Skip to content

Banglasahitya.net

Horizontal Ticker
বাঙালির গ্রন্থাগারে আপনাদের সকলকে জানাই স্বাগত
"আসুন শুরু করি সবাই মিলে একসাথে লেখা, যাতে সবার মনের মাঝে একটা নতুন দাগ কেটে যায় আজকের বাংলা"
কোনো লেখক বা লেখিকা যদি তাদের লেখা কোন গল্প, কবিতা, প্রবন্ধ বা উপন্যাস আমাদের এই ওয়েবসাইট-এ আপলোড করতে চান তাহলে আপনার লেখা আপলোড করার জন্য ওয়েবসাইটের "যোগাযোগ" পেজ টি ওপেন করুন।

প্রলয় বাড়িতে ফিরে ফ্রেশ হয়ে নিয়ে কিছু সময় টিভি দেখে, নিউজ চ্যানেলে ডাকাতি, হত্যার সংবাদ,দীর্ঘশ্বাস ফেলে বলে কি অবনতি, স্বার্থ মানুষকে পিশাচে পরিণত করে। রাতে খাবার পর বইয়ের পাতা ওল্টাতে ওল্টাতে ভাবে উল্লাসের ফোন কেন স্যুইচড অফ? টুসির ঘটনায় সাইকেল আরোহী কে ছিল? যদি উল্লাস নিজে হতো তবে টুসি নিশ্চিত চিনতে পারতো,কারণ উল্লাস প্রায়শই টুসিকে বিরক্ত করতো। আরেকবার টুসিকে ভালো ভাবে জিজ্ঞেস করতে হবে। প্রয়োজন হলে উল্লাসকে ডেকে পাঠাতে হবে।
পরদিন শুক্রবার অফিসের থেকে ছুটি নিয়ে,সকালে জলখাবার খেয়ে হাসপাতালে যাওয়ার জন্য প্রস্তুত হচ্ছে, তৃষা দেবি বলেন কিরে তোর বন্ধুর বোন কেমন আছে এখন?
প্রলয়: মাথায় ক্ষত খুব বেশি না হলেও পায়ের ফ্র্যাকচার সারতে সময় লাগবে। তবে এটা নিছক দূর্ঘটনা নয়। তৃষা দেবি: ছেলে মেয়েরা যদি স্কুল কলেজে নারাপদ না হয় তবে কোথায় যাবে? আয়ুসের মায়ের কতটা দুশ্চিন্তা হচ্ছে বলতো। প্রলয়: দুশ্চিন্তা দূর করতেই চেষ্টা করছি, অপরাধী যাতে ধরা পড়ে। বাড়ি থেকে বেরিয়ে রোডের ধারে এসে দাঁড়িয়েছে আয়ুসের ফোন আমি মিনিট পাঁচেকের মধ্যে আসছি। প্রলয় মোবাইলে নেট অন করতে যাবে এমন সময় মিঃ গুহর ফোন, রিসিভ করতে অফিসার বলেন কাল রাতে ঐ কলেজের একজন ছাত্রী আত্মহত্যা করেছে, ফাইনাল ইয়ারের স্টুডেন্ট। প্রলয় : সেকি,ঐ একই কলেজে? তার মানে নিশ্চিত কোনো রহস্য লুকিয়ে আছে ঐ কলেজেই। অফিসার: হ্যাঁ, লোকাল থানা থেকে পুলিশ আজ টুসিকে জিজ্ঞাসাবাদ করার জন্য যাচ্ছে। প্রলয়: হ্যাঁ, আমি আয়ুসের সাথে হাসপাতালর জন্য রওনা দিচ্ছি। ফোন রাখার পর আয়ুস এসে পৌঁছালে মিঃ গুহ ফোন করেছেন বলাতে,আয়ুস ঘাড় নাড়িয়ে বলে আমি জানি, উল্লাসের ব্যাচের একটি মেয়ে আত্মহত্যা করেছে। প্রলয়: হুম, পুলিশ ইন্সপেক্টর হাসপাতালে পৌঁছালে টুসিকে পুলিশ প্রোটেকশন দেওয়ার কথা বলতে হবে। আয়ুসের বাইকে পৌনে এক ঘণ্টায় হাসপাতালে পৌঁছে যায়। রিসেপশনে জানিয়ে টুসির ওয়ার্ডে পৌঁছে দেখে টুসি হেলান দিয়ে বসে আছে। প্রলয়: টুসি তোর আপত্তি না থাকলে মোবাইলটা আমরা নেবো, তোকে একটা অন্য মোবাইল দিয়ে যাবো,আয়ুসের সাথে আমার কথা হয়েছে। আয়ুস: হ্যাঁ,আজ পুলিশ ইন্সপেক্টর আসবেন, ওনাকে ঘটনা সঠিকভাবে জানাবি। কথা বলতে বলতেই অফিসার এসে যান। উনি কাউকে সন্দেহ হচ্ছে জিজ্ঞেস করাতে টুসি বলে ঐ সাইকেল আরোহী খুব দ্রুত সাইকেল চালিয়ে যাচ্ছিল সঠিকভাবে চেহারা দেখতে পারে নি তার আগেই রাস্তার ধারে সরে যেতে চেষ্টা করে, অফিসার: তোমার পরিচিত কেউ হতে পারে? টুসি: খুব দ্রুত চালিয়ে যাচ্ছিল,তাই সেইভাবে বুঝতে পারিনি ‌। আয়ুস , উল্লাসের কথা অফিসার অধিকারীকে জানায়, প্রলয় বলে স্যার ওর বাড়িতে আমরা শনিবার বিকালে গিয়ে জানতে পারি ওকে দেশের বাড়িতে পাঠিয়ে দিয়েছেন। উল্লাসকে জিজ্ঞাসাবাদ করা প্রয়োজন। অফিসার: হুম, আমি এখন কলেজে এবং অন্যান্য জায়গায় খোঁজ খবর নেবো, যেহেতু আরেকটি ঘটনা ঘটেছে, হতে পারে কোনোরকম যোগসূত্র আছে। প্রলয়: হ্যাঁ আমাদেরও তাই মনে হচ্ছে। সত্যি কথা বলতে সবাই নিরাপত্তা হীনতায় ভুগছে, আপনি যদি একজন কনস্টেবল এখানে মোতায়েন করেন ভালো হয়। অফিসার: ঠিক আছে, তার আগে থানায় একটা ডায়েরি করুন যে আপনারা এই দূর্ঘটনা উদ্দেশ্য প্রণোদিত বলে মনে করছেন। আমাদের কাজের সুবিধা হবে।গুহ বাবু আপনাদের কথা আগেই আমাকে বলেছেন, অপরাধের শিকার যেন আর কেউ না হয় আমরা চেষ্টা করবো। টুসির থেকে ফোন নিয়ে আয়ুস, প্রলয় থানায় যায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করে। থানা থেকে বেরিয়ে প্রলয় আয়ুসকে বলে চল একবার কলেজে যাই, টুসির ভালো বন্ধু বা বান্ধবীদের কাছ থেকে কিছু তথ্য বেরিয়ে আসবে। আয়ুস বলে টুসিকে কলেজে নীতি,লুতফারের নাম বলতে শুনেছি,চল কলেজে পৌঁছে ফোন করে দেখি। কলেজে পৌঁছে ওরা দেখে কলেজের পরিস্থিতি থমথমে,বেশ কিছু জায়গায় জটলা,আয়ুস প্রলয়কে বলে ক্যান্টিনে বসে কথা বলতে সুবিধা হবে। ক্যান্টিনে পৌঁছে টুসির ফোন থেকে নীতি,লুতফারকে ফোন করে আয়ুস বলে আমরা কলেজে ক্যান্টিনে আছি, যদি সম্ভব হয় এসে দেখা করো।

Pages: 1 2 3 4 5 6 7

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *