ভক্তের ভগবান
ভক্ত মন্ডল এই পাড়ার একজন বাসিন্দা। উনি মাছের ব্যবসা করেন। এই ব্যবসা করে বেশ ভালো অর্থের মালিক হয়েছেন। ওনার স্ত্রী পুরোপুরি গৃহকর্ত্রী। মাছের ব্যবসা করেন বলে এ বাড়িতে মাছের কোন অভাব নেই। প্রতিদিনই কোন না কোন মাছ পাতে থাকবেই। বরং মাংস ডিমটা কালেভদ্রে বা শখ করে খাওয়া হয়।
ভক্ত মন্ডলের গায়ের রং দেখলে কয়লাও লজ্জায় মুখ লুকাবে। মুখ ভর্তি বসন্তের দাগ। ভূগোলোকের পাহাড় পর্বত নদী সাগর বেলাভূমি সব দেখা যাবে ওনার মুখমন্ডলে । এহেন লোকের স্ত্রী কিন্তু দেখতে বেশ ভালো এবং এক নজরে চোখে পড়বে। মুখশ্রীতে একটা ঘরোয়া সৌন্দর্য চোখকে আকর্ষন করবেই করবে।
সংসারেও তাই। দুজনেই দুজনের বিপরীত মেরুতে অবস্থান করেন। তার মানে সবসময় থালা বাটিতে টুং টাং শব্দ হতেই থাকে। বিশেষতঃ ভক্ত যতক্ষণ বাড়িতে থাকে।
রমেন সেদিন অফিস থেকে ফিরে এসে ফ্রেশ ট্রেশ হয়ে চা খাবার জন্য টেবিলে এসে বসেছে। ওর স্ত্রী রুমা চা আর বিস্কুট নিয়ে এলো। রুমা নিজের জন্যও চা নিয়ে এসেছে। দুজনে একসাথে টেবিলে বসে চা খাচ্ছে।
এমন সময় রুমা বললো এই শুনেছ তোমার বন্ধু ভক্তদার বৌ ও পাড়ার ভগবান দত্তের সাথে পালিয়ে গেছে। সত্যি কি যে করে ওরা। এই বয়সে এইসব জিনিস কি মানায়? ছি ছি কি ঘেন্না! কি ঘেন্না!
হ্যাঁ শুনেছি। সকালে অফিস যাবার সময়ই শুনেছি। কি আর বলবো বলো। বাংলা প্রবাদেই তো আছে ভক্তের বোঝা ভগবান নিজের কাঁধে তুলে বয়ে বেড়ান।
এই শুনে রুমা……………………।।
