পায়ের তলায় সরষে (মধ্য ভারত ভ্রমণ – পর্ব : ৩)
জঙ্গল পাহাড় নদী উপত্যকাঘেরা ছত্রিশগড় যেন প্রকৃতির রহস্যময়ী রূপ!মধ্য ভারত সফর নগর যন্ত্রণায় আবিল মনকে শান্তির পরশ দেয়!আজ চলেছি দান্তেওয়াড়ার মা দন্তেশ্বরী মন্দির দেখতে।
৫১ সতী পীঠের এক পিঠ এই মন্দির!মা সতীর দাঁত পড়েছিল এখানে… তাই নাম দন্তেস্বরী!
কালো কষ্টিপাথরের মূর্তি!গর্ভগৃহের আবছা আলোতে খুব একটা স্পষ্ট দেখা যায় না। অনেকটা মা বর্গভীমার মত লাগলো। শঙ্খিনীনদীর
ব্রিজ পেরিয়ে মন্দির কমপ্লেক্সে ঢুকতে হয়। সুন্দরভাবে মন্দির কমপ্লেক্স টিকে রক্ষা করা হচ্ছে! খুবই সুব্যবস্থা রয়েছে!চৈত্র এবং শারদ নবরাত্রি এখানে খুবই ধুমধামের সঙ্গে পালন করা হয়! বিভিন্ন জনজাতির উৎসব এখানে এখানকার অধিবাসীরা উদযাপন করে! মন্দিরে ঢুকলে মনে অনাবিল শান্তির পরশ লাগে!
তীরথগড় জলপ্রপাত…
জঙ্গল পাহাড়ের ভেতরে অবস্থিত তীরথগড় এক
সুন্দরী জলপ্রপাত! পাহাড়ের উপর থেকে ধাপে ধাপে জল নেমে এসেছে নীচে,অপূর্ব সুন্দর দৃশ্য।
প্রায় ২৮০ টা সিঁড়ি নিচে জলপ্রপাতের তলদেশে যাওয়া যায়!পুরো পথটা সবুজেঢাকা। মাঝে মাঝে ভোরগরবী ও বিভিন্ন ধরনের বুনো ফুলের মিনা কারি। সিঁড়ির পাশে বিশাল বিশাল শিউলি গাছ! শিউলি ফুলের চাদর বিছানো সিঁড়িতে! মায়ের আগমনী গাইছেএরা। প্রপাতের জল যেখানে পড়ছে সেই পাথর চাট্টানে যেন মানুষের মেলা। বিভিন্ন ধরনের লিলি এবং ওলগাছের জঙ্গল দেখলাম!
এই জলপ্রপাত দেখেই মনে পড়ছে কবি সত্যেন্দ্রনাথ দত্তের ঝরনার লাইন গুলি….
“ঝরণা ঝরনা সুন্দরী ঝর্ণা, তরলিত চন্দ্রিকা চন্দন বরণা”
তীরথগড় জলপ্রপাত টি কাঙ্গের ভ্যালি ন্যাশনাল পার্ক এর মধ্যেই অবস্থিত। এই কাঙ্গের ভ্যালি ন্যাশনাল পার্ক চারটি রাজ্য জুড়ে অবস্থিত… মধ্যপ্রদেশ, ছত্রিশগড়,উড়িষ্যাওমহারাষ্ট্র! এখানেই রয়েছে কুটুম সর গুহা।জঙ্গল সাফারি আপাতত বন্ধ নভেম্বরের পয়লাতে শুরু হবে! এই ন্যাশনাল পার্কের মধ্যে দিয়ে সফর একটাস্মরণীয় ঘটনা!কখনো পাহাড়ের উপরে কখনো নিচে কখনো উপত্যকার মধ্য দিয়ে চলেছে জাতীয় সড়ক! দুপাশেঅরণ্যের শ্যামলিমা!এক মন মুগ্ধ করা পরিবেশ!
