Skip to content

Banglasahitya.net

Horizontal Ticker
বাঙালির গ্রন্থাগারে আপনাদের সকলকে জানাই স্বাগত
"আসুন শুরু করি সবাই মিলে একসাথে লেখা, যাতে সবার মনের মাঝে একটা নতুন দাগ কেটে যায় আজকের বাংলা"
কোনো লেখক বা লেখিকা যদি তাদের লেখা কোন গল্প, কবিতা, প্রবন্ধ বা উপন্যাস আমাদের এই ওয়েবসাইট-এ আপলোড করতে চান তাহলে আপনার লেখা আপলোড করার জন্য ওয়েবসাইটের "যোগাযোগ" পেজ টি ওপেন করুন।

পরদিন সকালে কিছু জরুরী ফোন করে প্রলয়।
কথামত অফিসের থেকে কাজ মিটিয়ে আয়ুসকে ফোন করে প্রলয়, দুজনে একসাথে প্রথমে ধীরেন বাবুর কারখানার সংলগ্ন এলাকায় ঘুরে খোঁজ খবর নেয়। তারপর থানায় পৌঁছে যায়। থানায় ভেতরের বেঞ্চে দুজন অল্প বয়সী ছেলে মাথা নিচু করে বসে আছে , অফিসারের দিকে তাকাতে বলে রুবেল,রাউথ। উল্লাস এখনো এসে পৌঁছায় নি, তবে ধীরেন বাবু ফোন করেছিলেন উনি ছেলেকে নিয়ে আসছেন। প্রলয়: গতকাল যাদের গ্রেফতার করে ছিলেন তাদের সঙ্গে এদের পরিচয় আছে? অফিসার: হ্যাঁ, ভালো খরিদ্দার, তবে আগের সপ্তাহে টাকা পয়সা দেওয়া নিয়ে ঝগড়া হয়েছিল, সম্ভবতঃ লুতফার এদের কথাই বলেছে। অফিসার ছেলে দুটিকে এদিকে এসে বসতে বলেন, প্রলয়: কলেজ থেকেই যদি মদ গাঁজা খেলে কদিন বাঁচবে ভেবে দেখেছ? ছেলে দুটি চুপ করে বসে থাকে। অফিসার: জিনার সাথে রুবেলের প্রেমের সম্পর্ক ছিল, ফোন তাই বলছে। রুবেল: না স্যার, সেরকম কিছু নয় কখনো কখনো ম্যাসেজ করতাম, এইরকম ম্যাসেজ অনেককেই পাঠিয়ে থাকি। প্রলয়: জিনার তোমার প্রতি আসক্তি ছিল, মুখে অজস্র ব্রনর দাগ থাকায় ছেলেরা পাত্তা দিত না। মানসিক ভাবে দুর্বল প্রকৃতির ছিল,আর তোমরা প্রেমের খেলা করছিলে, তারপর ফাঁসিয়ে উপভোগ করেছ বেশ কিছু সময় তারপর সখ মিটিয়ে দিয়ে ব্রেক আপ,এতটা নিষ্ঠুর কিভাবে হতে পারো! রুবেল: না স্যার আমরা কিছু জানি না, অনেক সময় হয়তো ইয়ার্কি করেছি মুখের দাগ নিয়ে কিন্তু তার থেকে বেশি কিছু নয়। বরং রাউথের সঙ্গে জিনা বেশি সময় কাটাতো, বিশ্বাস না হলে কলেজে খোঁজ নিতে পারেন। তবে আমরা কেউ ওকে আত্মহত্যায় প্ররোচনা দিই নি। ঠিক সেই সময় ধীরেন বাবু উল্লাসকে নিয়ে থানায় পৌঁছে যান। ধীরেন বাবু এবং উল্লাসকে বসতে বলেন মিঃ অধিকারী। তারপর সরাসরি উল্লাসকে বলেন অকারণ টুসিকে বিরক্ত করতে কেন? উল্লাস চুপ করে থাকে, প্রলয় এর উল্লাসকে দেখে মনে বিপর্যস্ত চেহারা, সম্ভবতঃ ধীরেন বাবু ধমক দিয়ে বুঝিয়ে থানায় এনেছেন। প্রলয় উল্লাসের দিকে তাকিয়ে বলে তুমি টুসিকে ভালোবাসো? উল্লাস চুপ করে বসে থাকে, প্রলয়: ভালোবাসার প্রত্যাখ্যান সহ্য করতে না পেরে এতো বড় ক্ষতির মুখে ঠেলে দিলে অসহায় মেয়েটাকে? উল্লাস চেঁচিয়ে ওঠে বিশ্বাস করুন আমি টুসির ক্ষতি করি নি… হতে পারি আমি খারাপ ছেলে কিন্তু টুসির খারাপ আমি স্বপ্নেও ভাবতে পারি না, যদি আমি জানতে পারি কে করেছে আমি দেখে নেবো….
ধীরেন বাবু: আহ্, উল্লাস তুমি চুপ করবে, অকারণ জটিলতা বাড়িয়ে লাভ নেই। মিঃ অধিকারীর দিকে তাকিয়ে ধীরেন বাবু বলেন অফিসার আমি উল্লাসকে কয়েকদিন আগে দেশের বাড়িতে পাঠিয়ে দিয়েছিলাম যাতে পড়াশোনায় মন বসে, এখানে কলেজে কয়েকবার বচসার জন্য আমাকে দেখা করতে হয়েছিল। তবে আর যাই হোক আমার ছেলে মেয়েদের গায়ে কখনো হাত তুলবে না। মিঃ অধিকারী: কোনো বাবা মা কি ভাবতে পারে সন্তানের কুকর্ম! ধীরেন বাবু: আপনি কলেজের অ্যাটেনডেন্স রেজিষ্টার দেখতে পারেন বা আমাদের দেশের বাড়িতে লোক পাঠিয়ে খোঁজ নিতে পারেন।
মিঃ অধিকারী: প্রয়োজন হলে অবশ্যই নেবো। প্রলয়: আপনার ছোট ছেলে কি করছে এখন? ধীরেন বাবু: এবার মাধ্যমিক দেবে। প্রলয়: উল্লাসের সৎভাই তো।
ধীরেন বাবু তীক্ষ্ণ দৃষ্টিতে প্রলয়ের দিকে তাকিয়ে বলেন হ্যাঁ। প্রলয়: আপনার বছর খানেক আগে কাস্টমস্ এ কিছু মাল বাজেয়াপ্ত করা হয় রসিদের গন্ডগোলে। ঠিক কি ঘটেছিল? ধীরেন বাবু: আমি এই উত্তর দিতে বাধ্য নই। প্রলয়: সেই সময় যে অফিসার দায়িত্বে ছিলেন তাঁর মেয়ে টুসি,তাই আপনার পরিবারের একটা চাপা রাগ ছিল ওদের পরিবারের ওপর। ধীরেন বাবু অধৈর্য হয়ে উঠে দাঁড়িয়ে পড়ে উল্লাসকে বলেন,আমি অনেক আগে তোমাকে বলেছিলাম ঐ মেয়ের সঙ্গ পরিত্যাগ করতে,দেখো তোমার বাবার সন্মান ধুলোয় মিশে যাচ্ছে। প্রলয়: আপনি শান্ত হন, কথাগুলো বলতেই হলো,এই কেশের পরিপ্রেক্ষিতে, একটা মেয়ের জীবনের প্রশ্ন যখন। ধীরেন বাবু: আমি কখনো ঐ মেয়ের ক্ষতি চাই না, আমার ছেলের বয়সী, আমি চাই অপরাধী ধরা পড়ুক।
মিঃ অধিকারী: ঠিক আছে, এখন আপনি আসতে পারেন। তবে কেউ কলকাতা ছেড়ে যাবেন না, আমাদের অনুমতি ছাড়া। রুবেল,রাউথকে একই ওয়ার্নিং দিয়ে ছাড়া হয়।

Pages: 1 2 3 4 5 6 7

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *