স্টেন গানের বুলেটে বুলেটে ঝাঁজরা হওয়া ক্ষতবিক্ষত শরীরের প্রতিটি রক্তকণা ;
পরাধীনতার শৃঙ্খল ছিঁড়ে চেয়েছিল স্বাধীনতা ।
দাঙ্গার রক্ত মুছে, শোক ভুলে ধর্ষিতা নারীর চোখ, ক্রোধের আগুনে দেখতে চেয়েছিল, রক্তে রাঙানো বিপ্লবের ধ্বজা।
বিপ্লবী রাষ্ট্র নায়করা স্বপ্ন দেখেছিল বিশ্বদরবারে দেশ মাতৃকার শ্রেষ্ঠ আসন
চেয়েছিল দেশমাতা হোক স্বাস্থ্য, খাদ্য, শিক্ষায় স্বনির্ভর , আর
সাম্যবাদের নীতিতে বিশ্বাসী এক ধর্ম নিরপেক্ষ গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র ।
স্বাধীনোত্তর পঁচাত্তর বছরে অনেক কিছুতে সাফল্য পেয়েছি –
নতুন প্রযুক্তিতে অনেক এগিয়েছি ;
উন্নত বিজ্ঞানে দেশীয় প্রযুক্তিতে মহাকাশে পা রেখেছি ।
iএকশ ত্রিশের জনগন শত্রুর চোখে চোখ রেখে কথা বলতে শিখেছি,
তবুও অনেক না পাওয়ার বেদনা আমায় ধাওয়া করে—
ভারত আমার জরাজীর্ণ,গনতন্ত্রের অপব্যবহারে ;
চাকরি, শিক্ষায় দুর্নীতি, হাহাকার ঘরেঘরে ;
প্রকৃতি ধ্বংসে উষ্ণায়নকে করেছি আহ্বান ;
সুজলা সুফলা নবদুর্বাশ্যম কৃষিপ্রধান দেশ আমার, আজ কৃষি বিমুখ !
যুদ্ধের উপবনে অহরহ তুলেছি সাইরেনের সুর লহরী ।
নীতি নৈতিকতা জলাঞ্জলি দিয়ে ভুলেছি জাতীয়তাবাদ !
দুর্নীতির কবলে চেতনাকে দিয়েছি কবর !
ধর্মের জিগিরে বিভাজনের সুলভ নীতিতে রংবাহারি ।
মাজা ভাঙা শিক্ষিত যুবসমাজ, বেকার-জ্বরে আক্রান্ত ;
যেদিকে তাকাও… স্পষ্টই ,শুধু লুটেপুটে খাও ।
ন্যায় নীতিভ্রষ্ট সমাজ শিরদাঁড়া হীন ;
অতি অঙ্কুরোদগম রাহাজানি সন্ত্রাস, খুন, ধর্ষণ।
পতন্মুখ পলিগর্ভে সৌহার্দ্য- সম্প্রীতি, সংহতি, জমা আছে দলিল দস্তাবেজে;
গরীব পরম্পরায় গরীব-ই থেকে গেছে ;
ধনী হয়েছে ধনী থেকে উচ্চ কোটি ধনী ।
বিপন্ন পৃথিবীতে বেঁচে আছে আজও জর্জরিত প্রাণ !
আগামী ভ্রূণ অস্তিত্বের সম্ভাবনা হীন, কাঁদে মায়ের জঠরে,আশা রাখি তাই নতুন সূর্য্য উদয়ের,
শান্তি চাই শান্ত হোক হিংস্রতা, ঝড় থেমে পৃথিবী শান্তি পাক,
আমার ভারত জগৎ সভার শ্রেষ্ঠ আসনে ভূষিত হোক, দেখাক বিশ্বকে পথ- !
পরিব্রাজকের নান্দনিক দৃষ্টিতে সেজে উঠুক আমার দেশ ;
“সত্য সেলুকাস! ভারত এক বিচিত্র মহান দেশ !”
সেই অভ্যুত্থানে আমি রই কান পেতে, রই চোখ মেলে ।
