Skip to content

Banglasahitya.net

Horizontal Ticker
বাঙালির গ্রন্থাগারে আপনাদের সকলকে জানাই স্বাগত
"আসুন শুরু করি সবাই মিলে একসাথে লেখা, যাতে সবার মনের মাঝে একটা নতুন দাগ কেটে যায় আজকের বাংলা"
কোনো লেখক বা লেখিকা যদি তাদের লেখা কোন গল্প, কবিতা, প্রবন্ধ বা উপন্যাস আমাদের এই ওয়েবসাইট-এ আপলোড করতে চান তাহলে আপনার লেখা আপলোড করার জন্য ওয়েবসাইটের "যোগাযোগ" পেজ টি ওপেন করুন।
Home » মনকেমনের পালা || Manisha Palmal

মনকেমনের পালা || Manisha Palmal

বছর শেষের চৈত্র দিন আমার মনকে বড় বিবাগী করে দেয়। ঝরা পাতার মর্মর স্বর কে আমার বাউল মন অনুসরণ করতে চায়। এই মনকেমনিয়া ক্ষন বড় পিছুটানে। স্মৃতিমেদুরতায় আবিল করে মনকে।
চৈতি বনের ঝরা পাতা ডাক দেয় বসন্ত মুকুলকে। ঋতুরাজের ফুলের সাজে সেজে উঠে চৈতিবন। পলাশ শিমুল কৃষ্ণচূড়ার লালিমার সাথে পাল্লা দেয় কুসুম পাতা। মহুয়া অশ্বথ্থের গোলাপি সবুজ মিলেমিশে বসন্ত বন রং থৈথৈ।
কুসুম পাতার লাল শরমে
শিউরে ওঠে মহুয়া সই।
গোলাপি আর সবুজ মিশে
বসন্ত বন রং থৈথৈ।
ঝরা পাতার হাতছানিতে মন উচাটন— ডাক দিয়ে যায় সেই ফেলে আসা কিশোরীবেলা—- চল বন কে যাবি?
কি যেন সুদূর পার থেকে ডাক দেয়—-
” আমি রইতে নারি ঘরে
আমার মন যে কেমন করে
আমার মন লাগে না কাজে—-“
অলীক যাপনে মন ফিরে চলে সেই ফেলে আসা ক্ষণে।
সুবর্ণরেখার কুলের চৈতি বন—- পলাশ শিমুলের রক্তিম উচ্ছ্বাসে ডগোমগো। শাল মঞ্জুরীর মদির সুবাসে বনভূমি ম ম করছে। সবুজ গোলাপি লালের গালিচা পাতা বনভূমির মাঝে বয়ে চলা তটিনী যেন কোন সুন্দরী ঝুমুর শিল্পী— তার চলনে ঝুমুরের ছন্দ তার কুলুকুলু ধ্বনিতে ঝুমুরের তান– বড় মনমোহনিয়া!
নদীর ঘাটের একলা শিমুল গাছটা ফুল সাজে সেজেছে।– যেন কোন নববিবাহিতা! ফুলের রক্তিম উচ্ছ্বাসে যেন নববিবাহিতার শরম লাজ! নদী তীরের মা দুয়ারসিনির আটনের বেষ্টনীতে পলাশ শিমুলের গলাগলি চৈতি বনকে উৎসব সাজে সাজিয়েছে। নদীচরের আকন্দ গাছের ঝোপ গুলোতে সাদা বেগুনি ফুলের বান ডেকেছে। মৌমাছি ভ্রমরের দল সেখানে দখিনা যেচে বেড়াচ্ছে। নদী তীরে ভূতভৈরবী ঘেঁটু আর বনবেলের ঝোপ। সাদা গোলাপি হলুদ কমলার মীনাকারি যেন প্রকৃতির বেনারসির নকশার রং। মহুয়া গাছের তলা সাদা মহুয়া ফুলের চাদর বিছানো। সাথে সাথেই মহুলের মদির সুবাস যেন বাসন্তী বনকে নেশায় আতুর করে তুলেছে।
নেশাধরা মহুল সুবাসে ম ম করা বসন্ত বনে ডাক দিয়ে যায় চৈত্র পবন।
মন উচাটন— মাদলের দ্রিম দ্রিম বোলে– সারিন্দার সুরে ভেসে যায় সারা- জঙ্গল মাঠ নদীতীর। চৈতি বনের ফুল সাজে, বাহা সারহুল উৎসবের মাতনে প্রকৃতি আজ আনন্দে মেতেছে। বর্ষ শেষের ক্ষণ তাই আনন্দমুখর। মন গেয়ে উঠছে—” চৈতি ফুলে কে বাঁধিস রাঙ্গা রাখি—“

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *