দুঃস্বপ্ন – ছয়
সোমা ডায়াল ঘোরাল। বলল, এটা কী থ্রি ফাইভ ফোর এইট টু ফোর?
ইয়েস। আপনার কাকে চাই?
অসিতবাবু আছেন? ওকে একটু ডেকে দিন না।
অসিতকে? অসিতের বাবার গলা সোমা বুঝতে পারল। আপনি কোত্থেকে বলছেন?
আমি সোমা, মেসোমশাই।
অ সোমা, তোমার কী খবর? কতদিন তোমাকে দেখি না।
আমার খবর ভালো মেসোমশাই! একদিন আপনাকে দেখতে যাব। তাড়াতাড়ি অসিতবাবুকে একটু ডেকে দিন না। ওর শরীরটা ভালো না। একবার এক্ষুনি আসতে হবে।
সোমা বুঝল অসিতবাবুর বাবা এবার ফোন ছেড়ে অসিতবাবুকে ডাকতে গেছে। সোমা এবার পাশের খাটের দিকে তাকাল। দেখল মনীষ উপুড় হয়ে পড়ে আছে। নিশ্বাস ফেলতে ওর কষ্ট হচ্ছে কেন জানি।
আমি সোমা বলছি অসিতবাবু। তাড়াতাড়ি চলে আসুন। আপনার বন্ধুর শ্বাস নিতে কষ্ট হচ্ছে। বুকে ভয়ংকর ব্যথা।
যাচ্ছি।
সোমা রসুলকে বলল, সদর খুলে বসে থাক। অসিতবাবু আসছে।
মনীষ বলল, ওর বলতে কষ্ট হচ্ছে তবু বলল, না সদর খুলবে না। দরজায় এসে গাড়ি থামলে দেখে খুলবি। অন্য যে—কোনো লোক এসে ঢুকতে চাইলে গুলি করবি।
সোমাকে মনীষ অবিশ্বাস করছে। কারণ সোমা অঞ্জন, অঞ্জন এসেছিল বলতে বলতে মূর্ছা গেছে। বস্তুত সে একজনকে হয়তো চিনে ফেলেছে। ওর নাম অঞ্জন কিনা সে জানে না। অঞ্জন এই কথা শোনার সঙ্গে সঙ্গে একটা মুখ মনে পড়েছিল, সে মুখটার সঙ্গেই যেন বেশি মিল আছে কফি হাউসে সে যাকে দেখেছিল তার। কারণ সোমার নাম ছিল একসময় অঞ্জলি। সোমা ওর পোশাকি নাম। অঞ্জলি এবং অঞ্জু এই নামে কেউ তাকে ডাকত। একজন তাকে ডেকেছিল অঞ্জনা বলে। সেই মনে হওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই একটি সুন্দর মুখ ভেসে উঠল। দাড়ি—গোঁফ ওঠেনি তখনও, অথচ কী দুর্ধর্ষ সে, তার ভিতরটা, মনে হল এখনও কেঁপে ওঠে।
সোমা এবার মনীষের পাশে গিয়ে বসল।—একটু জল গরম করে সেঁক দিচ্ছি।
আরে ধুত্তোর তোমার সেঁক। আমি কথা বলতে পারছি না।
এতটুকু কম মনে হচ্ছে না?
মনীষ কথা বলতে পর্যন্ত পারছে না।
হঠাৎ তোমার এমন কেন হল?
মনীষ উপুড় হয়ে আছে। ওর মুখ দেখা যাচ্ছে না। কেবল ঘামছে। সোমা যে কী করবে বুঝতে পারছে না। সে চোখ মেলে দেখেছিল মনীষ অপলক ওকে দেখছে। ওর গলার কাছে হাত। যেন সোমার গলা টিপে মেরে ফেলবে। সোমারও ভীষণ কষ্ট হচ্ছিল। মরে যাবে এই ভেবে কষ্ট না। মনীষ তাকে অবিশ্বাস করে অযথা কষ্ট পাচ্ছে এই ভেবে। সে বলল, মনীষ, আমি তোমাকে কিছু লুকাচ্ছি না। অঞ্জন বলে আমি কাউকে চিনি না।
