ছিল না তখন বজ্রনাদে, রণখোলার শব্দ,
নিঃশব্দে নিভে যেতো আশা, কুয়াশায় বিভ্রান্ত অবরুদ্ধ।
ছিন্ন ছিল পতাকা, ভাষাও বন্দী,
শ্রুতির প্রতিধ্বনি শুধু— ‘তবু কিছু করিনি’।
কাঁটাতারের ও-পাশেতে দাঁড়িয়ে ছিল ছায়া,
পাকিস্তান নামধারী শাসকেরা – ধ্বংসের মায়া।
রক্তচোষা শোষণে, থরথর জনতা,
‘ভাত চাই, ভোট চাই’— কণ্ঠে প্রতিবাদের ছন্দ তা।
কিশোরের খাতা থেকে কেড়ে নেয় ইতিহাস,
মা হারায় ছেলেকে, মুখ ঢাকে নীরবতায় নিঃশেষ আশ্বাস।
নেতা গায় স্বাধীনতা, রেডিও দেয় না শুনিতে,
ভবিষ্যৎ কাঁদে মাতৃভাষায়, স্মৃতির বুক ছুঁইতে।
তবু ঘুমের মধ্যেও, কেউ কেউ স্বপ্ন আঁকে,
এক নতুন দিনের, যেখানে সূর্য রক্তে ঝাঁকে।
সেদিন ছিল নীরব, ইতিহাসের পাতা,
লেখেনি কিছু— কারণ বাঙালি তখনো চুপচাপ জাতা।
তবু ঘুমের চাদরে মুখ লুকানো সেই দেশ,
ধীরে ধীরে জেগে উঠবে, আগুন হবে রেশ।
আর সে আগুনেই শুরু হবে
স্বাধীনতার সপ্তরক্ত— এক জাতির মহাযাত্রা।
