হাসির কি আছে?

– আমি দেবী-টেবী নই।

বলে ফিক করে হেসে, পূর্ণিমা নীচে নেমে গেল।

বিপ্রদাস আর কিছু বলতে পারল না। চায়ের কাপ হাতে তুলে নিয়ে চায়ে চুমুক দিল। কর্মচারীরা চা শেষ করে, কাপ নীচে নামিয়ে নেখে, একঘন্টার মধ্যে টেবিল চেয়ার পেতে, রঙিন বড় ছাতা লাগানোর কাজ শেষ করে ফেলল।

তারপর ক্যাটারারের কর্মচারীরা এই বলে চলে গেল, যে সন্ধ্যা ছ’টার মধ্য পরিবেশন করার দু’জন লোক সহ খাবার চলে আসবে গাড়ি করে এখানে। চিন্তা করার কোন কারণ নেই।

বাদল তাদের কথা শুনে স্বস্থি পেয়ে বলল, আচ্ছা।

পূর্ণিমা ছাদ থেকে খালি কাপগুলি আনতে গেল।

পূর্ণিমাকে শুনিয়ে বিপ্রদাস বাদলকে বলল, আমি এখন চলি তাহলে। সন্ধ্যায় আসব।

– সময় মতো চলে আসিস কিন্তু, না হলে আমি সব কিছু সামলাতে পারব না।

বিপ্রদাস আর কিছু না বলে, পূর্ণিমার দিকে তাকিয়ে, রহস্যময়ভাবে হেসে, ছাদ থেকে নেমে নীচে চলে গেল।

পূর্ণিমা খালি কাপ হাতে নিয়ে ফিরে এসে দেখল বিপ্রদাস বাড়ি থেকে চলে গেছে।

তার একটু পরে, দু’টো ভারি ব্যাগ নিয়ে ট্যাক্সি করে এসে নামল পিঙ্কি। তাকে দেখে পূর্ণিমা ছুটে গেল তার কাছে। পূর্ণিমাকে জড়িয়ে ধরল পিঙ্কি।

বাদল ঘর থেকে বেরিয়ে এসে ভারি ব্যাগ দু’টো ঘরের ভিতরে নিয়ে গেল। পিঙ্কি ট্যাক্সির ভাড়া মিটিয়ে দিয়ে পূর্ণিমার হাত ধরে ঘরের ভিতর গিয়ে ঢুকল। ঘরের ভিতর ঢুকে, ঘরটা দেখেই পিঙ্কির মনটা ভরে গেল। কী সুন্দর করে সাজানো হয়েছে ঘরটা। মুগ্ধ হয়ে, ঘরের চারিদিক দেখতে লাগল। তারপর বলল, কে ঘর সাজিয়েছে?

বাদল বলল, কে আর পূর্ণিমা। সুন্দর হয়নি?

– খুব সুন্দর হয়েছে। পূর্ণিমা কই গেল?

– বোধহয় চা করতে।

কিছুক্ষণ পর পূর্ণিমা ট্রেতে কয়েকটা গরম চায়ের কাপ নিয়ে ঘরে ঢুকল। চা থেকে ধোঁয়া উঠছে।

পূর্ণিমা ট্রে থেকে একটা চায়ের কাপ তুলে নিয়ে পিঙ্কির দিকে এগিয়ে দিয়ে বলল, নিন ম্যাডাম।

শুনে পিঙ্কি, দিদিমণি সুলভ ধমকে উঠল, মারব থাপ্পর।

শুনে পূর্ণিমা একটু থমকে গেল। থমকালো বাদলও।

পিঙ্কি হেসে বলল, আমাকে এখানে ম্যাডাম বলে ডাকবে না। ডাকবে, দিদি বলে। না হলে থাপ্পর খাবে, মনে থাকে যেন।

– আচ্ছা ম্যাডাম।

– আবার ম্যাডাম? পিঙ্কি চোখ বড় বড় করল।

শুনে বাদল হেসে ফেলল। পূর্ণিমাও হাসল নিঃশব্দে।

Pages: 1 2 3 4 5 6 7 8 9 10 11 12 13 14 15 16 17 18 19 20 21 22 23 24 25 26 27 28 29 30

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *