প্রখর নিদাঘ ধরাতলে বহে বহ্নিসম বায়,
দিনমণি তেজে ওষ্ঠাগত প্রাণ দিশেহারা অসহায়।
স্বেদ বারিধার বহে অনিবার হাঁসফাঁস দিনরাত,
চাতকের মতো চেয়ে থাকা নভে যদি হয় বারি পাত।
উত্তাপ রোষে ঈশান কোণে হঠাৎ ঝড়ের আভাস,
বাতাস রুদ্ধ থমথমে ভাব চরাচর মহাকাশ।
নিমেষ মধ্যে তুফানের বেগে ধেয়ে আসে ধূলি ঝড়,
তেমনি গভীর ঘন কালো মেঘে ঢেকে যায় অম্বর।
খড়কুটো চাল উড়ছে দেদার কালবৈশাখী বেগে ধায়,
বিদ্যুতের খুঁটি উপড়ে ফেলে মুহূর্তে অবলীলায়।
দামিনীর রোষ ঘন ঘন ফোঁস দুরু দুরু কাঁপে বুক,
ঝড়ের দাপটে লন্ডভন্ড যেন মত্ত সর্বভুক।
বিশ্বতনুর অণুতে অণুতে তান্ডবের বহর,
ভূমিতে লুটায় মহীরুহ কত তছনছ বাড়ি ঘর।
উড়িয়ে নেবার ভাসিয়ে দেবার বাজে প্রলয় ডঙ্কা,
আঁধারে ঢাকে দিকচক্রবাল জীবকুল মনে শঙ্কা।
পাগলের প্রায় গাছপালা দোলে পাখি কত নীড় হারা ,
কালবৈশাখী দাপিয়ে বেড়ায় মত্ত মাতঙ্গ পারা।
রুদ্রের বুঝি প্রলয় নৃত্য পিনাকেতে তুলে টঙ্কার,
ধরা সচকিত দামিনী গমক মনে হয় ডমরু ডঙ্কার।
দিশেহারা পথে পথিকেরা সব ছেলেরা ছাড়ে যে মাঠ,
ঝাপসা ধূসর চারিদিক শূন্য পথ ঘাট।
ধেনু লয়ে ত্বরা রাখাল বালক চলে ঊর্ধ্বশ্বাসে,
ঘোর দুর্যোগে বেসামাল ধেনু এলোমেলো ছোটে ত্রাসে।
খেয়া বেঁধে মাঝি জমি হতে চাষি দ্রুত চলে গৃহ পানে,
ত্রস্ত মেদিনী উথাল পাথাল ঝড়ের তীব্র বাণে।
ভূলুণ্ঠিত ফল ফুল সব ঝড়ের দাপট ফলে,
আম কুড়াবার ধুম পড়ে যায় আম্রবৃক্ষ তলে।
ঘন্টাখানেক তান্ডব পর শেষ হলে ঝড়ের ক্রান্তি,
সুশীতল ধরায় দিনশেষে হয় জনজীবনের শান্তি।
