দাঁত
এখন ফাল্গুন মাস চলছে। আর ফাল্গুন মানেই বাঙালির বিয়ের মরশুম। চারিদিকে শুধুই বিয়ে। এমনও হয় এক বাড়িতে এক দিনে চারটে নেমন্তন্নপত্র। কোনটাতে যাবে আর কোনটাতে যাবেনা ভাবতে ভাবতেই দিন চলে যায়।
রঞ্জনবাবু এই পাড়ার একজন বিশিষ্ট ব্যক্তি। বয়স সত্তরোর্দ্ধ। এর মধ্যেই ওপর নীচ মিলিয়ে প্রায় আটটা দাঁত তুলে ফেলতে হয়েছে। তবুও খাবারের প্রতি মোহ একটুও কমেনি। বরং দিন কে দিন তা বেড়েই চলেছে।
সেদিনকার কথা ওনার পাড়ার একটি মেয়ে নাম মিতা। বিশাল বড়লোক বাপের একমাএ মেয়ে। ওর বিয়েটা হঠাৎ করেই ঠিক হয়ে যাওয়াতে কোন অনুষ্ঠান বাড়িই ভাড়া পাওয়া যায়নি। বাধ্য হয়েই মিতার বাড়ির সামনের ফাঁকা জায়গাতেই প্যান্ডেল খাটিয়ে বিয়ের অনুষ্ঠান এবং খাওয়া দাওয়ার এলাহি ব্যবস্থা করা হয়েছে। পাড়ার সবাইকেই নিমন্তণ করেছেন মিতার বাবা
অবশেষে বিয়ের দিন এলো। রঞ্জনবাবু আর ওনার স্ত্রীও এলেন নিমন্ত্রণ খেতে। মিতার সাথে দেখা করে একটুক্ষণ কথাবার্তা সেরে খাবার জায়গায় চলে এলেন খাবেন বলে।
রঞ্জনবাবু সস্ত্রীক বসেছেন পাশাপাশি। ওনার উল্টোদিকে একজন ভদ্রলোক বসে আছেন। উনিও সস্ত্রীক এসেছেন। খাওয়া শুরু হয়েছে। সবাই তাড়িয়ে তাড়িয়ে খাচ্ছে। রঞ্জনবাবুও খাচ্ছেন। কিন্তু একটু অসুবিধা হচ্ছে খেতে। কারন আজ বাঁধানো দাঁতের পাটিটা আনতে ভুলে গেছেন।
উল্টোদিকের ভদ্রলোক বেশ কিছুক্ষণ থেকেই রঞ্জনবাবুকে দেখে যাচ্ছেন। হঠাৎ একজোড়া দাঁতের পাটি দিয়ে বললেন কি মশাই আনতে ভুলে গেছেন তো! এই নিন এটা পড়ে নিন। এর পরে তো আবার খাসির মাংস আছে। তখন করবেন কি?
বাঃ । কি বলে যে ধন্যবাদ দেবো আপনাকে।
না না ধন্যবাদের কি আছে। আমার কাছে আরও কয়েক পাটি দাঁত আছে।
তা মশাই আপনার কি করা হয়? মানে বলতে চাইছি আপনি নিশ্চয়ই একজন দাঁতের ডাক্তার ।
আরে ধুর মশাই, কে বলেছে আমি দাঁতের ডাক্তার । আমি তো নিমতলা মহাশ্মশানের ডোমদের সুপারভাইজার। বডি পোড়াবার সময় এসব খুলে রেখে দিতে হয়। তাই কয়েক পাটি দাঁত আমি নিজের কাজে রেখে দিয়েছি যদি কারুর কখনো কাজে লেগে যায়। এই যেমন আজ আপনার কাজে লেগে গেল।
শুনেই সস্ত্রীক রঞ্জনবাবু…………….।।
