ফাঁদ – পর্ব ২
হাসপাতালের ওয়ার্ড থেকে বেরিয়ে আয়ুসকে বলে টুসির কলেজে গিয়ে খোঁজ খবর করতে হবে।আয়ুস: ঠিক আছে, আগামীকাল যেতে পারবি? প্রলয়: অফিসের কাজ যতটা তাড়াতাড়ি সম্ভব মিটিয়ে লাঞ্চের সময় বেরিয়ে পড়বো। কথা অনুযায়ী পরদিন লাঞ্চের পর প্রলয় অফিসের থেকে বেরিয়ে আয়ুসকে ফোন করে ,আয়ুস: হাসপাতাল থেকে বেরিয়ে পড়েছি,এক্সাইডের মোড়ে চলে আয় একসাথে যাবো। প্রলয় এক্সাইডে পৌঁছে দেখে আয়ুস বাইক নিয়ে দাঁড়িয়ে আছে। প্রলয়: টুসি এখন কেমন আছে? আয়ুস: একটু জ্বর আছে, তবে মাথার চোট খুব জোরালো হয় নি এটাই ভাগ্য ভালো। প্রলয়: আমরা কলেজে পৌঁছে প্রিন্সিপাল, ওর বন্ধুদের সঙ্গে কথা বলবো। আধঘন্টার মধ্যে কলেজে পৌঁছে প্রিন্সিপাল এর সঙ্গে দেখা করে টুসির অ্যাক্সিডেন্টের ঘটনা জানাতে, প্রিন্সিপাল বলেন আমার দিক থেকে পূর্ণ সহযোগিতা পাবে,আজ সকালে পুলিশ অফিসার ফোন করেছিলেন,তাই আমি আগে থেকেই অবগত। ছাত্র ছাত্রীদের নিরাপত্তা নিয়ে সত্যিই আমি চিন্তিত।আয়ুস: উল্লাস বলে ছেলেটির ফোন নম্বর ও ঠিকানা জানতে চাই,এখনি আমি পুলিশে লিখিত অভিযোগ করিনি, তবে আমার বোনের মুখে অ্যাসিড বাল্ব মারার চেষ্টা করা হয়েছে। প্রিন্সিপাল:কি বলবো বুঝতে পারছি না,ঐ ছেলেটির ফোন নম্বর জীতেশ বাবুকে দিতে বলছি। যদি উল্লাস কোনভাবে জড়িত থাকে তবে সাসপেন্ড করা হবে। জীতেশবাবু স্টুডেন্টস রেজিস্ট্রার থেকে ঠিকানা, মোবাইল নাম্বার দিয়ে বলেন বড়োলোকের বেয়াদপ ছেলে কিন্তু এইরকম ঘটনা ঘটাতে পারে বলে মনে হচ্ছে না। প্রলয়: দেখা যাক,সত্য উদঘাটনের জন্যই এখানে এসেছি। এরপর প্রলয়,আয়ুস টুসির সহপাঠীদের সঙ্গে কথা বলতে বলতে জানতে পারে উল্লাস বলে ছেলেটি এবং ওর বন্ধু রুবেল মেয়েদের টোন টিটকারী করতো। প্রলয় উল্লাসের ফোনে ফোন করলে স্যুইচড অফ আসে। প্রলয় আয়ুসকে বলে যেখানে ঘটনা ঘটেছে প্রথমে সেখানে তারপর উল্লাসের বাড়িতে একবার ঘুরে আসি চল। সামনের গলিতে গিয়ে রাস্তায় ভালো করে পর্যবেক্ষণ করতে থাকে প্রলয়, কিন্তু কাঁচের টুকরো দেখতে পায় না, পকেট থেকে দুটো লিটমাস পেপার বার করে টুকরো টুকরো করে কেটে রাস্তায় ছড়িয়ে দিতে কিছু লিটমাস রঙ পরিবর্তন করে, প্রলয় আয়ুসকে বলে দেখ কিছু টুকরোর রঙ পরিবর্তন হয়েছে, তারমানে নিছক অ্যাক্সিডেন্ট নয়। আয়ুস: হ্যাঁ, আমার আগেই সন্দেহ হয়েছিল বলেই তোকে ফোন করেছিলাম। প্রলয়: হুম,চল এখন উল্লাসের বাড়িতে ঘুরে আসি তারপর লালবাজার থানার একজন ইন্সপেক্টর এর সঙ্গে পরিচয় আছে ওনাকে ফোন করে জানাবো। আয়ুসের বাইক থাকায় খিদিরপুরে ঠিকানা অনুযায়ী খুঁজে পেতে অসুবিধা হয় না।বেশ বড়সড় বাড়ি, দারোয়ান প্রথমে ঢুকতে না দিলেও পুলিশের থেকে ঠিকানা পেয়ে দেখা করতে আসছি বলাতে ওদের বাড়ির লাগোয়া অফিস ঘরে নিয়ে যায়। উল্লাসের বাবা ঘটনা শুনে বলেন খুব মর্মান্তিক ঘটনা।আয়ুস বলে উল্লাস টুসিকে বিরক্ত করতো এবং ফোন স্যুইচড অফ আসছে কেন প্রশ্ন করলে ধীরেন বাবু বলেন কি বলবো তোমাদের অনেকেই নানা ধরনের অভিযোগ নিয়ে আসছিল, পড়াশোনায় ভালো ছিল কিছু বন্ধু বান্ধবের পাল্লায় পড়ে বিগড়ে যাচ্ছে বলে আগের সপ্তাহে আমি রেগে ওকে বীরভূমের দেশের বাড়িতে কিছুদিনের জন্য পাঠিয়ে দিয়েছি। ফোন হয়তো স্যুইচড অফ হয়েছে কোনো কারণে। কিছু সময় কথা বলে বেরিয়ে আসে ওরা। ফেরার পথে আয়ুস বলে তোর কি মনে হয় ধীরেন বাবু সত্যি বলছেন। প্রলয়: অর্ধসত্য হতে পারে। আমাদের টুসির সহপাঠীদের সঙ্গে আরো আলোচনা করা দরকার।টুসির ফোন থেকে ওর বন্ধুদের নম্বর আমাকে পাঠাবি, যাদের সঙ্গে বেশি কথা হতো।আয়ুস: ঠিক আছে আগামীকাল হাসপাতালে পৌঁছে তোকে পাঠিয়ে দেবো। প্রলয়: একবার পুলিশকে জানিয়ে রাখা দরকার,কারণ ভবিষ্যতে কোনো বিপদ না ঘটে। প্রলয়ের পরিচিত মিঃ গুহকে ফোন করে সম্পূর্ণ ঘটনা জানাতে উনি বলেন ঠিক আছে আমি কলেজ সংলগ্ন থানায় ইনফর্ম করছি, চিন্তা করো না অপরাধী নিশ্চিত ধরা পড়বে। তোমরা একটু অ্যালার্ট থেকো, টুসির থেকে আর কিছু তথ্য বেরিয়ে আসে কি চেষ্টা করো।
