Skip to content

Banglasahitya.net

Horizontal Ticker
বাঙালির গ্রন্থাগারে আপনাদের সকলকে জানাই স্বাগত
"আসুন শুরু করি সবাই মিলে একসাথে লেখা, যাতে সবার মনের মাঝে একটা নতুন দাগ কেটে যায় আজকের বাংলা"
কোনো লেখক বা লেখিকা যদি তাদের লেখা কোন গল্প, কবিতা, প্রবন্ধ বা উপন্যাস আমাদের এই ওয়েবসাইট-এ আপলোড করতে চান তাহলে আপনার লেখা আপলোড করার জন্য ওয়েবসাইটের "যোগাযোগ" পেজ টি ওপেন করুন।

বিশাখাপত্তনম থেকে ফেরার আগের দিন রাতে হঠাৎ ঘুম ভেঙে যায় অনিকের। বিছানা হাতড়ে ও খুঁজে পায় না নিশিতাকে। কাটরানির আর গোঙানির আওয়াজে ধড়ফড় করে উঠে বসে ও। তারপরেই ও বুঝতে পারে অস্পষ্ট চিৎকারটা ভেসে আসছে মেঝে থেকে। সাইড টেবিলের ওপরে থাকা সুইচে হাত দিয়ে আলোকিত করে তোলে ঘরটা। আর তখনই ও দেখতে পায় নিশিতাকে।

ও মেঝেতে পড়ে আছে। ছটফট করছে। যন্ত্রণায় ওর চোখ মুখ নীল হয়ে গেছে। সারাটা শরীর কুঁকড়ে যাচ্ছে ওর। পা দুটো বুকের কাছে জড়ো করে রেখে দু হাত দিয়ে জড়িয়ে আছে হাঁটুদুটো। চোখ থেকে জল বেরিয়ে আসছে। প্রায় লাফিয়ে ওর পাশে নেমে আসে অনিক। ওর মাথাটা তাড়াতাড়ি নিজের কোলে তুলে নিয়ে জোরে চেঁচিয়ে ওঠে ও।

হোয়াট দা হেল নিশু। তোমার এত কষ্ট হচ্ছে আর তুমি আমাকে ডাকবে না? আমি, আমি এখন কী করব?

নিশিতা অনিকের হাতটা চেপে ধরে। হাঁপাতে হাঁপাতে কোনো রকমে বলে ওঠে, আমার কিছু হয় নি অনিক। আমি, আমি ঠিক আছি। একটু শুধু… কথা শেষ করতে পারে না ও। ওর মুখের ভেতর থেকে এক দলা বমি বেরিয়ে আসে। জোরে আঁকড়ে ধরে ও অনিকের হাতের আঙুলগুলো। বমির সাথে একটু রক্তও ছিল। বমিটা বেরিয়ে আসার একটু পরে ও একটু শান্ত হয়। জ্ঞান হারায়।

অনিক ওকে নিয়ে উঠে দাঁড়ায়। সাবধানে বিছানার ওপরে শুইয়ে দেয় ওর আদরের নিশিতাকে। নিশিতার কষ্টে ওর নিজের দু চোখ বেয়েও জল নেমে আসতে থাকে। তার মধ্যেই ও রিসেপশনে ফোন করে। অ্যাম্বুলেন্স আসে সামনের একটা হসপিটাল থেকে। নিশিতার সাথে ও নিজেও হসপিটালে যায়। তিন দিন পরে নিশিতা ছাড়া পায় হসপিটাল থেকে।

ডক্টর মাঝে অনিককে খব বকাবকি করেন। মেয়েটার এই অবস্থা আর তুমি ওকে নিয়ে এভাবে ঘুরে বেড়াচ্ছ? এমনিতেই তো ও বাঁচবে না। তার পরেও তুমি ওকে নিয়ে কেন ঘুরে বেড়াচ্ছ?

ডক্টর আমি সব জানি। সব বুঝি। কিন্তু এটা ওর নিজের ইচ্ছে। আমি শুধু ওর সাথে আছি। ওর শেষ ইচ্ছেগুলো পূর্ণ করার জন্য, আমি ওর সাথে থাকব। ওর শেষ সময় পর্যন্ত।

কিন্তু ও ফিট নয়। আর এভাবে তোমরা ঘুরে বেড়ালে সেটা ওর শরীরের ওপরে আরও ধকল দেবে। ওর শরীর…

আমি সব জানি ডক্টর। কিন্তু, কিন্তু একটা কথা বলুন তো। কোনটা ভাল? ঘরে শুয়ে থেকে মৃত্যুর জন্য অপেক্ষা করা? না কি, নিজের ইচ্ছেতে, শেষ কয়েকটা দিন খুব ভালভাবে থেকে, নিজের ইচ্ছেগুলো পূর্ণ করে তারপরে মৃত্যুকে বরণ করা? নিশিতা ঠিক সেটাই চায়। নিজের সব অপূর্ণ ইচ্ছেগুলো পূর্ণ করতে। আর আমি ওকে আমার নিজের থেকেও বেশি ভালবাসি। ওর খুশিতে আমি খুশি থাকব। আমিও ওকে বিছানায় শুয়ে শুয়ে একটু একটু করে মৃত্যুর দিকে এগিয়ে যেতে দেখতে পারব না। তার থেকে এটাই বেশি ভাল হল।

ওকে ওকে ইয়ং ম্যান। আমি বুঝতে পেরেছি। কিন্তু এখন তোমাকে আর ওই নিশিতাকে খুব সাবধানে থাকতে হবে। আমি কিছু ওষুধ লিখে দিয়েছি। নিয়ম করে সেগুলো ওকে খেতে হবে। যেটা হবে, সেটাকে তো আটকানো যাবে না। কিন্তু শারীরিক যন্ত্রনা কম হবে।

নিশিতাকে নিয়ে যখন অনিক বেরিয়ে আসে হসপিটাল থেকে, ওর চোখ মুখ আবার উজ্জ্বল হয়ে ওঠে। নিশিতা বলে, অনিক, আমার খুব আইসক্রিম খেতে ইচ্ছে করছে। চলো।

এখনই? না নিশিতা…

না না। আমি এখনই খাবো। ওই হসপিটালের স্বাধীন খাবার খেয়ে আমার মুখের স্বাদ সব চলে গেছে। ওই তো। ওই তো একটা আইসক্রিম পার্লার। নিশিতা প্রায় দৌড়ে আইসক্রিম পার্লারে চলে গেল। আইসক্রিম খেতে খেতে হঠাৎ বেশ কিছুটা আইসক্রিম ও লাগিয়ে দেয় অনিকের মুখে। দুজনেই হেসে ওঠে। তারপরেই নিশিতা নিজের মুখটা অনিকের মুখের কাছে এনে বলে, এটা অন্য সময় হলে, আমি তোমার মুখে লেগে থাকা আইসক্রিম ঠিক খেয়ে নিতাম। বুঝলে? হেহেহেহ।

অনিক হঠাৎ নিশিতাকে জড়িয়ে ধরে। ওখানে একপাশে বেশ কিছু মিউজিসিয়ান বসেছিল। রাস্তার ওপরেই। ওরা বিভিন্ন সুর বাজাচ্ছিল তখন। অনিক নিশিতার কানের কাছে গুনগুন করে বলে,

I want you to know I still love you
Even though we’ve been dancing on broken glass
Parade all your memories for the moments we shared
Never fade away

I want you to know I still love you
When I walk down the memory lane
Where the night swears its love to the stars
There will be no more tears today, hey, hey …

We’re going where dreams really come true
And we won’t be held back by our fears
Come hell or high water
We’ll trust there’s a life for us here this way…

তারপরেই নিশিতার হাত ধরে ও নাচতে শুরু করে। নিশিতাও ওর তালে আর ছন্দে পা মেলায়। খুব ধীরে ধীরে। দুজনের চোখে মুখে তখন দুজনকে নতুন করে চেনার আবেশ… নতুন করে ফিরে পাওয়ার অঙ্গীকার।

হোটেলে ফিরে এসে নিশিতা শুয়ে পড়ে বিছানায়। তারপরে জিজ্ঞেস করে, তুমি আমার একটাও ছবি তুলে রাখছ না কেন?

কারণ, তুমি আমার মনের মণিকোঠায় চিরকাল থাকবে। আমার ছবির দরকার পড়বে না।

নিশিতা অভিমানে মুখ ফিরিয়ে বলল, একদিন দেখবে তোমার মনে থাকাটাও ফিকে হয়ে যাবে।

অনিক বলে ওঠে, তুমি জানো না যে আমি তোমাকে ভালোবাসি নতুন একটা দিনের মত, জীবনের মত করে। মৃত্যুর মত করে না।

Pages: 1 2 3 4 5 6 7 8 9 10

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *