আমি দুর্গা, আমি দশভূজা
বস্তির মেয়ে বলে, ভেবো না সরল সোজা।
দুর্বাসম কোমল আমি, আমি ভুবনেশ্বরী
বজ্রসম কঠিন আমি, আমি প্রলয়ঙ্করী।
আমি দশ মহাবিদ্যায় পারদর্শী
রাতের দানব দমনকারী ভয়াল ঐশী।
আমি অনাথ শিশুর স্নেহের মাতা,
আর্ত ক্ষুধার্ত মানুষের ত্রাতা।
এক হাতে চোখের জলমুছি, আর হাতে ধরি টুঁটি
মাদার-কালির মিলনে, অদ্ভুত এক মহা জুটি।
অন্যায় যেখানে মাথাচাড়া দেয়, আমি করি চূর্ণী
বজ্রের মতো আঘাত হানি, আমি ভস্ম-বহ্নি।
নিষ্ঠুর শাসকের ত্রাস আমি, শোষিতের আমি বন্ধু,
ধুয়ে দিই সব মহাপ্লাবনে, আমি ভয়ংকরী সিন্ধু।
বস্তি ভেঙে অট্টালিকা,গরিবের বাড়ি নয়কো সস্তা
বস্তিকে নিয়ে করলে খেলা, আমি ছিন্নমস্তা।
অসহায় অসুস্থের কাছে ছুটি , আমি যে ধন্বন্তরী
অট্টালিকা না থাকলেও, মানুষের হৃদয়ে বাস করি।
বস্তির ছোট শিশুদের কাছে, আমি স্নেহময়ী সিস্টার
জ্ঞানের আলো জ্বালাই সেথায়, তাদের প্রিয় টিচার।
বস্তির মেয়ে হয়ে জন্মেও আমি, বস্তির দূর্গা হতে পারি,
আহ্বান করি সকল নারীকে, এসো জঞ্জাল মুক্ত সমাজ গড়ি।
