Skip to content

Banglasahitya.net

Horizontal Ticker
বাঙালির গ্রন্থাগারে আপনাদের সকলকে জানাই স্বাগত
"আসুন শুরু করি সবাই মিলে একসাথে লেখা, যাতে সবার মনের মাঝে একটা নতুন দাগ কেটে যায় আজকের বাংলা"
কোনো লেখক বা লেখিকা যদি তাদের লেখা কোন গল্প, কবিতা, প্রবন্ধ বা উপন্যাস আমাদের এই ওয়েবসাইট-এ আপলোড করতে চান তাহলে আপনার লেখা আপলোড করার জন্য ওয়েবসাইটের "যোগাযোগ" পেজ টি ওপেন করুন।

পর্ব ২১

পুজো বাড়ি থেকে ফিরে স্বয়ম্ভূ কোনোভাবেই সেঁজুতিকে বিরক্ত করে নি, চম্পা দেবী ফোন করলে সেঁজুতির মা বলেন কিছু মনে করবেন না দিদিভাই,মেয়ের মাথায় এই মুহূর্তে চাকরির ইন্টারভিউ ছাড়া কিছু নেই, এখনকার মেয়ে জোর দিতে ভয় হয়। চম্পা দেবী: ঠিক আছে, আমার ছেলেটা একটু খ্যাপা প্রকৃতির,যে যার জ্বালায় জ্বলছি, ভালো থাকবেন, সেঁজুতি আধুনিকা,ওর আগামী ভবিষ্যত ভালো হোক এই কামনা করি। কিছু সময় দুজনের মধ্যে কথা হয়, বাসবী দেবী উৎসব বাবুকে বললে উৎসব বাবু বলেন ওদের খুব ইচ্ছে সেঁজুতি ওদের বাড়ির বৌমা হোক, তবে পড়াশোনা শিখিয়ে মেয়েকে মানুষ করেছি,ওর স্বাবলম্বী হওয়ার ইচ্ছাকে প্রাধান্য দিতে হবে।সপ্তাহ খানেক পর চাকরি কনফার্মেশন এর ইমেইল আসে সেঁজুতির,পরের মাসে জয়েনিং, খবরটা যেন অনেকটা স্বস্তি ফিরিয়ে আনে সেঁজুতির পরিবারে। চাকরিতে জয়েন করে সেঁজুতি,বিহান ঐ কম্পানির চেন্নাই ব্রাঞ্চে চাকরি পায়,তনুকার কোনো ইমেইল না আসায় সেঁজুতি বলে চেষ্টা করতে থাক নিশ্চিত হবে, এই কম্পানিতে কমপক্ষে একবছর সার্ভিস দিতে হবে,আমিও চেষ্টা করছি যদি ভালো সুযোগ পাই তবে এরপর অন্য কম্পানিতে জয়েন করবো। উৎসব বাবু সাত্যকি বাবুকে মেয়ের চাকরির খবর মিষ্টি খাইয়ে দেন, সাত্যকি বাবু বলেন আমি জানতাম সেঁজুতি খুব ভালো মেয়ে, নিশ্চিত চাকরি পাবে।সেঁজুতি অফিসের কাজ ভালো ভাবে বুঝে নিতে চেষ্টা করে,বস বলেন কোনো অসুবিধা হলে অবশ্যই জানাবেন,নীতা ওর সঙ্গে জয়েন করেছে, ওদের দুজনকে কাজ বুঝিয়ে দেন।নীতা হস্টেলে থাকে, শিলিগুড়ি থেকে এসেছে। শুক্রবার কাজের চাপ একটু বেশি,শনি,রবি দুদিন ছুটি এই সপ্তাহে, সেঁজুতি ও নীতার কাজ সেরে বেরোতে দেরি হয়ে যায়। সেঁজুতি ফোন করে মাকে জানায় ফিরতে দেরি হবে, এইসবে অফিস থেকে বেরিয়েছি, চিন্তা করবে না। একটু ফাঁকা একটা বাসে উঠে পড়ে, কিন্তু প্রচন্ড জ্যাম হওয়ায় বাস থেকে নেমে পড়ে, একটু হেঁটে এগিয়ে আসে চোরাস্তার মোড়ে, ওলা বুক করতে চেষ্টা করছে এমন সময় একটা গাড়ি এসে থামে।


