তপ্ত দহন তাপে মাঠ ঘাট জ্বলে পুড়ে খাক
হৃদয়ে বাজে সুর তাল লয় হীন গান,
বিপদ ঘন্টা বিরামহীন বেজে চলে অদূরে;
বেকার কৃষক অশ্রু ঝরায় অবিরাম।
জলদের আশায় বৃথাই চায় আকাশ পানে
নির্মম নিষ্ঠুরতায় তারে, দেখতে না পায়।
বলাকার দল ধেয়ে চলে মেঘের সন্ধানে ,
নাই ভয় নাই ভয়–দলছুট এসে কানে কানে কয় ।
বারিদ আশায় অনাহারে ক্লিষ্ট দেহ বসে,
মহাজনের দেনা শোধের ভাবনা মাথায় !
দীর্ণঘরে বসে অপেক্ষায় বারোটি করুণ মুখ–
কাতর চাহনিতে আতঙ্কের ছায়া ঘনায়।
মেহনতি কৃষক হাত গুটিয়ে বসে নিরুপায় !
প্রকৃতির রোষানলে উষ্ণায়নের ধারা অব্যাহত,
গরিবের কান্না পৌঁছায়না উচ্চবিত্তের কানে,
বিশ্ববাসী জ্ঞান চক্ষু উম্মিলনে হবে কি সংযত?
প্রকৃতি ধ্বংসে লাভের সিন্দুক ভরে অনবরত
নিস্ফল প্রতিবাদে কায়েমী স্বার্থের উল্লাস ,
ভাতের বদলে লড়াই যাদের প্রতিনিয়ত ;
ক্ষুন্নিবৃত্তির তাগিদে দেহ বিকিকিনি সর্বনাশ!
বেহিসেবি চোখের জলের ধারাবর্ষণ অনর্গল
খরা ক্লিষ্ট দুনিয়ায় কত শিশুর হৃদস্পন্দন স্তব্ধ।
খাদ্যের অভাবে পিতামাতা বেচে আদরের ধন !
বিশ্বায়নে রূপ বদলে, পৃথিবীর চোখ অন্ধ।
এসো হে প্রকৃতি এসো,শস্য শ্যামল নির্মল রূপে
করো নিরসন দেনা দায়গ্রস্ত কৃষকের আত্মহনন;
কুচক্রী দালালের লোভের গ্রাসে বিশ্বপরিবেশ –
জাগুক শুদ্ধ চিন্তনে বিশ্ব মানবের বোধ,সুচেতন।
