শাঁখ
দত্ত বাড়িতে আজ পূজার আয়োজন করা হয়েছে। ঐ আর কি বাৎসরিক সত্যনারায়ণ পূজা। দত্তমশাই বাজার থেকে ফর্দ মেনে খুঁটিয়ে খুঁটিয়ে সমস্ত জিনিস কিনে এনেছেন। ফল মিষ্টি আনাজপাতি কোন কিছুই বাদ রাখেন নি।
পাড়ায় প্রতিটি বাড়িতেই নিমন্ত্রন করে এসেছেন দত্ত গিন্নি। সকাল সকাল উঠে দত্ত গিন্নি স্নান সেরে নিয়েছেন।
সকাল আটটা সাড়ে আটটার দিকে রান্নার লোক চলে এসেছে। দত্ত বাড়ির প্রায় সব পূজাতেই ভোগ দিয়ে পূজা হয়। ভোগের প্রসাদ রান্না করেন স্বয়ং দত্ত গিন্নি।
সকাল বেলাতেই স্নান সেরে একেবারে সাত্ত্বিক ভাবে ভোগের রান্না করতে বসে গেছেন।
রান্না হয়ে যাবার পর পূজার বাসন কোশন ধুয়ে মুছে সাজিয়ে নিয়ে বসলেন পূজার যোগাড় যন্ত্র করতে।
এগারোটার দিকে পুরোহিত মশাই এলেন। পূজায় বসলেন। আসন শুদ্ধি, আচমন করে পূজায় বসলেন।
পূজা চলছে। কিন্তু পুরোহিত মশাই আরতি করছেন কিন্তু শরীর নাচাচ্ছেন না, যা উনি সবসময় করে থাকেন। এমনকি শাঁখটাও বাজাচ্ছেন না। শাঁখ বাজাবার সময় এলেই দত্ত গিন্নিকে ইশারা করছেন। দত্ত গিন্নি শাঁখটা বাজাচ্ছেন।
পূজা শেষ হলে দত্ত গিন্নি ওনাকে চা খেতে বললেন। তখনই পুরোহিত মশাই বললেন ” না বৌদি আমি চা খাবো না। আজ আপনাদের বাড়ির পূজা না হলে আমি আসতাম না। খুব ভয়ে ভয়ে পূজাটা করেছি।”
“কেন কি হয়েছে আপনার?”
” আর বলবেন না বৌদি কয়েকদিন থেকেই পেটটা গড়বড় করছিল। গতকাল সকাল থেকেই আমার বাঁ হাত আর শুকোচ্ছিল না। বাধ্য হয়ে ডাক্তারের কাছে গেলাম। উনি ওষুধ দিয়েছেন আর বলে দিয়েছেন এই ওষুধে ঠিক হয়ে যাবেন তবে এর মধ্যে যদি কোথাও পূজা করেন তাহলে নেচে নেচে আরতি করবেন না বা জোরে শাঁখে ফুঁ দেবেন না। আসলে ডাক্তারবাবুর বাড়ির পূজাও তো আমি করি। উনি জানেন আমি কিভাবে পূজা করি। তাই আর কি আজ আরতীর সময় নাচতে পারলাম না বা শাঁখ বাজাতে পারলাম না।”
এই শুনে দত্ত গিন্নি……………..।।
