সেদিন সকাল থেকে গোটা আকাশ মেঘে ঢাকা।
এতটাই মেঘ পূর্ণ আকাশ যে বেলা বারোটার সময়,
সন্ধ্যা হয়ে গেছে ভেবে পাখিরা বাসায় ফিরছিল।
রাতে যে আলোগুলো জ্বলে ওঠে,
সব আলোগুলো চারিদিকে জ্বলে উঠেছিল।
কেউ কেউ সত্যিই ভাবতে শুরু করেছিল,
আজ আর সূর্যের মুখ দেখা যাবে না।
কারণ যে সময় সূর্যের প্রখর আলোয় ভুবন ভরে ওঠে,
সেই সময় সূর্য ঘন কালো মেঘে ঢাকা।
তারপর হঠাৎই এল ঝমঝমিয়ে বৃষ্টি।
সময় যত যেতে লাগল বৃষ্টির পরিমাণ ক্রমশই বাড়তে লাগল।
শুরু হল মেঘ ভাঙ্গা বৃষ্টি।
এত বৃষ্টি যে মানুষ এর আগে কখনো দেখেনি।
সকলে বলাবলি করতে লাগলো আজ এমন কেন হচ্ছে,
তাহলে আজ কি কিছু ঘটতে চলেছে ?
হ্যাঁ সেই দিন কিছু ঘটেছিল।
কিছুক্ষণের মধ্যেই আকাশে সূর্যের আলোর আভা দেখা গেল।
আস্তে আস্তে গোটা আকাশ আবার নীল হয়ে গেল।
সূর্য আবার তার প্রখর কিরণে ভুবনকে করল আলোকিত।
পাখিরা নব আনন্দে আকাশে উড়তে লাগল।
পাখিদের মুখরিত কলতানে আকাশ বাতাস ভরে উঠল।
গাছেরাও যেন পেল নব প্রাণ।
মানুষেরও মন থেকে কাটল দুশ্চিন্তা।
মানুষ বুঝতে পারল যে, আকাশ
যতই ঘন কালো মেঘে ঢাকা থাকুক,
বৃষ্টি পড়ে সব কালিমা মুছে দিতে।
সেইদিন সূর্যও বৃষ্টিকে দিল ধন্যবাদ।
যেমন দারিদ্রতার ঘোর অন্ধকার কাটাতে পারে অর্থ তেমন।
বৃষ্টিকে পাব, অর্থকে পাব কিন্তু বিবেককে কোথায় পাব ?
আজ যে মানুষের জীবন ঘোর অন্ধকারে আচ্ছন্ন।
কিভাবে হবে তা দূর?
কোথায় পাব একটি বিবেকবান ছেলে ?
যে হবে নির্ভীক, সরল।
যার মধ্যে থাকবে মনুষ্যত্ব বলে কিছু।
কিন্তু চারিদিকে বিবেকহীন ভীরু কাপুরুষদের এত ভিড় যে,
কোথায় খুঁজব সেই ছেলেটাকে ?
তার আসার সময় কি এখনও হয়নি ?
এখনও কি অন্ধকার ততটা গাঢ় হয়নি,
যাতে তার আসার পদধ্বনি শোনা যাবে।
সে একবার বুক চিতিয়ে দাঁড়িয়ে অন্যায়ের বিরুদ্ধে দৃঢ় কন্ঠে বলে উঠুক “সাবধান, আমি মেঘ ভাঙ্গা বৃষ্টি ।”