পর্ব ২২

স্বয়ম্ভূকে দেখে একটু অবাক হয়ে যায়, বলে তুমি এখানে? স্বয়ম্ভূ: অফিসের কাজে এসেছিলাম , উঠে পড়ো। সেঁজুতি একটু ইতস্তত বোধ করে, স্বয়ম্ভূ একটু গম্ভীরভাবে বলে উঠে পড়ো, এখানে বেশিক্ষণ গাড়ি দাঁড়িয়ে থাকলে পুলিশ কেস দিয়ে দেবে। সেঁজুতি উঠে বসে সিট বেল্ট বেঁধে নিয়ে বলে কেমন আছো?
স্বয়ম্ভূ: বাড়ি, অফিস নিয়ে চলছে জীবন, তোমার নতুন চাকরি কেমন লাগছে? বাবার মুখে সেদিন শুনে ভালো লাগলো, তোমাকে ফোন করি নি, কারণ তুমি তো চাও না আমি যোগাযোগ রাখি, তুমি আমাকে খবরটা নিজের মুখে দেবে সেই সৌভাগ্য আমার কোথায়? সেঁজুতি: না না সেরকম কিছু না, ভুল বুঝনা, বাবাকে নার্সিংহোমে নিয়ে যেতে হয়েছিল, অফিসে জয়েন করার সময় আবার ডকুমেন্ট চেকিং হয়েছে, কাউকেই সেইভাবে খবর দেওয়া হয় নি। বাকি পথটুকু দুজন প্রায় চুপচাপ আসে, সেঁজুতির মনে মনে খারাপ লাগছিল, কিন্তু ইচ্ছা করেই স্বয়ম্ভূর সঙ্গে যোগাযোগ করে নি, তবে স্বয়ম্ভূকে দেখে খুব ক্লান্ত মনমরা মনে হয়।বাড়ির কাছে এসে গেলে স্বয়ম্ভূকে সেঁজুতি বলে চলো একটু চা খেয়ে যাবে, স্বয়ম্ভূ: না, অন্য কোনো দিন, ভালো থেকো, কোনো সময় অসুবিধা হলে অবশ্যই জানাবে। বাড়িতে ফিরে মাকে স্বয়ম্ভূর কথা কিছু জানায় না , সোফায় চা নিয়ে বসে,উৎসব বাবু সাত্যকি বাবুকে অফিসের কাজে ফোন করেছিলেন, হঠাৎ বলে সেকি সাত্যকির হাতে চোট লেগেছে, একটা এক্স রে করিয়ে নিতে হবে,কি বিপদ, বাড়িতে ফিরে এমন ঘটনা ঘটল!! সেঁজুতি: কি হয়েছে স্বয়ম্ভূ দার? আজ জ্যাম ছিল আমি হেঁটে এগিয়ে আসি তখন স্বয়ম্ভূ শর্টকাট রাস্তায় পৌঁছে দিয়ে গেছে। ‌উৎসব বাবু: গ্যারেজের সামনে হঠাৎ একটা বেড়াল এসে যায়, কাটাতে গিয়ে হাতে লেগেছে। সেঁজুতি তৎক্ষণাৎ স্বয়ম্ভূকে ফোন করে, স্বয়ম্ভূ হেসে বলে কিছু হয় নি,হাতে একটু লেগেছে,বরফ দিচ্ছি। সেঁজুতি: একটা এক্স রে করিয়ে নিতে হবে। স্বয়ম্ভূ: ধুর,পাশ থেকে চম্পা দেবী বলেন সেঁজুতি ঠিক কথাই বলেছে,এক্স রে করিয়ে নেব চল এখনো ক্লিনিক খোলা রয়েছে। স্বয়ম্ভূ: কোনো দরকার নেই, সেঁজুতি তুমি আর মায়ের মাথাটা খারাপ করে দিও না , আমার কিছু হয় নি, এখন রাখছি সাময়িক এই যন্ত্রণার থেকে অনেক বেশি কষ্ট সহ্য করতে আমি অভ্যস্ত হয়ে গেছি। ফোনটা কেটে যায়। উৎসব বাবু পাশ থেকে কিছুটা হলেও কথাগুলো শুনেছিলেন, বললেন চল একসাথে একবার যাই, না হলে হয়তো এক্সরে করাবে না, আমার শরীর খারাপের সময় অনেক করেছে ছেলেটা,আর দেরি করলে ক্লিনিক বন্ধ হয়ে যাবে। বাসবী দেবী বললেন সেই ভালো তোমরা যাও একবার,ওর মা বলছিলেন বড়ো বেশি জেদী ছেলে। সেঁজুতি: হুম,চলো তবে, আমিও দেখি কে বেশি জেদী!
সময় নষ্ট না করে ওরা রওনা দেয়, মিনিট পনেরোর মধ্যে সেঁজুতিরা পৌঁছে গেলে স্বয়ম্ভূ অবাক হয়ে বলে একি তোমরা! আমি XRAY করাবো না । সেঁজুতি: করাবে না মানে? চলো এখনি ‌। সাত্যকি বাবুকে সেঁজুতি বলে আপনি গাড়ি বার করুন, সাত্যকি বাবু: হ্যাঁ, আমি এখনি যাচ্ছি মা, স্বয়ম্ভূ: কোনো মানে হয়, যত্তসব। মায়ের, তোমার অকারণ টেনশন দূর করতে এখন আবার যেতে হবে! সেঁজুতি: কথা না বাড়িয়ে চলো ক্লিনিকে। মিনিট দশেকের মধ্যে পৌঁছে যায়, ডাক্তারের প্রেসক্রিপশন নিয়ে এক্সরে করিয়ে ঘন্টা খানেক পর স্বয়ম্ভূদের বাড়িতে পৌঁছায়। চম্পা দেবী সেঁজুতিকে বলে দেখছিস তো আমার পাগল ছেলেটাকে, তুই এবার সামাল দে, আমি আর পারছি না। সেঁজুতি, স্বয়ম্ভূর চোখাচোখি হতে, স্বয়ম্ভূ:ওফ তোমরা থামবে, সেঁজুতি তোমার অফিস আছে তো কাল, মায়ের বাজে কথা না শুনে বাড়িতে যাও। সেঁজুতি: আপনি জ্বালাতন কম করলেই উনি বলবেন না, রিপোর্ট কি হলো অবশ্যই জানাবে,আমরা আসছি এখন। উৎসব বাবু (অল্প হেসে): বৌদি, আপনি চিন্তা করবেন না, আমার মেয়ে খুব ভালো শাসন করতে পারে, এখন তো চাকরিটা হয়ে গেছে,অতএব স্বয়ম্ভূকে উপযুক্ত শাসনে রাখার দায়িত্ব দেওয়া যেতেই পারে। সাত্যকি বাবু (হা হা):সব কিছুর একটা পজিটিভ দিক থাকে, ভাগ্যিস স্বয়ম্ভূর হাতে চোট লেগেছে, সেই চোট অন্য মাত্রা নিয়েছে।হা,হা,কি বলো সেঁজুতি মা। সেঁজুতি চুপ করে থাকে,কারণ স্বয়ম্ভূর জন্য ওর সত্যি খুব কষ্ট হচ্ছিল কেন বুঝতে পারছিল না।তাই চুপ করে থাকে। স্বয়ম্ভূ,মাথার চুল ঝাঁকিয়ে বলে, বাবা হাসি থামিয়ে ওনাদের বাড়ি পৌঁছে দাও।


পর্ব ২৩

বাড়িতে ফিরে উৎসব বাবু, বাসবী দেবীকে বলেন হাতটা একটু ফুলেছে,চিড় ধরেছে বলে মনে হয় না, সেঁজুতি কোনো কথা বলে না। রাতে খাবার টেবিলে উৎসব বাবু বলেন,দেখ মা আমার শরীরের অবস্থা ভালো নয় , তুই আর না বলিস না, এখন চাকরি পেয়েছিস, বেসরকারি হলেও সিস্টেম ভালো, বিয়ের পর ও অন্যান্য চাকরির জন্য করতে পারবি, ওরা শিক্ষিত ফ্যামিলি। সেঁজুতি: তোমরা যা ভালো বোঝো করো। বাসবী দেবী (হেসে): আমরা তো সব সময় তোর ভালো ভবিষ্যতের কথা চিন্তা করে এসেছি। ভগবান যা করেন মঙ্গলের জন্য। সেঁজুতি কথা না বাড়িয়ে হাত ধুয়ে ওপরে নিজের ঘরে এসে বসে
। কি মনে হয় মোবাইল নিয়ে স্বয়ম্ভূকে ফোন করে, স্বয়ম্ভূ ফোন রিসিভ করে বলে আমি ঠিক আছি, অল্প যন্ত্রণা হচ্ছিল, ডাক্তারবাবুর পেন কিলার খেতে ঠিক হয়ে গেছে, তুমি টেনশন করো না, একটু থেমে, মায়ের কথায় কিছু মনে করো না, আমি একমাত্র সন্তান তাই ঐভাবে তোমায় বলেছেন। সেঁজুতি: হুম, আমি বুঝতে পেরেছি, নিজের খেয়াল রাখবে, নিজেকে একটু ভালোবাসতে শিখো, স্বয়ম্ভূ (হেসে): ভাগ্যিস আমার হাতের চোট লেগেছে, নতুবা তোমায় এইভাবে পেতাম না। সেঁজুতি: আবার বাজে বকছো, ঘুমিয়ে পড়ো। রাতে সেঁজুতির ভালো ঘুম হয় না, স্বয়ম্ভূর মুখটা মনে পড়ে যেন…পরদিন বিকালে এক্সরে রিপোর্টে অল্প স্পট পাওয়া যায়, সাময়িকভাবে প্লাস্টার করে দিয়ে ডাক্তার বাবু বলেন চিন্তার কিছু নেই, দুসপ্তাহ পর খুলে দেবো। স্বয়ম্ভূ , সেঁজুতিকে প্লাস্টার সমেত সেল্ফি পাঠায়, সেঁজুতি তখনো অফিসে,লাভ রিপ্লাই দেয় অজান্তেই, আনমনে বলে সত্যি আমি কি চাই আমি নিজেই জানি না, স্বয়ম্ভূর জন্য এতো অনুভূতি কেন আমার !!!!

পর্ব ২৪

রাতে বাসবী দেবী খাবার দিতে দিতে বলেন সেঁজুতি চাকরি পেয়েছে, একদিন সাত্যকি বাবুদের খেতে বলে দি, ওনারা কালী পুজো বাড়িতে আমাদের খুব যত্ন করেছেন। সেঁজুতি চুপ করে খেতে থাকে,ওর বুঝতে অসুবিধা হয় না মা চাইছে স্বয়ম্ভূর সাথে ওর আবার যোগাযোগ হোক। উৎসব বাবু: হ্যাঁ, ঠিক বলেছ গিন্নি,ঐ দিন ভাবছি দুজনের রেজিষ্ট্রির কথা বলে নেবো, সেঁজুতি যতই মুখে না বলুক, সেদিন স্বয়ম্ভূর চোট হওয়ায় ওর মুখে চোখে দুচিন্তা ,ওর দিকে তাকিয়ে আমি বুঝতে পেরেছিলাম আমার মেয়ের মনে স্বয়ম্ভূ ছাড়া আর কেউ নেই। সেঁজুতি: উফ্ বাবা, তুমি কি শুরু করলে? সেদিন তুমি বললে বলেই তো আমরা গিয়েছিলাম ওদের বাড়িতে, একটা মানুষকে সুস্থ সবল দেখলাম তার মিনিট দশেক পর যদি ঐ রকম খবর পাই তখন চিন্তা হওয়াটাই স্বাভাবিক! বাসবী দেবী: খুব হয়েছে,আর কোনো কথা বলতে হবে না, আমি চম্পা দেবীকে ফোন করে রবিবার আসতে বলে দিচ্ছি, তুমি তোমার নতুন চাকরি মন দিয়ে করো,আমরা যা ব্যবস্থা করে নেবো, তুমি যেহেতু অন্য কোনো সম্পর্কে জড়িয়ে পড়োনি তখন যে ছেলেটা বা তার পরিবার তোমার শুভাকাঙ্ক্ষী সেখানেই তোমার বিয়ের ঠিক করতে চাইছি,এর মধ্যে কোনো জটিলতা নেই, কাল অফিস আছে, খেয়ে উঠে পড়ো। মুখ ভার করে সেঁজুতি হাতমুখ ধুয়ে নিজের ঘরে চলে যায়, সামনের রাস্তায় তাকিয়ে দেখে দুটো ছেলে মেয়ে পরষ্পরের হাত ধরে হাঁটছে, সেঁজুতি নিজের মনে পায়চারি করতে থাকে, একটু পরে মোবাইলে অ্যালার্ম দিয়ে শুয়ে পড়ে, রাতে স্বপ্নে দেখে স্বয়ম্ভূ হেসে বলছে কি ম্যাডাম কেমন জব্দ করেছি, ঘুম ভেঙে দেখে ভোর হয়ে গেছে,কি মনে হয় মোবাইলে নেট অন করে দেখে স্বয়ম্ভূর নেট অন,লিখছে, তোমায় খুব দেখতে ইচ্ছে করছে,I can’t control my self,I don’t know why? Is it possible? সেঁজুতি: হুম, রবিবার মা নিমন্ত্রণ করবে তোমাদের,এই কটাদিন সবুর কর, নিজের খেয়াল রেখো। স্বয়ম্ভূ: রবিবার তুমি বাড়িতে থাকবে তো? মানে বিরক্ত হবে না তো? সেঁজুতি: একপ্রকার জোর করেই যখন আমার মনটাই দখল করে নিয়েছ তো আর বিরক্ত হয়ে কি হবে।লিখেই ম্যাসেজ ডিলিট করতে গিয়ে দেখে ম্যাসেজ রিড, নিজের মনে বলে কি লিখতে চাইছি আর কি লিখছি…

