চপলা,লক্ষী, মায়া,আমিনা রুকসানা
কেমন আছো তোমরা …
কত দিন খবর নিইনি তোমাদের,
কালের গর্ভে ঘুমিয়ে পড়েছিলাম,
ভুলটা আমারই ছিল।
আচ্ছা বলতো এবার….
আমাদের দেশ গাঁয়ের সাজানো বাগানটা কি তেমনই আছে….
যেখানে ভেদাভেদ ভুলে গাঁয়ের ছেলে মেয়েরা খেলতাম একসাথে ?
রসূল চাচার ছিপ চুরি করে,
ভরা বর্ষায় সারা দুপুর জুড়ে ধরতাম মাছ
চাটুজ্জে কাকাদের পুকুরে,
মনে আছে ?
শিউলি তলায় কোঁচড় ভর্তি ফুল কুড়িয়ে
আমিনাদের দাওয়ায় বসে মালা গাঁথতাম
বোধনের দিনে, মায়ের গলায় পরাব বলে।
মনে পড়ছে…
দুষ্টু রুকসানা ভয় ভীতি ভুলে, দত্তদের পদ্ম পুকুরে ডুব দিয়ে নিয়ে আসত একশো আট রক্ত কমল !
যা দিয়ে গাঁয়ের আটচালা পূজা মণ্ডপে
পাপড়ি ফুটিয়ে, দিয়েছি পুষ্পাঞ্জলি
মায়ের চরণ কমলে।
আগের মতন সব ঠিক আছে তো ?
তবে যে কে যেন বললো !
আমার সাধের দেশগাঁয়ের কিছুই নেই ঠিক!
লন্ডভন্ড চারিদিক-
সাম্প্রদায়িকতার আবহে সব সম্পর্কে পড়েছে ছেদ।
আমিনা রাবেয়া, মায়া মমতারা আজ কাঁদছে লুকিয়ে,
অঝোরে ডুকরে ওঠা কান্নার সেই আওয়াজ
সমাজপতিরা শুনতে পাচ্ছেনা।
ধর্মনিরপেক্ষতা শুধু কিতাবেই আছে তোলা,
মানবতা জলাঞ্জলি দিয়ে
সৌহার্দ্য সম্প্রীতি ভুলে
মিথ্যে মরীচিকার পেছনে উন্মত্ততায় ছুটে চলা।
সবার আগে, আমরা যে মানুষ তা ভুলে যাই,
মানুষেরই সৃষ্টি এই জাত ধর্ম–
রক্তের রং এক, করোটি কঙ্কালেরও নেই কোন ভেদ….
বলতে পারো কি কেউ
তবে কেন মানুষে মানুষে এত বিভেদ ?
