Skip to content

Banglasahitya.net

Horizontal Ticker
বাঙালির গ্রন্থাগারে আপনাদের সকলকে জানাই স্বাগত
"আসুন শুরু করি সবাই মিলে একসাথে লেখা, যাতে সবার মনের মাঝে একটা নতুন দাগ কেটে যায় আজকের বাংলা"
কোনো লেখক বা লেখিকা যদি তাদের লেখা কোন গল্প, কবিতা, প্রবন্ধ বা উপন্যাস আমাদের এই ওয়েবসাইট-এ আপলোড করতে চান তাহলে আপনার লেখা আপলোড করার জন্য ওয়েবসাইটের "যোগাযোগ" পেজ টি ওপেন করুন।

পর্ব ২৭
তোড়া হস্টেলে ফিরে এসে নীতাকে ফোন করে বলে আগামী কাল কলেজ যাবে,জমির ব্যাপারে মেহেকের পরামর্শ অনুযায়ী এগিয়ে জট কিছুটা খুলেছে,কাজ একটু হলেও এগিয়েছে, নীতা বলে জানি মেহেকের সঙ্গে আমার কথা হয়েছে। কয়েকদিন পর কণিকা নার্সিংহোম থেকে ছাড়া পেয়ে বাড়িতে ফিরে আসে,এই কয়দিন মিহির ফোন করে খোঁজ নিয়েছে, বাড়িতে ফিরে ফ্রেশ হয়ে মিহিরকে ফোন করলে মিহির বলে কলেজের ক্লাসের পর তোকে অনার্স এর নোটগুলো পাঠিয়ে দেব,আজ রেস্ট কর,পরে সময়মতো দেখিস, কণিকা বলে হ্যাঁ,গ্যাপ কিছুটা হলো, তবে নোটস গুলো দেখলে চর্চাটা থাকবে, thanks, মিহির বলে তবুতো ফোন করলাম, তুই অনেক যন্ত্রণায় কাতরাচ্ছেন, এবার তোকে ভালো থাকতেই হবে, কণিকার মা ঘরে এসে বলেন কার সঙ্গে কথা বলছিস, কণিকা একটু ইতস্তত করে বলে হ্যাঁ, কলেজের ব্যআপআরএ, ফোনটা কেটে দেয়। কয়েকদিন পর কণিকা কলেজ জয়েন করে, অনার্সের ক্লাসের পর মিহির বলে গতকালের নোটগুলো এখন লিখতে পারবি? কণিকা বলে যতটা সম্ভব লিখে নেব,আর বাকিটা মোবাইলে ছবি তুলে নেব, মিহির বলে খাতার সাথে খাতাটা যার তার একটা ছবি তুলে নিস, কণিকা হাসে, মিহির হঠাৎ ব্যাগ থেকে একটা গোলাপ ফুল কণিকা একটু হতচকিত হয়ে এধার ওধার তাকায়, না কেউ নেই, আস্তে আস্তে ফুলটা নিয়ে ব্যাগে রাখতে রাখতে বলে এই রুগ্ন মেয়েটার মধ্যে কি খুঁজে পেলি? মিহির বলে অসম্ভব একটা ভালো লাগায় ভরে ওঠে মন, তোকে দেখি যখন!
কণিকা বলে হুম এই রোগের কি উপায়? মিহির বলে: পরষ্পরকে ভালোবাসা চাই,হা হা…. সেদিন কলেজ থেকে ফেরার পথে রাস্তায় ভিজে যায় কণিকা ,এই প্রথমবার যেন অন্যরকম ভালো লাগে বৃষ্টিতে ভিজতে! বাড়িতে ফিরে এলে মা বলেন এখন কয়েকদিন সাবধানে থাকতে হবে কণিকা তুমি এখনও সম্পূর্ণ সুস্থ নয়, কণিকা মাথা নাড়ে। রাতে মিহির ফোনে বলে শরীর ঠিক আছে তো, কণিকা বলে হুম, দুজনে কিছুক্ষন কথা বলে, কণিকা বলে মা আসছেন মনে হচ্ছে বাই এখন, ফোন ছাড়ার পর মনে মনে মিহিরকে ভাবতে থাকে।
পর্ব ২৮
তোড়াদের জমিটা রেজিষ্ট্রেশন হয়ে যায়, তোড়া এখন বেশ কিছু টিউশন করে, একটু ক্লান্ত হলেও মনে মনে ভাবে চর্চা থাকছে, কলেজে পরীক্ষার নোটিশ পড়ে যায়। কণিকা তোড়াকে বলে পরীক্ষার আগে কয়েকদিন ছুটি নিস, নীতা বলে হ্যাঁ, আবার পরীক্ষা হয়ে গেলে বেশি করে পড়িয়ে দিস। পরীক্ষার প্রস্তুতি ওরা একসাথে নিতে থাকে, পরীক্ষার সিট অন্য কলেজে পড়ে, ওরা একসাথে যাতায়াত করে। পরীক্ষা শেষ যেদিন, নীতা বলে আজকে পরীক্ষার পর একটু আড্ডা দিয়ে বাড়ি ফিরব, মেহেক বলে হ্যাঁ, কয়েকদিন ধরে শুধু পড়া আর পড়া, কণিকা বলে হ্যাঁ, তোড়া আজ একটু থাকিস। কথামত ওরা পরীক্ষা হল থেকে বেরিয়ে এসে একটু দাঁড়ায়, হঠাৎ সুহৃদ এসে হাজির, মেহেক বলে তুমি হঠাৎ, আমি তো এই কলেজে সিট পড়েছে জানাইনি! সুহৃদ বলে অনেক কিছু না জানালেও জানতে হয়, নীতা কণিকাকে ঠেলে মুচকি হাসে, সুহৃদ তোড়ার দিকে তাকিয়ে বলে পরীক্ষা কি রকম হয়েছে, তোড়া বলে ভালো, সুহৃদ আস্তে আস্তে বলে মেহেকের মনে হয় খুব ভালো হয় নি, মেহেক মুখ বাঁকিয়ে বলে যেমন হয়েছে হয়েছে,অত কাউকে জমা খরচ দিতে পারবো না, নিজেকে কি মনে করে,হুঁ… সুহৃদ বলে চটছ কেন,চলো সামনের ঐ রেস্টুরেন্টে একটু কিছু খাই, মেহেক বলে হঠাৎ তোমার সঙ্গে যাবো কেন আমরা? সুহৃদ বলে খুব ভোরে বেরিয়েছি কিছু খাওয়া হয় নি, ঠিক আছে না যাও তো খালি পেটে দাঁড়িয়ে থাকি। মেহেক বন্ধুদের দিকে তাকিয়ে বলে আচ্ছা চলো, কিছুটা সময় একসাথে গল্প করে ওরা বেরিয়ে আসে, নীতা বলে মেহেকের কথা ধরবেন না সুহৃদ দা, সুহৃদ বলে না অভ্যাস হয়ে গেছে, চেষ্টা করবো ভবিষ্যতেও যাতে এই মুখটা শুনতে পাই,চলো তোমাদের বাসে তুলে দিয়ে আসি। ওরা বাসে উঠে পড়ে, মেহেক নীতা একটা সিটে বসে, কণিকা, মিহির আরেকটাতে। মেহেক নীতাকে বলে সুহৃদ দা কি বললো বলতো? নীতা বলে sinking sinking drinking water…

পর্ব ২৯
