ফাঁদ – পর্ব ৪
আয়ুস চা, ডিমের ওমলেট অর্ডার করে, মিনিট দশেক পর নীতি,লুতফার এসে ওদের টেবিলে বসে। আয়ুস আরো দুটো চায়ের অর্ডার দেয়।আয়ুস বলে টুসির অ্যাক্সিডেন্টের ঘটনা শুনেছি নিশ্চয়ই,ওর মুখে তোমাদের গল্প শুনেছি,তাই তোমাদের সঙ্গে কথা বলতে চাইছি, কিছু মনে করো না।নীতি: না দাদা, এইটুকু যদি না সম্ভব হয় তবে মানবিকতা বা বন্ধুত্ব এই শব্দগুলোর কোনো অর্থ নেই। আয়ুস: প্রলয় আমার বন্ধু, আমরা জানতে চেষ্টা করছি এই ঘটনার পেছনে কে বা কারা থাকতে পারে… উল্লাস বা ওর বন্ধুদের সম্পর্কে কিছু জানো? নীতি: ওদের সঙ্গে আমরা দূরত্ব রেখে চলতাম। উল্লাস দা প্রায়শই টুসিকে ক্লাসে আসা যাওয়ার পথে বিরক্ত করতো। তবে পড়াশোনায় খুব ভালো ছিল বলে প্রফেসরদের কিছু জানাতে ভয় করতো।টুসি বোধহয় বাড়িতে কিছু জানায় নি।আয়ুস: না, আমি কিছু জানতাম না।
লুতফার(একটু আশপাশে দেখে ): ওদের পুরো বন্ধু গ্রুপ অসভ্য ধরনের, রুবেল দা,রাউথ দা ওরা কলেজের পেছনে অনেক সময় নেশা করতো। প্রলয়: হুম, আচ্ছা কখনো টুসি বা তোমাদের গায়ে হাত দিয়ে কথা বলেছে? লুতফার: রাউথ দা একবার চেষ্টা করেছিল, মদের গন্ধ ছিল মুখে, আমি ছুটে পালিয়ে যাই। তারপর থেকে একা যেতাম না ঐদিকে। আয়ুস: তোমাদের ব্যাচের কোনো ছেলে বা অন্য কাউকে সন্দেহজনক মনে হয়েছে? নীতি একটু চুপ করে বলে আগের সপ্তাহে টুসি বাসে উঠে যাওয়ার পর আমি দাঁড়িয়ে ছিলাম বাসের অপেক্ষায়, তখন একজন মোটাসোটা লোকের সঙ্গে উল্লাস দা, রুবেল দার কথা কাটাকাটি শুনে আমি সরে দাঁড়াই, তারপর বাস এসে যায়। নীতি: এবার আমরা আসি,ক্লাস আছে। আয়ুস: ঠিক আছে এসো, সাবধানে চলাফেরা করবে। প্রলয় ক্যান্টিনের যে ছেলেটি চা দিচ্ছে, তাকে পঞ্চাশ টাকা দিয়ে আস্তে আস্তে বলে উল্লাস, রুবেল এদের চেনো। ওরা কি মদ খেত? ছেলেটি আশপাশে তাকিয়ে বলে হ্যাঁ মাঝে মাঝে সন্ধ্যার দিকে কলেজ খালি হয়ে গেলেও ওরা থাকতো। প্রলয় : হুম, তারমানে ঐ গ্রুপ এই কলেজে বিখ্যাত বা কুখ্যাত। আয়ুসের দিকে তাকিয়ে উল্লাস, রুবেল,রাউথ এই তিনজনের সম্পর্কে জানতে হবে । আয়ুস ক্যান্টিনের থেকে বেরিয়ে টুসির ফোনটা দিয়ে বলে দেখ তোর ইনভেস্টিগেশনে যদি কোনো কাজে লাগূ। প্রলয়: চিন্তা করিস না,এই সপ্তাহের মধ্যে উল্লাসের পুরো গ্রুপকে ডেকে যাতে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয় সেই চেষ্টা করবো। কলেজ থেকে বেরিয়ে আসার সময় প্রলয়ের মনে হয় কেউ যেন ওদের পিছন থেকে ফলো করছে। প্রলয়: এখন থানায় একবার যেতে হবে।
