স্যার, দরজাটা একবার খুলবেন।
স্যার আপনার কাছে অনুরোধ একটি বারের জন্য দরজাটা খুলুন।
আমি রোদ্দুর ।আপনার ছাত্র।
আপনি বলবেন ঝড়-ঝঞ্ঝা দুর্যোগের
রাতে রোদ্দুর কোথা থেকে আসবে।
হ্যাঁ স্যার, আমি আপনার অভাগা ছাত্র।
ছাত্র হিসাবে পরিচয় দিতে আমার খুব লজ্জা হচ্ছে।
কিন্তু আজ বড়ো অসহায় আমি।
আজ আমার জীবনে যে ঝড় উঠেছে
সেই ঝড়ের কাছে বাস্তবের ঝড় অতি নগণ্য।
এই অবস্থার জন্য কেবল দায়ী শুধু আমি।
আপনি অনেকবার আমাকে শোধরাতে চেষ্টা করেছেন।
এখনো আমার পিঠে আপনার চাবুকের
একটি দাগ অক্ষত আছে।
সেই দিন আমার থেকে বেশি লেগেছিল ছিল
আমার বাবা মায়ের।
আপনার উপর চড়াও হয়েছিল ওরা।
আপনার গায়ে হাত দিতেও ওরা ভোলেনি।
যেদিন আমার বাবা-মা আমার কষ্টের জন্য
আপনার মতো দেবতাসম মানুষটাকে আঘাত করেছিল।
সেই দিন বিধাতা আমার ভাগ্য লিখন পাল্টে দিয়েছিল।
সেই দিন হয়তো বুঝতে পারেনি ওরা কিন্তু আজ বুঝেছে।
সেই দাগই আমাকে দাগি অপরাধী বানিয়ে দিয়েছে স্যার।
আমাকে যতগুলো চাবুক মেরেছিলেন,
তার কয়েক গুণ বেশি চাবুক যদি
আমার বাবা মাকে মারতেন, তাহলে
বৃদ্ধ বাবা মাকে আজকের এই দিন দেখতে হতো না।
স্যার, একবার দরজাটা খুলুন না।
আপনার পা দুটো একটি বার জড়িয়ে ধরতে চাই স্যার।
ক্ষমা চাইবো না স্যার, ক্ষমা চাইবো না।
কারণ ক্ষমার অযোগ্য আমি।
স্যার, আর বেশিক্ষণ আমার আয়ু নেই।
গুলিতে পিঠ আমার ঝাঁঝরা হয়ে গেছে।
শুধু একটিবার দরজাটা খুলুন।
আমার পাঁচ বছরের ছেলেটাকে আপনার কাছে দিয়ে যেতে চাই।
ওকে আপনি মানুষের মতো মানুষ করবেন।
আমি জানি জগতে একমাত্র আপনারা
অপরের ছেলেকে নিজের সন্তানের মতো
মানুষ করেন। আর কেউ করে না।
খুলুন না স্যার, একবার দরজাটা খুলুন না।
স্যার আমার চোখ বুজে আসছে।
আমার সন্তানকে আপনার কাছে রেখে গেলাম।
দয়া করে ওকে মানুষ করবেন।
আমার মতো অমানুষ নয়।
বিদায় স্যার……. বি…..দায়…।
