Skip to content

Banglasahitya.net

Horizontal Ticker
বাঙালির গ্রন্থাগারে আপনাদের সকলকে জানাই স্বাগত
"আসুন শুরু করি সবাই মিলে একসাথে লেখা, যাতে সবার মনের মাঝে একটা নতুন দাগ কেটে যায় আজকের বাংলা"
কোনো লেখক বা লেখিকা যদি তাদের লেখা কোন গল্প, কবিতা, প্রবন্ধ বা উপন্যাস আমাদের এই ওয়েবসাইট-এ আপলোড করতে চান তাহলে আপনার লেখা আপলোড করার জন্য ওয়েবসাইটের "যোগাযোগ" পেজ টি ওপেন করুন।
Home » জীবন সংগ্রাম || Swarup Kayal

জীবন সংগ্রাম || Swarup Kayal

অধ্যায় ১ : অন্ধকার ঘরে আলো

ছোট্ট গ্রামের এক প্রান্তে ভাঙাচোরা কুঁড়েঘর। সেখানেই থাকে পূজা আর পিঙ্কি। দু’জনের বয়স মাত্র বারো আর দশ। মা নেই—দীর্ঘ অসুখে গত হয়েছেন অনেক আগে। বাবা যেন বেঁচে থেকেও নেই, নিজের দায়িত্ব ছেড়ে দিয়েছেন অনেক আগেই। তাই এ দুই কিশোরীর ভরসা একমাত্র বৃদ্ধা ঠাকুমা।

ঠাকুমা অশক্ত শরীরে কখনো ভিক্ষে, কখনো পরের বাড়িতে কাজ করে দু’মুঠো ভাত জোগান। তবু সবদিন হয় না। তাই অনাহারে কাটে মেয়েদের দিন।

অধ্যায় ২ : হারিয়ে যাওয়া পাঠশালা

পূজা ক্লাস সিক্স পর্যন্ত পড়েছিল। পিঙ্কি তখন ক্লাস ফোরে। কিন্তু বই খাতা সব পড়ে গেছে অনাদরে। টিফিনের জন্য টাকা নেই, জামাকাপড় ছেঁড়া, বই কেনার সামর্থ্য নেই—তাই স্কুলও বন্ধ হয়ে গেছে তাদের।
তবুও রাতে খাটের কোনায় বসে পুরনো ভাঙা খাতায় পেন্সিল দিয়ে আঁকিবুঁকি করে পূজা। আর পিঙ্কি কান পেতে শোনে গল্প, স্বপ্ন দেখে—“আমিও একদিন স্কুলে ফিরব।”

অধ্যায় ৩ : দুঃখের ভাঁজে হাসি

খালি পেটে থেকেও তারা একে অপরকে শক্তি দেয়। পিঙ্কি হাসিমুখে ঠাকুমাকে বলে—
“ঠাকুমা, কাল আমি যদি অনেক টাকা উপার্জন করি, তোমাকে নতুন শাড়ি কিনে দেব।”
ঠাকুমার চোখ ভিজে আসে, তবু বলেন—“তোমরা মানুষ হয়ে ওঠো মা, আমার শাড়ির দরকার হবে না।”

অধ্যায় ৪ : অশ্রুর দিনে এক টুকরো আলো

একদিন গ্রামের এক সমাজসেবী শিক্ষক তাঁদের কথা জানতে পারেন। তিনি নিজে এসে ঠাকুমার সঙ্গে কথা বলেন। পূজা আর পিঙ্কিকে আবার স্কুলে ভর্তির ব্যবস্থা করেন। বই খাতা জামাকাপড়ও এনে দেন।
মেয়েরা আনন্দে কেঁদে ফেলে। যেন জীবনের অন্ধকারে প্রথমবার সূর্যের আলো দেখা গেল।

অধ্যায় ৫ : স্বপ্নের পথে ফেরা

ধীরে ধীরে মেয়েরা পড়াশোনায় ভালো করতে থাকে। পূজা স্বপ্ন দেখে ডাক্তার হওয়ার, পিঙ্কি হতে চায় শিক্ষক। গ্রামের মানুষও এগিয়ে আসে, কেউ টিফিনের জন্য সাহায্য করে, কেউ জামা দেয়।

উপসংহার : শিক্ষণীয় বার্তা

কয়েক বছর পরে পূজা মেডিকেলে ভর্তি হলো, আর পিঙ্কি হলো প্রাইমারি স্কুলের শিক্ষিকা। ঠাকুমার আঁচলে ভর করে যে দুটো কিশোরী অনাহারে দিন কাটাতো, তারা আজ গ্রামের গর্ব।
এই কাহিনি আমাদের শেখায়—পরিবার না থাকলেও সমাজ, সহানুভূতি আর শিক্ষাই একজন মানুষের ভাগ্য বদলাতে পারে।
দারিদ্রতা যত বড়ই হোক, স্বপ্ন আর অধ্যবসায় তার চেয়েও বড়।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *