Skip to content

Banglasahitya.net

Horizontal Ticker
বাঙালির গ্রন্থাগারে আপনাদের সকলকে জানাই স্বাগত
"আসুন শুরু করি সবাই মিলে একসাথে লেখা, যাতে সবার মনের মাঝে একটা নতুন দাগ কেটে যায় আজকের বাংলা"
কোনো লেখক বা লেখিকা যদি তাদের লেখা কোন গল্প, কবিতা, প্রবন্ধ বা উপন্যাস আমাদের এই ওয়েবসাইট-এ আপলোড করতে চান তাহলে আপনার লেখা আপলোড করার জন্য ওয়েবসাইটের "যোগাযোগ" পেজ টি ওপেন করুন।
Home » মিলেমিশে সংসার || Rana Chatterjee

মিলেমিশে সংসার || Rana Chatterjee

কি হলো বাবু? পড়তে বসে শুধু অন্যমনস্ক হচ্ছ যে তুমি!রঞ্জনা জানে তার ছেলেটা বড্ড ভাবুক। মাঝে মাঝে  হাঁক না দিলে কোন মাঠ ঘাট তেপান্তর পেরিয়ে আকাশের দিকে হাঁ করে সময় পার করবে। তুমি বকবে না তো মা, তোমায় একটা কথা বলব?

সকালের ব্যস্ততায় রান্নায় মন দিয়েছিল রঞ্জনা।সব রেডি করে তবে তার নিজের অফিস যাওয়া। ইশারায় সন্তানকে সম্মতি দিতেই ভোম্বল মাকে জড়িয়ে আদর খেয়ে বললো আচ্ছা মা সেই কোন ভোরে উঠে এত কাজ সেরে রান্না চাপাও,ঠাকুর ঘর পরিষ্কার আরও কত কি ! মায়েদেরই এত দায়িত্ব কেন গো মা? কি আর উত্তর দেবে রঞ্জনা! ভোম্বলের চুল গুলো এলোমেলো করে গাল টিপে বললো এখন তো পড়াশোনা করো,রাতে বুঝিয়ে বলবো কেমন।

মাঝরাতে হঠাৎ কাঁপুনি দিয়ে জ্বর এলো রঞ্জনার। আজ অফিস থেকে ফেরার সময় আচমকা স্বস্তির বৃষ্টি এমন ভিজিয়ে দিলো ,তবু তার  ইচ্ছা হচ্ছিল না কোথাও দাঁড়ায়! স্বাভাবিক ভাবে বাড়ি ফিরেই  শুরু হলো হাঁচি,রঞ্জনার। অফিস থেকে স্বামী প্রাঞ্জল ফিরে গেছে দেখে জলদি রান্নাঘরে চায়ের জল চাপাতে গেলো। পাশের ঘরে শ্বশুর মশাই কিছু খাবেন কিনা জানতে গিয়ে দেখলো তিনি অলরেডি খেয়েছেন,এমনকি চাও।ভারী অবাক কান্ড তো নিজেকে বলে বাথরুমে ফ্রেস হতে ঢুকলো রঞ্জনা।ড্রেস চেঞ্জ করে ঠাকুর ঘরে গিয়ে আবার চমক!প্রদীপ,ধুপ জ্বলছে যেটা তার প্রতিদিনের কাজ।

বিস্ময়ে ঘোর কাটছে না রঞ্জনার।এরপর সবথেকে বড় একটা চমক অপেক্ষা করছিল বোধহয়।মিটিমিটি হাসি নিয়ে প্রাঞ্জল আর ভোম্বল দুজনকেই দেখে হেসে ফেললো রঞ্জনা। এ কি কান্ড তোদের!!রঞ্জনা দেখছে একটা ট্রেতে
বেশ কিছু পকোড়া আর দুই কাপ চা নিয়ে প্রাঞ্জল তাকে অভ্যর্থনা জানাচ্ছে!আনন্দে চোখে জল চলে এলো রঞ্জনার।এতকাল এভাবে কেউ সহযোগিতার হাত সংসার জীবনে বাড়িয়ে তো দেয় নি!এই যা,তোরা এবার কি থামবি? কি সব শুরু করেছিস বলতো,আমার তো রীতিমত লজ্জা করছে!

কানে ফিসফিস করে এবার ভোম্বল মাকে বললো,মা সকালে যে প্রশ্নটা করেছিলাম আর ওটার উত্তর লাগবে না। তোমায় একা এতকিছু কাজ করতে হবে না মা,দেখে নিও আমরা সবাই মিলেমিশে কাজ ভাগ করে নেবো।এবার রঞ্জনা রীতিমতো চোখ পাকিয়ে বললো বড্ড পাকা হয়েছ,এবারও ক্লাসে প্রথম হতে গেলে বাড়ির কাজ নয়,আরও বেশি করে পড়তে হবে ।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *