“তুমি কেমন আছো” একটি শুধু লিপি,
মনের সব ভাব প্রকাশের ছোট্ট এই চিঠি।
অজানা আতঙ্কে দীর্ঘ প্রতীক্ষায় যদি মেলে এই বার্তা……
সব অভিমান ভুলে অন্তরের জমাট বাঁধা রক্ত কনিকা উত্তেজনার পারদ প্রশমনে
এক নিমেষে রক্তিমাভায়
স্ফুরিত হয়ে আনন্দাশ্রু কপোলে ঝরায়।
কার্গিল রণাঙ্গনে নিহত সৈনিকের পকেটে
পড়ে থাকা সেই ভালোবাসার স্মারক প্রেমপত্র,
মিষ্টি প্রেমের টাটকা সুবাসে স্বহস্তে প্রিয়ার লিখন স্বতন্ত্র।
হয়নি তখনও পড়া,অতর্কিত শত্রুর আক্রমন,
রয়ে যায় যা মুখবন্ধ খামে আজীবন।
কত সুখ দুঃখের স্মৃতি,কত না বলা গোপন কথা,
ছোট একটি পত্রে হয়ে যায় সহজেই বলা।
মনোবিচ্ছুরণ প্রকাশের দর্পণ এই পত্র লিখন,
হারিয়ে যাওয়া মরচে ধরা সেই লাল ডাক বাক্সের আড়ালে
কখন কি ভাবে যেন গেল ফুরিয়ে ।
রানারের জীবন রয়ে যায় শুধু কথায় ও গানে,
কথা যত হয় আজ আধুনিক সমাজে
ছোট্ট এক মুঠোবন্দি ফোনে।
ডাক পিয়নের অপেক্ষায় থাকা মনোভূমি,
গেছে চিরতরে ভেঙে।
কাগজ কালি শুকিয়ে আজ কোথায় রয়েছে লুকিয়ে,
আর নয় এখন কাগজ কলম, কালি,
হারিয়ে গেছে প্রেমপত্রের নীল খামগুলি।
আঙুলের আলতো ছোঁয়ায় এক ফোনেতেই কথা…
নেই যাতে কোন শিহরণ, নেই রোমাঞ্চকতা।
মোবাইল টেক্সটের সব ভাষা কত সহজেই যায় ডিলিট হয়ে।
হলুদ রঙা বিবর্ণ ঝরঝরে প্রথম প্রেমপত্র খানা,
থাকেনা শাড়ির ভাঁজে সযত্নে লুকিয়ে রাখা।
সবই আজ তাৎক্ষণিক, এই আছে এই নেই
ভেঙে গেছে সব মনের গভীরতা।
