ফাঁদ – পর্ব ৭
ওরা বেরিয়ে যাওয়ার পর প্রলয় মিঃ অধিকারীকে আস্তে আস্তে বলে আজ রাতে আপনার বিশ্বস্ত যাঁরা আছেন তাদের ওই তিনজনের বাড়িতে লুকিয়ে পাহারা দেওয়ার ব্যবস্থা করুন। পাখি আজকের রাতে ওড়ার চেষ্টা করবেই,কারণ আমরা যে ঘটনার প্রায় কেন্দ্রে পৌঁছেছি,তা অপরাধী টের পেয়েছে। তবে এদের পেছনে আরো বড়ো মাথা কেউ থাকলেও থাকতে পারে।
মিঃ অধিকারী: ঠিক আছে আমি পুলিশ মোতায়েন করছি। প্রলয় থানা থেকে বেরিয়ে আয়ুসকে বলে আজ রাতে কিছু ঘটবে বলে আশঙ্কা করছি। তারপর ফেরার পথে পাবলিক বুথ থেকে একটা ফোন করে। আয়ুস: কি মনে হয়, অপরাধী ফাঁদে পা দেবে? প্রলয়: দেখা যাক। বাড়িতে ফিরে ডিনার সেরে কিছু সময় ফোন দেখে,আয়ুসের ফোন আসে, প্রলয়: বলে,আয়ুস: আমার খুব টেনশন হচ্ছে টুসির ওপর আবার নতুন কিছু যদি ঘটে। প্রলয়: টুসির পায়ের চোট ভালো না হওয়া পর্যন্ত কলেজ পাঠাবি না। এখন মনে হয় না নতুন কিছু ঘটবে। কথামত ঠিক বারোটায় বেরিয়ে পড়বো।কিছু সময় পর মোবাইলের নতুন সিমকার্ড থেকে ফোন করে বেরিয়ে পড়ে। রাত প্রায় একটা, নিঝুম ক্লান্ত শহর ঘুমে আচ্ছন্ন,প্রিন্সেপ ঘাটে একজন কথামত এসে দাঁড়ায়,কোড : সুগার বলতেই একটা বড়ো বস্তা ফেলে চেপে ধরে প্রলয়। চারপাশ থেকে তিন চারজন পুলিশ ঘিরে ধরে। একপ্রকার বেঁধে থানায় নিয়ে আসে ওরা। প্রলয়: ধীরেন বাবুর বাড়ির লোকেদের ডেকে পাঠান, বলুন একজন খুন হয়েছে সনাক্ত করতে হবে।থানায় বস্তা খুলে মিঃ অধিকারী বলেন বেশি গোলমাল করলে একটা গুলিতে খুলি এধার ওধার হয়ে যাবে। মুখের কাপড় সরিয়ে মিঃ অধিকারী বলেন একি রুবেল!!
প্রলয়: হ্যাঁ, আমাদের সন্দেহ ছিল রুবেলের ওপর,কারণ উল্লাস আর যেমনি হোক টুসিকে ভালোবাসতো, তারপক্ষে টুসিকে আঘাত করা সম্ভব নয়, টুসির ফোনে ম্যাসেজ থেকে বুঝেছিলাম। কিন্তু প্রশ্ন থেকে যায় তবে কে? অপরাধী ভেবেছিল উল্লাসকে পুলিশ গ্রেফতার করবে,আর রাস্তার কাঁটা সরে যাবে। এরপর রুবেল বলুক গত কয়েক মাসে কতটাকা নিয়েছে হেনা দেবির থেকে!
রুবেল তোমার স্বীকারোক্তিতে তোমার সাজা কমবে। ঠিক সেই সময় ধীরেন বাবু, উল্লাস,হেনা দেবি এসে পৌঁছায়। প্রলয়: রুবেল বলো হেনা দেবির থেকে কতো টাকা নিয়েছ উল্লাসের মদের নেশা ধরানো এবং ঐ ধরনের কাজের জন্য? রুবেল মাথা চেপে ধরে বলে হাজার পঞ্চাশেক। তবে আমি টুসির ক্ষতি করতে চাই নি।
উল্লাস চেঁচিয়ে ওঠে,ঐ শয়তান আমাকে বলেছিল টুসিকে তুলে নিয়ে ফুর্তি করতে, আমার সাথে তখনই ঝগড়া হয়েছিল, তারপরেই বাবা দেশের বাড়িতে পাঠিয়ে দেয়, আমি ভাবতে পারি নি এই ঘটনা ঘটবে। রুবেল:উল্লাসের প্রেম প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেছে এইকথা জানতে পেরে আন্টি আমাকে টাকা দিয়েছিল,তার থেকে ভাড়ার গুন্ডা লাগিয়ে ছিলাম। হেনা দেবি: মিথ্যা কথা। প্রলয়: আজ রুবেলের দাদা হয়ে ফোনটা আমি করেছিলাম আপনাকে, রুবেল আত্মগোপন করলে যেন টাকা পৌঁছে যায়।ঐ ফোনের রেকর্ডিং আছে, শুনবেন একবার।একই সঙ্গে রুবেলকে আপনার লোক বলে প্রিন্সেপ ঘাটে আসতে বলি। মিঃ অধিকারী: ঘটনা এখন জলের মতো স্বচ্ছ, উল্লাস জেল হাজতে থাকলে ধীরেন বাবুর সম্পত্তি লেখাতে সুবিধা হবে। রুবেলের দিকে তাকিয়ে আর জিনাকে কেন মরতে হলো? রুবেল: জিনা নিজেই শারীরিক সম্পর্কে উৎসাহী ছিল, কিছু দিন আগে বিয়ের প্রস্তাব দিতে আমার সঙ্গে ঝগড়া হয়েছিল, আমি তারপর কল ব্লক করে দিয়েছিলাম। এরপর কি হয়েছে জানি না স্যার। আমার বাড়ির অবস্থা ভালো নয়। প্রলয়: এই কথাটা অপরাধ করবার আগে ভাবা উচিত ছিল। মিঃ অধিকারী তথ্য প্রমাণ অনুযায়ী রুবেল এবং হেনা দেবি দুজনেই গ্রেফতার হওয়া উচিত। হেনা দেবি হঠাৎ উঠে পালাতে গেলেই মহিলা কনস্টেবল ধরে ফেলেন। দুজনকে পুলিশি হেফাজতে নেওয়া হয়। ধীরেন বাবু: আমি ভাবতে পারছি না সম্পত্তির লোভে হেনা এই কাজ করতে পারে। প্রলয়: নিজের ছেলেদের সময় দিন,যাতে ওরা স্বাভাবিক জীবনে ফিরে আসতে পারে। উল্লাসের কাঁধে হাত রেখে,মন দিয়ে পড়াশুনা করো, হয়তো একদিন আসবে যেদিন টুসি আর তোমাকে একসাথে গল্প করতে দেখবো। আয়ুস: হ্যাঁ, আমার অনুমতি নিয়ে। জটিল পরিস্থিতিতেও সবাই হেসে ওঠে…
