ফাঁদ – পর্ব ৫
থানায় পৌঁছে কিছু সময় অপেক্ষার পর অফিসার ডেকে নেন। প্রলয় বলে স্যার ঐ গ্রুপের সঙ্গে কোনো মাদক চক্রের যোগসাজশ থাকতে পারে। টুসির বান্ধবী লুৎফার ঘটনা ঘটার কিছুদিন আগে বচসা শোনে একজন গুন্ডা ধরনের লোকের সঙ্গে। আপনি যদি উল্লাস, রুবেল,রাউথ ও ওদের বন্ধুদের ডেকে পাঠান তবে খুব ভালো হয়। উল্লাসের, রুবেলের ফোনের কল রেকর্ড যদি পাওয়া যেত তবে তদন্তের সুবিধা হবে। অফিসার: আমারো একই মত, ঠিক আছে ধীরেন বাবু প্রভাবশালী মানুষ এখানকার বড়ো ব্যবসায়ী, তবে যেহেতু জিনা, যে আত্মহত্যা করেছে সে একই উল্লাসের ব্যাচের তাই আমাদের পক্ষে ওদের এখানে নিয়ে আসতে সুবিধা হবে। তবে জিনা মেয়েটি নিয়মিত ডিপ্রেশনের ওষুধ খেত, সেক্ষেত্রে আত্মহত্যা খুব অস্বাভাবিক কিছু নয়। প্রলয়: কিন্তু কোন ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে আত্মহত্যা করেছে, ঘটনাটি কি সেটাই জানতে হবে।
প্রলয়ের সামনেই ধীরেন বাবুকে ফোন করেন অফিসার, ধীরেন বাবু যখন জানান উল্লাস বীরভূমের দেশের বাড়িতে আছে, তখন উনি ইমিডিয়েট এখানে আনার কথা বলেন। এরপর রুবেল ও রাউথকে আগামীকাল বিকালে থানায় আসতে বলেন, এবং কোনোভাবেই শহর ছেড়ে যেন না যায়। প্রলয় অফিসারকে বলেন ধীরেন বাবুর ফোন ট্যাপ করুন যাতে কোনোপ্রকার চালাকি করতে না পারে। অফিসার হ্যাঁ ওনার লোহার ব্যবসা, অনেক সময় অনেক অপরাধী এই ব্যবসায় টাকা নিবেশ করে থাকে।একইসাথে ঐ কলেজের থেকে একটু দূরে একটা মদের ঠেক থেকে চারজনকে গ্রেপ্তার করেছি। এবার দেখা যাক ওদের থেকে কোনো সূত্র বেরিয়ে আসতেও পারে।
মিঃ অধিকারী: যদি সম্ভব হয় আপনারা আগামীকাল বিকালের দিকে আসতে পারেন। থানা থেকে বেরিয়ে প্রলয়,আয়ুস বাড়ির দিকে রওনা দেয়। আয়ুস প্রলয়কে বাড়ির সামনে ছেড়ে দিয়ে টুসির ফোনটা দিয়ে বলে দেখ যদি কোন তথ্য বেরিয়ে আসে। প্রলয়: চিন্তা করিস না,অপরাধী কোনো না কোনো ভুল নিশ্চিত করবে। বাড়িতে ফিরে ফ্রেশ হয়ে নিয়ে রাতের খাবার খেয়ে নিজের ঘরে বসে টুসির মোবাইল অন করে হোয়াটস অ্যাপ, ম্যাসেঞ্জার চেক করতে থাকে। উল্লাসের প্রচুর ম্যাসেজ, প্রেম,রাগ, অভিমান সব ধরনের ম্যাসেজ, টুসি খুব কম উত্তর দিয়েছে। ম্যাসেজগুলো পড়তে থাকে প্রলয়, একটা ম্যাসেজে চোখ আটকে যায়, উল্লাস লিখেছে আমার মা বেঁচে থাকলে আমি হয়তো এইরকম বদমেজাজি হতাম না, আমার মায়ের খুব ইচ্ছে ছিল আমি মাস্টার্স করি। টুসি লিখেছে আমার মা অনেক আশা নিয়ে কলেজে ভর্তি করেছে, আমি আমার পরিবারের বিরুদ্ধে কোনোদিন যেতে পারবো না, তুমি চেষ্টা করো উনি যা চেয়েছিলেন পূর্ণ করতে, আমাকে বিরক্ত করা বন্ধ করো। তারপর কয়েকদিন ম্যাসেজ নেই, তারপর আবার ম্যাসেজ। প্রলয় বারান্দায় গিয়ে ভাবতে থাকে, তারমানে ধীরেন বাবু আবার বিয়ে করেছেন, সেদিনের ঐ ভদ্রমহিলা উল্লাসের সৎমা,তাই হয়তো উল্লাস বন্ধু বান্ধব নিয়ে সময় কাটাতো। বড়লোকের বেগড়ানো ছেলে উল্লাস, কিন্তু ম্যাসেজের ধরন দেখে মনে হচ্ছে না অ্যাসিড বাল্ব ছোঁড়ায় উল্লাসের কোনো হাত আছে,ধীরেন বাবুর পরিবারের সদস্যদের নিয়ে আরেকটু খোঁজ নেওয়া দরকার।কি মনে হয় মিঃ অধিকারীকে ফোন করে, দুবার ডায়াল হয়ে থেমে যায়। মিনিট পাঁচেক পর উনি ফোন করে বলেন, একটু ব্যস্ত ছিলাম বলুন, প্রলয়: উল্লাসের বাবার আগের স্ত্রী গত হয়েছেন, উনি আবার বিয়ে করেছেন, ওনার স্ত্রীর ফোনের কল রেকর্ড জরুরী, এবং এই সম্পর্কে যেন কেউ টের না পায়। অফিসার: অবশ্যই, আমি চেষ্টা করবো। আগামীকাল দেখা হচ্ছে।