নীতা বাড়িতে ফিরে শোনে দিদুনের খুব শরীর খারাপ, নীতা বলে ঠিক আছে মা,আজতো পরীক্ষা শেষ কাল তোমার সঙ্গে দিদুনের কাছে যাব,যদি প্রয়োজন হয় নার্সিংহোমে এডমিট করে দেব,মা বলেন ঠিক আছে ফ্রেশ হয়ে আয়, জলখাবার লেখা, নীতা বলে না মা আমরা আজ একসাথে একটু খেয়েছি, একেবারে রাতে খাবো। নিজের ঘরে বারান্দায় বসে একটু গান শুনতে থাকে, হঠাৎ ফোনটা বেজে ওঠে , নীতা ফোনটা রিসিভ করে বলে ধীরজ তুই পরীক্ষার পর কোথায় গেলি? দেখতে পেলাম না,জানিস সুহৃদ দা আজ এসেছিল, আমাদের খাওয়ালো। ধীরজ বলে হ্যাঁ, মেহেকের জন্য তো, সুহৃদ দা একটু বদ মেজাজী, কিন্তু মানুষটা উপকারী, নীতা বলে হ্যাঁ, কিন্তু তুই তবে দেখেছিস কিন্তু এলি না কেন? ধীরজ:যেদিন নিজের পায়ে দাঁড়াতে পারবো সেদিন সুহৃদ দার পাশে দাঁড়াবো, তুইতো জানিস আমার বাড়ির পরিস্থিতি, নিজের দায়িত্ব বুঝে নিতে হবে,ব্যক্তিগত চাহিদা, ভালোলাগার কথা এখন মাথায় আসে না, নীতা আমি জানি তোর আমার প্রতি soft feelings আছে, কিন্তু বাস্তবে রূপ দিতে পারবো কিনা জানিনা,আর তাছাড়া তোর আর আমার পরিবারের মধ্যে বিস্তর ফারাক, একটা কথা শুনে ছিলাম,অভাব যদি আসে প্রেম জানলা দিয়ে পালায়। নীতা বলে যদি আমার অনুভূতির কোনো চাহিদা বা ভালোলাগা না থাকে তবে ফোন করেছিস কেন, পরীক্ষা শেষ এনিমেশন ক্লাসে দেখা হবে বা কলেজ খুললে, আমাকে ফোন করবি না,রাখছি,,,,
পর্ব ৩০
মেহেক সেদিন সন্ধ্যায় বাড়ি ফেরার পর মা বলেন এতো দেরি কেন হলো? মেহেক বলে সুহৃদ দা আজ আমাদের সবাইকে খাইয়েছে, মা বলেন ওর বাবা সতীশ বাবুর সঙ্গে তোর বাবার আলাপ আছে, তবে তুই একবার কিডন্যাপ হয়েছিস যার কিছু অপরাধী ধরা পড়লেও কিছুজন এখনো ফেরার,তাই সাবধানে যাতায়াত করবি। মেহেক বলে সঙ্গে নীতা , কণিকা ছিল মা, সুহৃদ দা বাসে তুলে দিয়েছে, মেহেকের মা বলেন খুব ভালো, এখন ফ্রেশ হয়ে নাও। মেহেক নিজের ঘরে গিয়ে নীতাকে ফোন করে, নীতা বলে দেখনা দিদুনের শরীরটা খারাপ কাল দিদুনকে ডাক্তার দেখাতে যাব, মেহেক: সাবধানে যাবি, আমি যাবো? নীতা বলে না, দরকার হলে বলবো, তারপর একটু থেমে বলে ধীরজ ফোন করেছিল,ওর প্রবলেম আছে জানি, কিন্তু এতো রূঢ় আমাদের রিলেশন এর প্রতি, আমি রেগে বলেছি আমায় ফোন করবি না, মেহেক বলে প্রত্যেকটা মানুষের সমস্যা আছে, বন্ধুত্ব মানুষকে বিভ্রান্ত করে না, এগিয়ে চলার সাহস যোগায়, আমি মায়ের কাছে বকা খেলাম দেরি হওয়ার জন্য, নীতা বলে ঠিক আছে আমরা আরেকদিন বেরোব, কাল আগে দিদুনকে ডাক্তার দেখিয়ে আনি। মেহেক বলে ওকে, ধীরজের সঙ্গে ঝগড়াটা মিটিয়ে নিস, এখন রাখছি,মন খারাপ করে বসে থাকবি না বুঝেছিস, নীতা হেসে বলে আচ্ছা, আচ্ছা….
রাতে সুহৃদ দা মেহেককে ফোন করলে বলে আপনার জন্য মায়ের কাছে বকা খেলাম, আপনি খুব বাজে লোক, সুহৃদ দা বলে জানিতো,তাই তোমার কাছে এসেছিলাম যদি ভালো হতে পারি, কিন্তু অত সহজে কি আর ভালো হওয়া যায়, মেহেক বলে ঠিক বলেছেন,তাই আবার ফোন করেছেন, এবার আমার একটা কথা শুনুন, বেশিক্ষণ খালিপেটে থাকবেন না,dry fruits রাখবেন, সুহৃদ dry fruits ভালো লাগে না, মেহেক বলে আমার আদেশ ভেবে পালন করবেন, সুহৃদ যথা আজ্ঞা দেবী, এখন হইতে আপনার কথা অনুযায়ী চলবো, সেইজন্য বেশি বেশি করে নির্দেশ দিতে হবে, কথা বলতে হবে, মেহেক বলে আর আপনার মা তখন আপনাকে ত্যাজ্য পুত্র, আমার মা আমায় ত্যাজ্য পুত্রী করবে, সুহৃদ হা হা,বেশ মজা হবে, মেহেক: আপনি খুব পাজি, এখন রাখছি।
পর্ব ৩১
পরদিন সকালে নীতা মাকে নিয়ে দিদুনের বাড়িতে যায়, গিয়ে দেখে দিদুন খুব অসুস্থ,দিদুন বলে তোর মামা কাল ফোন করেছিল ওর কাজের খুব চাপ তবে ফিরছে,নীতার মা বলেন হ্যাঁ, আমার সঙ্গে কথা হয়েছে, তোমাকে নার্সিংহোমে দেখিয়ে নেবো ভাইকে বলেছি,দিদুন বলে আর আমাকে নিয়ে টানাটানি করিস না,এই বয়সে ভালো লাগে না। নীতা বলে ওসব কথা আমরা শুনেছি না, চলো আমি নিয়ে যাচ্ছি গাড়ি এসে গেছে, নীতার মা বলেন নাতনীর যখন বিয়ে হবে তখন তোমাকে ছুটোছুটি করতে হবে তো চলো এখন, নীতারা দিদুনকে নিয়ে নার্সিংহোমে রায়, কিছু টেস্ট করে ডাক্তারবাবু বলেন প্রেসার হাই, আরো কিছু টেস্ট করাতে হবে আজকে করিয়ে নিন,এখনি এডমিট করবার দরকার নেই তবে নিয়মিত ওষুধ এবং খাওয়া দাওয়া করতে হবে। দিদুনের চেকআপ করিয়ে ফিরতে ফিরতে সন্ধ্যা হয়ে যায়, নীতারা ফিরে এসে বসেছে বাবার ফোন আসে জার্তুতো বৌদির বাচ্চাটা খাট থেকে পড়ে মাথায় চোট হয়েছে ওরা নার্সিংহোমে নিয়ে গেছে আমার ফিরতে দেরি হবে, নীতা বলে আমি যাবো? নীতার বাবা বলেন না তোরা এই ফিরেছিস আসতে হবে না, আমি যাচ্ছি। নীতার মা বলেন কি কান্ড দেখি ওদের বাড়িতে ফোন করে,নীতার জেঠিমা সেকেলে মানুষ বলে আর বলোনা বাচ্চাটাকে রেখে ওপরে জামা তুলতে গেছে, আমি টিভি দেখছিলাম বুঝতে পারিনি পড়ে গেছে, আগে আগে বাচ্চারা কত পড়তো কেউ ডাক্তারের কাছে যেত?নীতার মা বলেন না ডাক্তার দেখিয়ে নেওয়া ভালো। জেঠিমা আবার জানো বৌমার কলেজে ভর্তি হওয়ার সখ,কে দেখবে বলোতো! নীতার মা বলেন কেন আপনার আদরের নাতি আপনি দেখবেন,আর অসুবিধা হয় যদি লোক রাখবেন, কোনো কিছুরই তো অভাব নেই, এখন রাখছি দিদি। ফোনটা রেখে নীতার মা ঘুরে দেখেন নীতা চা করে এনেছে, নীতার দিকে তাকিয়ে বলেন পড়াশোনা মন দিয়ে কর, তবে চাকরি করতে পারবি, তোর বৌদি কিন্তু পড়াশোনায় ভালো ছিল,প্রেম বিয়ে সংসারে ডুবে গেছে নিজের ইচ্ছেগুলো, তুইতো আমাদের একমাত্র সন্তান নিজের পায়ে দাঁড়াতে পারলে তবেই বুড়ো বয়সে বাবা মাকে দেখতে পারবি। নীতা বলে হ্যাঁ মা জানি, আমি পড়াশোনা শুরু করে দেব, অনার্সের পর মাস্টার্স করবো। চায়ের কাপ হাতে নিয়ে নিজের ঘরে আসে, কি মনে হয় ধীরজের ফোনে ম্যাসেজ করে কাল এনিমেশন ক্লাসে দেখা হবে, অনার্সের পেপারের কিছু পড়া আলোচনা করে নেব, প্রবলেম নিয়ে আমরা সবাই চলছি আর কিছু না হোক আমরা ভালো বন্ধু হতে পারি,ধীরজ রিপ্লাই দেয় হ্যাঁ কাল ক্লাসের পর আমরা আলোচনা করে নেব, ভালোই হবে, আমি কিছু বই পেয়েছি কাল নিয়ে যাবো….., দুজনের ঝগড়া মিটে যায়।

Pages: 1 2 3 4 5 6 7 8

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *