রাগ করেছেন মা এবারে বলছেন যাবো নাকো,
কৈলাসেতেই আরাম করে গুষ্টি শুদ্ধ থাকো।
মর্ত্যধামে গেলেই এবার ডুবে মরতে হবে,
বরুণদেবের কৃপায় ডাঙ্গা একটুও নেই ভবে।
বছর পরে একটিবারই যেতাম বাপের বাড়ি,
জুটে যেত কেমন সবার জামা জুতো শাড়ি।
ও ভোলানাথ বরুণদেবে ডাকো একটিবার,
জিজ্ঞেস করো কী আনন্দে ডুবালো সংসার।
মায়ের কথায় মহেশ্বর হাঁকেন ওহে বরুণ ,
ডুবলো কেন মর্ত্যবাসী সেই ব্যাখ্যা করূন।
বরুণদেব বলেন প্রভু শরম লাগে কইতে,
অন্যলোকের দোষের বোঝা আমারে হয় বইতে।
নদী-নালা বোজায় লোকে নেতায় দিয়ে টাকা,
জল বেরানোর রাস্তা কোথাও একটুও নেই ফাঁকা।
আরো আছে অনেক কিছু শুনতে যদি চান,
বলতে সেসব বিশদভাবে চাইছে আমার প্রাণ।
উন্নয়নের টাকায় এখন মেলা খেলা চলে,
ব্যাঙ মুতলেও ডোবে শহর আমারই দোষ বলে।
ছাতা দিয়ে খোঁচান নালা দেখি অনেক নেতা,
ফট ফটা ফট তোলান ছবি দেখান দেদার কেতা।
দু-তিনটা মাস একটুখানি যদি না হয় বৃষ্টি,
অনাহারে মরবে লোকে ধ্বংস হবে সৃষ্টি।
এখন বলুন দোষটা তবে ক্যামনে আমার হয়,
এতো কথা বলার জন্য লাগছে এখন ভয়।
জানলে পরে নেতারা সব হামলে যদি পড়ে ,
শিরখানা কি আস্ত তখন থাকবে আমার ধড়ে ?
শুনে যে তাঁর দুখের কথা মুচকি হাসেন শিব,
যাক চলে যাক রসাতলে ধরার শ্রেষ্ঠ জীব।
ডেকে বলেন ওহে দেবী আমার কথা শোনো,
এবার বাপেরবাড়ি যাওয়ার নেই প্রয়োজন কোনও।।
