হরণ
দুপুর বারোটা হবে। হঠাৎ দরজায় কড়া নাড়ার শব্দ। ক’দিন ধরে বাতের ব্যথায় কাবু এ বাড়ির ষাটোর্দ্ধ মালকিন মায়া দেবী।
কড়া নাড়বার শব্দ শুনে মায়া দেবী বললেন “বিজলী দেখ তো এই সময় কে এলো?”
হ্যাঁ মাসি আমি দেখছি।
বিজলী দরজা খুলতেই দেখলো একটি ভিখারি দাঁড়িয়ে।
বিজলীকে দেখেই বলে উঠলো “মা ঠাকুরণ, ভিক্ষাং দেহী।”
শুনে বিজলী বললো একটু দাঁড়াও নিয়ে আসছি। বলে দরজাটা ভেতর থেকে বন্ধ করে দিলো। ভিক্ষা নিয়ে এসে আবার দরজা খুললো। দেখলো ভিখারিটি দাঁড়িয়ে আছে।
দরজার চৌকাঠে দাঁড়িয়ে বিজলী ভিক্ষা দিতে গেলো।
ঠিক তখনই ভিখারিটি বললো “বাইরে এসে দাও মা ঠাকুরণ। আমি চৌকাঠে দাঁড়িয়ে থাকা লোকের হাত থেকে ভিক্ষা নিই না।”
বিজলী যারপরনাই চৌকাঠ থেকে নেমে বাইরে এসে ভিক্ষা দিতে গেল।
হঠাৎ অট্টহাসির শব্দে চমকে ভিখারির দিকে তাকালো বিজলী।
ভিখারি বলে উঠলো” হা হা হা আমি ভিখারি নই আমি রাবন। তোমাকে হরণ করতে এসেছি।”
“হে হে হে আমিও সীতা নই। আমি এ বাড়ির সর্বক্ষণের কাজের লোক বিজলী।”
“এ্যাঁ তুমি কাজের লোক। তাহলে তো তোমাকে আগেই হরণ করতে হবে। এর আগের বার সীতাকে হরণ করে মাইরি বলছি বহুত কিচাইন হয়ে গেছিল। এবার তাই আটঘাট বেঁধেই মাঠে নেমেছি। “
“কেন কেন কি কিচাইন হয়েছিল গো?”
“আর বলো না, সেই লঙ্কাকান্ডর কথা শোনো নি। রাম রাবনের যুদ্ধের কথা।”
“ও হ্যাঁ এবার মনে পড়েছে। মাইরি হেব্বি বাওয়াল হয়েছিল কিন্তু ।”
“সেটাই তো বলছি গো। আমি তো মন্দোদরী ছাড়া কাউকেই স্ত্রী হিসেবে মানিনা। আর আমি ওকে খুব ভালোবাসি। তবে বেশ কিছুদিন যাবত মন্দোদরী হাঁটাচলা করতে পারছে না। ওর হাটুর ব্যথাটা আবার চাগাড় দিয়ে উঠেছে। এদিকে আমার খাওয়ার খুব কষ্ট হচ্ছে। বাড়িটাও ঝেড়েঝুড়ে রাখতে পারছে না । খুব নোংরা হয়ে গেছে বাড়িটা। তাই তোমাকেই হরণ করে নিয়ে যাচ্ছি। এখন থেকে তুমি আমার বাড়ির কাজকর্মগুলো করবে। হা হা হা।”
সেই কথা শুনে বিজলী…………..।।
