ফাঁদ – পর্ব ১
সোমবার সকাল বেলা ঘুম থেকে উঠতে একটু দেরি হয়ে যায় প্রলয়ের,মা বেশ কয়েকবার ডাকার পর ঘুম থেকে উঠে পড়ে । বেসিনে মুখ ধুতে ধুতে মায়ের গজগজ কানে আসে, এতো বড় ছেলে এখনও ঘুম থেকে উঠতে দেরি, কবে যে বোধ বুদ্ধি হবে জানি না। প্রলয় কোনোরকমে চা শেষ করে স্নানে যায়।ভাত খেতে বসে তাড়াহুড়ো করলে তৃষা দেবি বলেন একটু সজাগ হয়ে ঘুমাতে পারিস না, তবে কি করে গোয়েন্দাগিরি করবি ? অফিসের কাজে ফাঁকি দিচ্ছিস না তো? প্রলয় হেসে ঘাড় নাড়িয়ে বলে না মা, তুমি আমাকে নিয়ে টেনশন না করে নিজের খেয়াল রাখো। বাড়ি থেকে বেরিয়ে একটা ওলা বুক করে উঠে পড়ে, সপ্তাহের প্রথম দিনে লেট হলে বস্ রাগ করবেন। সঠিক সময়ে অফিসে পৌঁছে নিশ্চিন্ত হয়। লাঞ্চের পর অফিসের কাজ মিটিয়ে ফ্যাক্টরিতে কেমিক্যাল চেকিং এর সময় আয়ুসের ফোন আসে। রিসিভ করে প্রলয়, কেমন আছিস? অনেক দিন পর ফোন করলি।আয়ুস: খুব বিপদে পড়েছি, হঠাৎ তোর কথা মাথায় আসতে ফোন করছি। প্রলয়: কি হয়েছে? আমি যদি কোন হেল্প করতে পারি নিশ্চিত করবো।আয়ুস: তুই আজকে পাঁচটা নাগাদ একবার মেডিক্যাল কলেজে আসতে পারবি? একটু দরকার ছিল, আমার বোন সকালে এডমিট হয়েছে। আমি এখন হাসপাতালে আছি,তুই এলে বিশদভাবে জানাবো।প্রলয়: অবশ্যই , আমি যতটা তাড়াতাড়ি সম্ভব পৌছাছি। ফ্যাক্টরিতে কাজ মিটিয়ে বেরিয়ে পড়ে প্রলয়, প্রায় পৌনে পাঁচটা নাগাদ মেডিক্যাল কলেজের গেটের সামনে পৌঁছে আয়ুসকে ফোন করে। মিনিট পাঁচেক পর আয়ুস এসে দাঁড়ায়।প্রলয় লক্ষ করে আয়ুসের মুখে চোখে অদ্ভুত একটা অস্থিরতা।প্রলয়: কি হয়েছে? তোকে খুব অস্থির মনে হচ্ছে। আয়ুস:আজ সকালে বোন কলেজে যাওয়ার সময় বাস থেকে নেমে, অন্যদিনের মতো বড়ো বাস রাস্তা থেকে যেখানে দুটো রাস্তা বেরিয়েছে, বাঁদিকে রাস্তা ধরে হেঁটে এগিয়ে যাওয়ার সময় অ্যাক্সিডেন্টে পায়ে ফ্র্যাকচার হয়, মাথায় অল্প চোট লাগে, স্থানীয় লোকজন হাসপাতালে ভর্তি করে খবর দেয়। আমার মনে হচ্ছে এটা কোন চক্রান্ত, সাধারণ অ্যাক্সিডেন্ট নয়। প্রলয়: এখন তো ভিজিটিং আওয়ার, তোর বোনের সঙ্গে কথা বলা যাবে? আয়ুস: হ্যাঁ চল।
প্রলয় ওয়ার্ডে পৌঁছে টুসিকে দেখে বলে কি রকম আছিস এখন? টুসি: আগের থেকে ভালো, কয়েকদিন কলেজ করতে পারবো না, সেটাই মুশকিল। প্রলয়: এখন রেস্ট নিয়ে তাড়াতাড়ি সুস্থ হয়ে উঠতে হবে। তুই আমাদের বলবি ঠিক কি ঘটেছিল? টুসি একটু চুপ করে বলে সকালে অন্যান্য দিনের মতো কলেজে যাওয়ার জন্য বাস ধরি। তারপর বাস থেকে নেমে কলেজের গলি ধরে হাঁটতে থাকি, সেই সময় হঠাৎ কি মনে হয় তাকিয়ে দেখি সামনে একটা সাইকেল দ্রুত বেগে ধেয়ে আসছে , আমি সাইডে ঘুরে সরে যেতে চেষ্টা করি কিন্তু ঠিক সেই মুহূর্তে পিছনের থেকে একটা বাইক আসছিল গতি নিয়ন্ত্রণ না করতে পেরে ধাক্কা দেয়, আমি ছিটকে রাস্তার ধারে পড়ি, মাথায় ও পায়ে প্রচন্ড ব্যাথা অনুভব করি,একই সঙ্গে পিঠে ও গলায় প্রচন্ড জ্বালা করতে থাকে । আমি পড়ে গেছি দেখে বাইক আরোহী এবং স্থানীয় লোকজন হাসপাতালে নিয়ে আসে এবং ঐ বাইক আরোহী বাড়িতে ফোন করে। প্রলয় লক্ষ করে টুসির গলায় ছোট ছোট ফোসকা পড়ে আছে। প্রলয়: তোর গলায়ও দাগগুলো আজ হয়েছে? টুসি: হ্যাঁ, প্রচন্ড ব্যাথা করছে। পিঠে ও হয়েছে। প্রলয় এগিয়ে গিয়ে ভালো করে দেখে বলে অ্যাসিডের ছিটে।সাইকেল আরোহী সম্ভবত অ্যাসিড বাল্ব ধরনের কিছু ছুঁড়ে মারে কিন্তু টুসি মুখ সরিয়ে রাস্তায় সাইডে যাওয়ায় কিছুটা অংশ টুসির পিঠে গলায় ছিটকে লাগে । আয়ুস: আমার ও তাই মনে হচ্ছে। টুসি: কোনো কাঁচের টুকরো ছিল কি মনে নেই তবে অসম্ভব জ্বলছিল ঘাড় পিঠ। মাথায়, পায়ে সব মিলিয়ে অসম্ভব যন্ত্রণা।
প্রলয়: তোর কারোর সঙ্গে কোনো শত্রুতা,মানে ঝগড়া মনোমালিন্য হয়েছিল?বা অন্যরকম কিছু, ভালো করে ভেবে বল। টুসি কিছুটা সময় চুপ করে ভাবে তারপর আস্তে আস্তে বলে উল্লাস বলে একটি ছেলে প্রায় জ্বালাতন করতো, তারপর সপ্তাহ দুয়েক আগে আমায় প্রপোজ করে, আমি স্পষ্ট ভাবে বলেছিলাম কলেজে পড়াশোনা করতে এসেছি, তখন আমার হাত চেপে ধরলে আমি রাগে চড় কষিয়ে দিয়ে বলি আর আমাকে জ্বালাতন করে যদি স্যারকে বলে দেবো। তখন আশেপাশে ওর দু তিনজন বন্ধু ব্যাপারটা নিয়ে হাসাহাসি করতে থাকে, কিন্তু আমি ওখানের থেকে চলে আসি। তারপর কয়েকদিন ওকে দেখতে পাইনি তাই বাড়িতে কিছু জানাই নি। প্রলয়: ওর ফোন নম্বর জানিস? টুসি: না । প্রলয়:ঠিক আছে তুই এখন রেস্ট নিয়ে সুস্থ হয়ে ওঠ,অপরাধী নিশ্চিত ধরা পড়বে।