পর্ব ২৫

রবিবার স্বয়ম্ভূদের জন্য বিভিন্ন ধরনের রান্না করতে ব্যস্ত বাসবী দেবী, সেঁজুতি সহায়তা করতে গেলে বাসবী দেবী বলেন মাংসের প্রিপারেশনটা তুই কর, বাকিগুলো আমি করে নেবো। লুচি খেতে ছেলেটা ভালোবাসে, রাতে গরম গরম ভেজে দেবো। রান্নাঘরের কাজ সেরে সেঁজুতি স্নানে যায়, ফ্রেশ হয়ে এসে দেখে স্বয়ম্ভূর ম্যাসেজ আজ আসছি তোমায় জ্বালাতন করতে,হা হা… ম্যাসেজ পড়ে নিজের মনে হেসে ফেলে সেঁজুতি, রিপ্লাই দেয় সবাইকে নিয়ে এসো। সন্ধ্যায় ওরা এসে পৌঁছায়, সাত্যকি বাবু বলেন আজ জমিয়ে গল্পো হবে, জলখাবার খেতে খেতে সবাই গল্পে মেতে উঠেছে, এমন সময় চম্পা দেবী বলেন স্বয়ম্ভূ তোর অফিসের কাজ যদি থাকে ফোনে সেরে নিতে পারিস, আমাদের কিন্তু তাড়া দিবি না। বাসবী দেবী বলেন স্বয়ম্ভূ এখন হাত কেমন আছে? স্বয়ম্ভূ: সেই রকম ভাবে কোন অসুবিধা নেই, বাসবী দেবী: খুব ভালো, তোমরা ভালো থাকলেই আমরা নিশ্চিন্ত হই,সেঁজুতির দিকে তাকিয়ে, সেঁজুতি মা উপরের ঘরে নিয়ে যা স্বয়ম্ভূকে,ওর কাজ সম্পূর্ণ করে নিক, তারপর রাতের খাবারের ব্যবস্থা করবো। সেঁজুতি, স্বয়ম্ভূর চোখাচোখি হলে, স্বয়ম্ভূ বলে অসুবিধা নেই আমি এখানেই বসছি। সেঁজুতি: না উপরের ঘরে আসুন, বাবারা গল্প করছে করুক। স্বয়ম্ভূর মুখে সপ্রভিত হাসির ঝলক ফুটে উঠলেও, গম্ভীর হয়ে বলে ওকে। উপরে উঠে সেঁজুতি নিজের ঘর, বারান্দা দেখালে বারান্দায় বসে নেট অন করে কাজ শুরু করে দেয়, প্রায় কুড়ি পঁচিশ মিনিট কাজ করে চলে একমনে, সেঁজুতি একটু অবাক হয়, একবারের জন্য স্বয়ম্ভূ ওকে দেখছে না। কফির কাপ সামনে বসালে, অল্প হেসে বলে জাস্ট ফাইভ মিনিটে হয়ে যাবে, তুমি শুরু করো… কাজ শেষ করে আমি নিচ্ছি। অগত্যা কফির কাপ মুখে নিয়ে স্বয়ম্ভূকে লক্ষ্য করতে থাকে।কাজ শেষ করে কফির কাপটা নিজের দিকে টেনে নিয়ে স্বয়ম্ভূ সেঁজুতিকে বলে কি মনে হয়,আজ আমাদের ব্যাপারে কোনো আলোচনা হবে ওদের মধ্যে? অপ্রভিত সেঁজুতি: কি করে বুঝবো, আমরা তো এখানে। স্বয়ম্ভূ সেঁজুতির দিকে এগিয়ে এসে ঠোঁটে হাত দিয়ে কফি মুছে আলতো ভাবে হাত বুলিয়ে বলে তোমাকে খুব মিষ্টি দেখতে লাগছে,এই সহজ সরল মানুষটাকে ভালো না বেসে থাকবো কি ভাবে, মানে বাঁচবো কি ভাবে? সেঁজুতি অপ্রত্যাশিত এই মুহূর্তের জন্য প্রস্তুত ছিল না, আস্তে আস্তে বলে কি করছো,কেউ এসে পড়লে কি ভাববে! স্বয়ম্ভূ: ওরা সবাই চাইছে আমরা কাছে আসি, একসাথে ভালো থাকি, শুধু তুমি চাইছ না। সেঁজুতি: ধ্যাৎ স্বয়ম্ভূ সেঁজুতির হাত চেপে ধরে বলে সত্যি কি তুমি চাও না আমি তোমার কাছে আসি… সেঁজুতি: জানি না, কফি খাও। স্বয়ম্ভূ প্রসঙ্গ পরিবর্তন করে বলে নতুন চাকরি কেমন লাগছে? সেঁজুতি একটু থিতু হয়ে উত্তর দেয়: ভালো,কাজ বুঝে নিঁখুতভাবে করতে চেষ্টা করছি। স্বয়ম্ভূ: কাজ কমপ্লিট করতে চেষ্টা করবে। হালকা হাওয়ায় সেঁজুতির চুল এলোমেলো হয়ে যায়, দুজনের মনের মাঝে যেন একটা ভালোলাগা কাজ করে।


পর্ব ২৬

রাতে খাবার টেবিলে সেঁজুতি মাকে সহায়তা করছে দেখে চম্পা দেবী বলেন বড়ো ভালো মেয়ে তোমার, যেখানেই যাক সুখী হোক। সাত্যকি বাবু: এসব কি বলছ গিন্নি, আমাদের বাড়িতে গেলে তবেই তো সুখী হবে, নিজের ছেলের মন বুঝে উঠতে পারলে না! চম্পা দেবী: হ্যাঁ, আমরা তো সবাই তাই চাইছি। বাসবী দেবী: মেয়ের মনেও রঙ লেগেছে দিদিভাই, একটু লাজুক আমার মেয়ে, তবে মাকে কি ফাঁকি দেওয়া যায়! মায়ের কথা ঠিক শুনবে, স্বয়ম্ভূর দিকে তাকিয়ে, তবে ভালো করে খাওয়া দাওয়া করো, একমাত্র সন্তান, বিয়ের অনুষ্ঠানের অনেক কাজ,দুই বাড়িতে দরকারে তোমাকেই খুঁজবো। উৎসব বাবু হেসে বলেন ঠিক বলেছ গিন্নি। বাসবী দেবী: আপনারা কি বিয়ে, রেজিষ্ট্রি একইদিনে করতে চাইছেন? চম্পা দেবী: রেজিষ্ট্রেশন এর দরখাস্ত করতে হবে, আমার মনে হয় এদের ছুটির সমস্যা যখন একইসাথে করে নেওয়া ভালো। বিয়ের প্রস্তুতির কথা এগোতে থাকে, স্বয়ম্ভূর চোখে অদ্ভুত এক আনন্দ আবেশ ধরা পড়ে, বাড়ি থেকে বেরোনোর সময় সেঁজুতিকে সাত্যকি বাবু বলেন আজ আমার ছেলেটা নিশ্চিন্ত মনে ঘুমাতে পারবে বুঝেছ মা, তোমরা সুখী হও। সেঁজুতি সবাইকে প্রণাম করছে দেখে স্বয়ম্ভূও প্রণাম করে। উৎসব বাবু বলেন স্যার আজ সত্যিই খুব ভালো লাগছে, এখন কাজে উদ্যম ফিরে পাবো। ওরা চলে যাওয়ার পর বাসবী দেবী উৎসব বাবুকে বলেন প্রাথমিকভাবে কথাবার্তা আজ হয়েছে, বিয়ের তারিখ আমি স্বয়ম্ভূর মায়ের সঙ্গে কথা বলে ঠিক করে নেবো, ওনারা খুব দেরি করতে চাইছেন না, তুমি অফিসে সাত্যকি বাবুর সঙ্গে আলোচনা করে নিও। স্বয়ম্ভূ রাতে ম্যাসেজ করে, সেঁজুতি বিয়ের পর তোমার চাকরির ক্ষেত্রে কোনো অসুবিধা হবে না, এইটুকু বলতে পারি,আর এই অধমকে মাঝে মধ্যে সময় দিও। দুজনের মধ্যে সুন্দর সুসম্পর্ক তৈরি হয়।প্রায় এক সপ্তাহ পর একদিন অফিস থেকে স্বয়ম্ভূ ফোন করে বলে একসাথে আজ বেরোবো, তোমার মাকে ফোন করে অনুমতি নিয়েছি, কিছু কেনাকাটা করবো। সেঁজুতি হেসে সন্মতি জানিয়ে বলে, খুব মন কেমন করছে বুঝি? স্বয়ম্ভূ: খুউউউব… অফিস থেকে বেরোনোর আগে চুল বেঁধে হাল্কা লিপস্টিক দিয়ে নেয়, নিজের মনে হেসে বলে সেঁজুতি ডেটিং? ভাবতে পারছি না,পাশ থেকে নীতা হেসে বলে যাও বেরিয়ে পড়ো, স্বয়ম্ভূ দা অস্থির হচ্ছে। ওরা একসাথে কিছুটা শপিং করে, রেস্টুরেন্টে যায়। স্বয়ম্ভূ: আমি শুনেছি বিয়ের আগে এই সময়টা সব থেকে সুন্দর, আমাদের বিয়ের মাস তিনেক বাকি, এইভাবে মাঝে মধ্যে দেখা করতে চাই, সেঁজুতি হেসে অল্প মাথা নেড়ে সম্মতি জানায়।