বর্ষা গিয়ে শরৎ এলো আগমানীর সুরে,
কাশের বনে লাগলো দোলা, ঐ দূরের নদী তীরে।
আগমনীর সুরে বাজে প্রকৃতি নানান ছন্দে,
মর্ত্যবাসী হারায় আত্ম, রূপ রস নৈসর্গিক গন্ধে।
কদম ফুল বিদায় নিয়ে এলো চম্পা, চামেলী, কমল,
শিউলি ফুলের ঘ্রানে উদাস, রাতের পেচক যুগল।
হাস্নুহানা ছড়ায় সুবাস, মাতায় নাগের নাচন,
ছিন্ন মেঘে শরৎ আকাশ শশীর উদয় যখন।
শুভ্র ভেলায় মেঘবালারা বেড়ায় ঘুরে নীলাকাশ,
দূরের পাহাড় চুপটি করে হাতছানি দেয় সকাশ।
রৌদ্র মেঘের লুকোচুরি খেলায় যাত্রীরা বিচলিত,
মাঝি মল্লার ভাটিয়ালি সুরে থাকে কেমন নির্লিপ্ত।
ধানের ক্ষেতে আলতো হাওয়ায় ধানের শীষ নুয়ে,
শীতল পবন যায় যে বয়ে কাশের ডগা ছুঁয়ে।
কাশ ফুলেতে সাজায় ঢাকি সাজে পল্লীবালা,
পদ্ম দীঘির রক্ত কমলে গাঁথে একশো আটের মালা।
পুজো পুজো গন্ধে মাতাল সারা বাংলা জুড়ে,
তৃতীয় ঢেউ সত্যি এলে রাখবে মোদের সরিয়ে দূরে।
মিনতি আমার, মাগো তোমায় প্রার্থনায় শির নত
কাশ ফুলের ওই সুক্ষ আশের মত দাওনা উড়িয়ে,
দুস্টু মারণ ব্যাধির অসুরদের চিরকালের মত
অনেক দূরের তেপান্তরের মাঠ পেরিয়ে দাও তাড়িয়ে!