দুই বাড়িতে বিয়ের কাজ এগিয়ে চলছে, একদিন স্বয়ম্ভূ সকালে ফোন করে বলে,আজ একসাথে কিছু কাজ সারবো, মায়ের পায়ে ব্যাথা তাই তোমাকে সময় দিতে বলছি, অফিস থেকে ছুটি নাও। সেঁজুতি: এইভাবে হঠাৎ করে ছুটি নেব… অগত্যা স্বয়ম্ভূর জোরাজুরিতে রাজি হতেই হয়। স্বয়ম্ভূ নিজের গাড়ি নেওয়ায় বেশ কিছু কাজ, শপিং মিটিয়ে ওরা রেস্টুরেন্টে যায়। খাবার অর্ডার দিয়ে সেঁজুতি চেয়ারে ব্যাগ রেখে ওয়াশরুমে যায়, ফিরে এসে দেখে এক মহিলা স্বয়ম্ভূর গলা পেছনে থেকে জড়িয়ে ধরেছে। সেঁজুতির মাথাটা গরম হয়ে যায়, বলে ওঠে কি হচ্ছে পাবলিক প্লেসে? স্বয়ম্ভূ একটু অপ্রস্তুত হয়ে বলে আমরা একসাথে ইঞ্জিনিয়ারিং পড়েছি, এগুলো নর্মাল ব্যাপার, তুমি হাইপার হচ্ছো কেন? মেয়েটি বলে তোমার টেনশন নেই, আমি বিবাহিত। সেঁজুতি: আপনি বিবাহিত না অবিবাহিত আমার জানার দরকার নেই, আমি আমার মায়ের শিক্ষায় মানুষ হতে পেরেছি বলে মনে হয়। মেয়েটি বলে আজ আসি, তোমাদের বিয়েতে দেখা হবে। স্বয়ম্ভূ মুখচোখ লাল হয়ে ওঠে, সেঁজুতির কাঁধ ঝাঁকিয়ে বলে ওর নাম তৃণা, ওদের প্রেম করে বিয়ে, আমার প্রেমের গল্প শুনে জড়িয়ে ধরেছিল,আর তুমি এইভাবে ভুল বুঝলে, তুমি নিজেকে কি মনে করো, এতো ঔদ্ধত্য, অবিশ্বাস কেন? তুমি জানো আমার হাতের চোট পাওয়াটা আমার ইচ্ছাকৃত, শুধু তোমাকে পাবার জন্য,আর তুমি ছি, ছি… এরপর খাবার এসে যায়, সেঁজুতি আশপাশে তাকিয়ে বলে সিনক্রিয়েট করো না,আর তুমি ইচ্ছে করে হাতে চোট পেয়েছ, আমি জাস্ট ভাবতে পারছি না। এরপর দুজনে চুপচাপ খেতে থাকে, স্বয়ম্ভূ: কিছু বলার আগে একটু ভেবে দেখবে। সেঁজুতি গম্ভীর হয়ে বলে বিয়ের তারিখ ঠিক হয়ে গেছে, সেই অনুযায়ী ছুটির দরখাস্ত করতে হবে। তবে বিয়ের আগে আর না দেখা হলেই বোধহয় দুজনের সম্পর্কটা ভালো থাকবে। আমাদের সঙ্গে দুই বাড়ির সুসম্পর্ক নির্ভর করছে।বিল মিটিয়ে স্বয়ম্ভূ বলে ব্যাগগুলো গুছিয়ে নাও, তোমার ইচ্ছার বিরুদ্ধে আমি কখনো কিছু করতে চাই না, তুমি যদি দেখা করতে না চাও, তবে আজ ফেরার পথে আর কিছুটা শপিং সম্ভব কি? সেঁজুতি সন্মতি জানায়। বাড়িতে ফিরতে একটু দেরি হয়ে যায়, ফেরার পথে স্বয়ম্ভূ সেঁজুতির হাতে হাত রেখে বলে তোমার জন্য আমি সবকিছু করতে পারি। সেঁজুতি: একটু নিজের যত্ন করতে শেখো।

Pages: 1 2 3 4 5 6 7 8

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *