দ্বিধা (পর্ব ৯ – ১৫)
পর্ব ৯
কিছুটা সময় ওরা আড্ডা দিয়ে কাটায়, তারপর সেঁজুতি বলে এবার বাড়ি ফিরতে হবে,স্বয়ম্ভূ: আমি পৌঁছে দেব। সেঁজুতি: না, মাকে বলে আসিনি তোমার সঙ্গে দেখা করতে এসেছি, আমি বাসে ফিরে যাবো।স্বয়ম্ভূ: আমি একটু দূরে নামিয়ে দেব,আর বাইক যেভাবে চালাই, তোমার অসুবিধা হয় না আশা করি। সেঁজুতি একটু লজ্জিত হয়ে যায়, বলে ঠিক আছে, আপনার ইচ্ছা আপনি পূরণ করতে পারেন ভালোই।স্বয়ম্ভূ বিল মিটিয়ে হা হা করে হেসে ওঠে। ওরা দুজনে একসাথে বাইকে ফেরার সময় সেঁজুতি মনে মনে যেন স্বয়ম্ভূর প্রতি দূর্বলতা অনুভব করে, স্বয়ম্ভূ বাড়ি থেকে একটু দূরে নামিয়ে দিয়ে বলে আজ আসি, মাঝে মাঝে যদি দেখা হয় ভালোলাগে অফিস আর বাড়ির মাঝে যেন হাঁফ ধরে। সেঁজুতি: ভালো চাকরির জন্য কত ছেলেমেয়েরা হন্যে হয়ে ঘুরে বেড়াচ্ছে,ঐ ভাবে বলো না,আসছি এখন। একটু হেসে স্বয়ম্ভূ বেরিয়ে যায়, সেঁজুতি বাড়িতে ফিরে আসে। বন্ধুদের আড্ডায় স্বয়ম্ভূ পৌঁছাতেই মাধব বলে কিরে কতটা এগিয়েছে তোর প্রেম? স্বয়ম্ভূ : সিগারেটে একটান দিয়ে বলে চালাক মেয়ে, তবে ধরা ওকে দিতেই হবে।রাতে খাবার টেবিলে মা জিজ্ঞেস করে আমার ওষুধটা এনেছিস? সেঁজুতি, একদম ভুলে গেছি মা , কাল এনে দেব। খাবার পর বারান্দায় এসে দাঁড়িয়ে কি যেন একটা অস্বস্তি অনুভব করে,নিজের ঘরে এসে ল্যাপটপ খুলে বসে ,দু জায়গায় ইন্টারভিউ নোটিশ দেখতে পায়, একটা লিখিত পরীক্ষার ফর্ম পূরণ করতে করতে বলে আজকের ভুল যেন আর কখনো না হয়, ঠিক সেই সময় স্বয়ম্ভূর ম্যাসেজ, কোনো রিপ্লাই দেয় না সেঁজুতি, স্বয়ম্ভূর ক্রমাগত ম্যাসেজ আসছে দেখে, শুধু লেখে একটু ব্যস্ত আছি, স্বয়ম্ভূর একটু রাগ হয়, ফেসবুকে নিজের ক্যাফেটেরিয়ার একটা ছবি পোস্ট করে লেখে একা ছিলাম,একা থাকবো…. প্রচুর কমেন্ট আসতে থাকে,খানিকক্ষণ নেট সার্ফিং করার পর খাতায় কোন কোন পরীক্ষা দিতে পারবে একটা লিস্ট বানিয়ে নেয়, স্বয়ম্ভূর পোস্ট নোটিফিকেশনে দেখে বলে ওঠে পুরো ফিল্মি, বড়োলোকের বেগড়ানো সন্তান, মানে লেগেছে…সমস্যায় পড়লে তখনই এইসব নাটক বন্ধ হয়ে যাবে! তারপর নেট অফ করে, মোবাইলে অ্যালার্ম দিয়ে ঘুমিয়ে পড়ে।
পর্ব ১০
স্বয়ম্ভূ হাল না ছেড়ে ক্রমাগত ম্যাসেজ করে সেঁজুতিকে, আরেকদিন বাড়িতে অফিসে থেকে ফেরার পথে দেখা করে যায়। সেঁজুতি মনে মনে একটু দূর্বল হয়ে পড়লেও স্বয়ম্ভূর সামনে প্রকাশ করে না। রেজাল্টের সময় যত এগিয়ে আসে সেঁজুতির টেনশন বাড়তে থাকে, স্বয়ম্ভূ রেজাল্টের আগেরদিন ম্যাসেজ পাঠায়, ভালো রেজাল্ট হলেও তুমি আমার না হলেও আমারই থাকবে । সেঁজুতি রিপ্লাই দেয় আমাকে জ্বালাতন করা ছাড়া তোমার অফিসে কোনো কাজ নেই!! পরদিন রেজাল্ট আউট হয়,সেঁজুতি ফার্স্ট ক্লাস পায়, রেজাল্টের ফটো স্বয়ম্ভূর ফোনে একটু ইতস্তত করে পাঠিয়ে দেয়। স্বয়ম্ভূ ফোন করে বলে আমি জানতাম আমার সেঁজুতি ভালো রেজাল্ট করবেই,কি বলবে ভেবে না পেয়ে বলে পাগলামির ওষুধ কি? স্বয়ম্ভূ: শুধু তুমি… ছেলের মন বুঝে স্বয়ম্ভূর মা চম্পা দেবী সাত্যকি বাবুর সঙ্গে আলোচনা করলে,সাত্যকি বাবু বলেন সেঁজুতি খুব ভালো মেয়ে, খুব সুন্দর হবে।হঠাৎ একদিন স্বয়ম্ভূর মা চম্পা দেবী ফোনে বলেন আমাদের দেশের বাড়িতে কালি পুজোতে তোমরা সবাই এসো। বাসবী দেবী এই বিষয়ে বাড়িতে আলোচনা করলে উৎসব বাবু বলেন,স্যার আগেই আমাকে বলেছেন,চলো গিন্নি অনেকদিন কোথাও যাওয়া হয় নি, একটু ঘুরে আসি। সেঁজুতি: তোমরা চলে যাও,ঐ দিন আমার একটা ইন্টারভিউ আছে, আমি যেতে পারব না,তনুকাকে ডেকে নেব, অসুবিধা হবে না। বাসবী দেবী: ওনারা আমাদের অসময়ে অনেক করেছেন,কেউ না গেলে খারাপ দেখায়,দেখ যা ভালো বুঝিস।স্বয়ম্ভূর মা আবার ফোন করলে বাসবী দেবী সেঁজুতির ইন্টারভিউ এর কথা জানান,চম্পা দেবী বলেন, কোনো অসুবিধা নেই, আমি স্বয়ম্ভূকে বলবো সেঁজুতির ইন্টারভিউ হলে ওকে নিয়ে দেশের বাড়িতে চলে আসবে। সেঁজুতির মার মনে হয়, স্বয়ম্ভূর বাড়িতে সবাই সেঁজুতিকে চাইছে, উৎসব বাবুকে বললে উনি খুশি হয়ে বলেন তাহলে তো খুব ভালো হবে, আমাদের চিন্তা করার কিছু নেই,অতো ভালো মানুষ, ভালো ফেমিলি পাওয়া এখনকার দিনে সৌভাগ্য… সেঁজুতিকে রাতে খাবার টেবিলে বাসবী দেবী বলেন স্বয়ম্ভূ তোকে গাড়িতে নিয়ে দেশের বাড়িতে যাবে, তুই না করিস না মা… সেঁজুতি চুপ করে থাকে, খাবার পর বারান্দায় এসে দাঁড়িয়ে ভাবে, দূরে গাছের পাতায় হালকা হাওয়ায় ঝিরঝিরে একটা শব্দ, একটা মৃদু মাতাল করা গন্ধ যেন মন কেমনের প্ররোচনা দিচ্ছে,
ছেলেরা কি যা পেতে চায় যেভাবেই হোক হাসিল করেই ছাড়ে… একটা প্রশ্ন মাথায় ঘোরাফেরা করছে, একটু পর ঘরে এসে বসে মোবাইল হাতে নিয়ে দেখে স্বয়ম্ভূর ম্যাসেজ তোমায় আমি ছাড়ছি না,থাকবো সাথে দুজনা….
পর্ব ১১
লিখিত পরীক্ষার রেজাল্ট এর প্রিন্ট নিয়ে, নিজের যাবতীয় ডকুমেন্ট রেডি করে নিতে থাকে সেঁজুতি, বাসবী দেবী বলেন পুজো বাড়িতে তোর পরবার জন্য শাড়ি নিয়ে নিচ্ছি, তুই ঠিক ভাবে ইন্টারভিউ দিবি আমি জানি, যেহেতু স্বয়ম্ভূ থাকছে আমাদের চিন্তা নেই। সেঁজুতি: খুব সহজেই মানুষকে বিশ্বাস করো কিভাবে? বাসবী দেবী: কয়েক মাস ধরে দেখছি ছেলেটিকে, ভালো চাকরি করে কিন্তু অহংকার নেই কত্ত ভদ্র ব্যবহার,ওর মায়ের ব্যবহার ও খুব ভালো, সবথেকে বড়ো কথা আমার মেয়েকে আমি বিশ্বাস করি , তোর বাবার শরীরটা হঠাৎ খারাপ হলো, এখন তোর চাকরি, বিয়ে ঠিক ভাবে দিয়ে দিতে পারলে আমরা নিশ্চিন্ত হই… সেঁজুতি: তোমাদের প্রতি আমার কিছু দায়িত্ব আছে মা, আমি যদি ছেলে হতাম তখন তোমরা এইভাবে ভাবতে পারতে? বাবার শরীর খারাপ, এখন আমার দায়বদ্ধতা অনেক বেশি, এতো কষ্ট করে মানুষ করেছ অন্যের হাতে তুলে দেওয়ার জন্য? এখন আমি আগে নিজের পায়ে দাঁড়াতে চাই,যাতে ভবিষ্যতে কারোর দয়া ভিক্ষা চাইতে না হয়, তোমাদের আশীর্বাদে যেন ইন্টারভিউ ক্লিয়ার করতে পারি, আমার ধ্যান, জ্ঞান সব এখন ঐ প্রেক্ষিতে,আর কোনো কিছু নিয়ে ভাবনা চিন্তা করতে পারছি না।
সেঁজুতি: তা নয় মা, আমরা চাই তুই সুখী হ, একটা সুন্দর স্বাভাবিক জীবন হোক তোর, চিরকাল কারোর বাবা মা থাকে না ,সব মায়েরা একই কথা ভাবে,সব সময় অত সিরিয়াস মুডে থাকিস কেন? ভালো পড়াশোনা করেছিস চাকরি নিশ্চিত পাবি,চল রাত হয়েছে খাবি চল….
পর্ব ১২
খুব ভোরে ঘুম থেকে উঠে পড়ে সেঁজুতি, সূর্যের নরম আলোর আভায় গাছগুলোর উপর পড়েছে, মনটা বেশ ভালো হয়ে যায়। মোবাইলে নেট অন করে নেট সার্ফিং করতে থাকে,হয়াটসঅ্যাপে স্বয়ম্ভূর ম্যাসেজ সব ডকুমেন্ট গুছিয়ে নিতে যাবে, টেনশন করবে না, হয়ে গেলে আমায় ফোন করবে। সেঁজুতি রিপ্লাই দেয় ঠিক আছে।স্নান করে ভগবানকে স্মরণ করে বলে, ঠাকুর কখনো কারো খারাপ চাই নি, কখনো কোনো খারাপ কাজ করি নি, লিখিত পরীক্ষার পর এই ইন্টারভিউ বোর্ডে যেন সিলেক্ট হি, আমি মা বাবার ভরসা, রক্ষা করো। অল্প ভাত খেয়ে, বাবা মাকে প্রণাম করে বেরিয়ে পড়ে, বাবা বলেন অবশ্যই ফোন করে জানাবি, টেনশন করবি না।পার্কস্ট্রিটে কম্পানিতে পৌঁছে ডকুমেন্ট সাবমিট করে ভেরিফিকেশন করাতে থাকে, স্বয়ম্ভূ একটু বেলায় ফোন করলে সেঁজুতি বলে ডকুমেন্ট ভেরিফিকেশন হয়ে গেছে , ইন্টারভিউ এর জন্য অপেক্ষা করছি, এখন চলছে কিছু জনের, আমি তোমাকে ফোন করে নেব। স্বয়ম্ভূ: ওকে….. প্রায় আধঘন্টা পর সেঁজুতির ডাক পড়ে, ইন্টারভিউ বোর্ডে পাঁচজন বসে আছেন, সাবজেক্ট রিলেটেড বিভিন্ন প্রশ্ন করতে থাকেন, সেঁজুতি একটু ভেবে উত্তর দিতে থাকে। একজন ভদ্রমহিলা জিজ্ঞেস করেন এরপর বিয়ে করতে হবে, তারপরও কি চাকরি করার ইচ্ছা আছে? সেঁজুতি: অবশ্যই ম্যাডাম, চাকরি করে আমি স্বাবলম্বী হতে চাই, বাবা মা এর খেয়াল রাখতে চাই সেক্ষেত্রে চাকরি নিশ্চিত হওয়া প্রয়োজন, আপনি নিজেও একজন মহিলা,এই বিষয়ে আমার সঙ্গে সহমত পোষণ করবেন। ভদ্রমহিলা ঘাড় নেড়ে সম্মতি জানান। প্রায় চল্লিশ মিনিট ইন্টারভিউ চলে, একজন অফিসার বলেন আপনাকে ইমেইল এ জানিয়ে দেওয়া হবে, তারপর ডাক পোস্টে চিঠি যাবে। সেঁজুতি সবাইকে নমস্কার জানিয়ে বেরিয়ে আসে।ব্যাগ থেকে জলের বোতল বার করে জল পান করে। তারপর মোবাইলে স্বয়ম্ভূকে ফোন করলে স্বয়ম্ভূ বলে মিনিট পনেরোর মধ্যে পৌঁছে যাবো।
পর্ব ১৩
সেঁজুতি ব্যাগ গুছিয়ে নিয়ে আস্তে আস্তে বেরিয়ে আসে, একটু এগিয়ে একটা কোল্ডড্রিংকস এর দোকানে গিয়ে কোল্ডড্রিংকস এ চুমুক দিতে দিতে ভাবে লিখিত, ইন্টারভিউ সব মিলিয়ে কিছুটা সন্তোষজনক পরিস্থিতি, চাকরিটা পেয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা খানিকটা হলেও আছে, ফোনটা বেজে ওঠে। স্বয়ম্ভূর ফোনটা ধরতে যাবে এমন সময় একটা ছেলে অশোভন ভাবে ধাক্কা দিয়ে পাশের দোকানে এসে দাঁড়ায়, সেঁজুতি রেগে গিয়ে চেঁচিয়ে উঠে বলে কি অসভ্যতা হলো, দেখে চলতে পারেন না,অন্ধ! পাশের ছেলেটা বলে আহারে খুউউউব লেগেছে, বলে দুজনে হ্যা হ্যা করে হেসে ওঠে, ঠিক সেই সময়ে স্বয়ম্ভূ এসে কলার চেপে ধরে,বলে কিরে কোন মায়ের ছেলে? বংশের ঠিক আছে তো? মেরে মুখ ভেঙে দেবো, আশেপাশের লোকজন বলে সত্যি এখনকার লোফারগুলোর জ্বালায় জীবন অতিষ্ট হয়ে উঠেছে। সেঁজুতি স্বয়ম্ভূর হাতটা টেনে ধরে বলে চলো এখান থেকে, ঝামেলা বাড়িয়ে লাভ নেই , চলো। স্বয়ম্ভূ: রাস্তাটা পেরোতে হবে , গাড়িটা সাইড করে তোমায় ফোন করছিলাম, তুমি ফোন তুলছনা দেখে এগিয়ে এসে দেখি,এই কান্ড, ভাগ্যিস আমি এসে পড়েছি… সেঁজুতি: রাস্তায় চলতে,বা চাকরি করি যদি সবসময় তুমি থাকবে কি করে বাঁচাতে, নিজেকেই শিখতে হবে…
পর্ব ১৪
কথা বলতে বলতে ওরা রাস্তা পেরিয়ে গাড়িতে গিয়ে বসে, স্বয়ম্ভূ সেঁজুতিকে বলে তোমার সঙ্গে ব্যাগে কি অরিজিনাল কপি আছে? তাহলে বাড়িতে রেখে বেরোবে? সেঁজুতি: একটা চাবি আমার কাছে থাকে কিন্তু দেরি হয়ে যাবে না? স্বয়ম্ভূ: পুজো শুরু রাতে, ঘন্টা তিনেকের পথ, তোমাদের বাড়ি থেকে সর্টকার্ট রাস্তায় মেন রোড ধরে নেব,চলো একটু স্পিডে যাই। সেঁজুতি চুপ করে সন্মতি জানায়,কারণ এই অরিজিনাল কপিগুলোই ওর সম্পদ। বেশ কিছু রোম্যান্টিক গানের কালেকশন স্বয়ম্ভূর, সেঁজুতি বাইরে রাস্তার দুপাশে বিল্ডিং, হকার, সবুজ পাতা দেখতে থাকে, স্বয়ম্ভূ আড়চোখে মাঝে মাঝে দেখছে বুঝতে পারে সেঁজুতি, কিন্তু বুঝতে দেয় না স্বয়ম্ভূকে। বাড়িতে পৌঁছে প্রায় এক ছুটে তালা খুলে অরিজিনাল কপিগুলো রেখে বেরোবে এমন সময় পাশের ফ্ল্যাটের সবিতা দি বলে ওঠে কোথায় যাচ্ছিস তোরা? সকালে কাকু কাকিমা বেরিয়ে গেল দেখলাম, এখন তুই… সবিতা দির চোখেমুখে কৌতুক দৃষ্টি দেখে সেঁজুতি অল্প হেসে বলে স্বয়ম্ভূ দার দেশের বাড়িতে পুজো আজ, আমার ইন্টারভিউ,ওর অফিসে কাজ ছিল তাই এখন যাচ্ছি, মায়েরা কাকু কাকিমার সাথে চলে গেছে। সবিতা দি: ভালোই আছিস তোরা… সেঁজুতি চোয়াল শক্ত করে অল্প হেসে বলে হ্যাঁ, বাবাকে হাসপাতাল থেকে সুস্থ ফিরিয়ে আনতে পেরেছি, বলতে পারো ভালোই আছি,আসি এখন, আমাদের জন্য চিন্তা করো না।
পর্ব ১৫
একটু এগিয়ে সেঁজুতি দেখে স্বয়ম্ভূ সিগারেটে ধরিয়েছে, কথা না বাড়িয়ে গাড়িতে বসে পড়ে, সেঁজুতি এসে গেছে দেখে সিগারেটটা ফেলে দিয়ে গাড়িতে উঠে স্টিয়ারিংয়ে স্টার্ট দিয়ে অল্প হেসে বলে অবশেষে বহু কাঙ্ক্ষিত সেই সময় এসে উপস্থিত হয়েছে, যেখানে একজন সুন্দরী মহিলা আমার পাশের সিটে বসে, উফ্ আমি ভাবতে পারছি না। সেঁজুতি: সুন্দরী কিনা জানিনা তবে কড়া ধাতের মহিলা,যে সিগারেট খাওয়া এবং রাফ ড্রাইভিং করলে বকা দিতে পারে। স্বয়ম্ভূ: সেই তো, আমি তো চাইছি আমায় শাসন করো, পেনড্রাইভে গান চলে
“ধাঁধার থেকেও জটিল তুমি,খিদের চেয়েও স্পষ্ট “
সেঁজুতি হেসে ফেলে বলে না ঘেন্না করি না। দুজনের কথা, সাথে গান চলতে থাকে। রাস্তায় দুধারে গাছের সারি, সেঁজুতির দুচোখে যেন ভালো লাগার আবেশ জড়িয়ে থাকে…ঘন্টা খানেক গাড়ি ড্রাইভ করার পর একটা ধাবায় গাড়ি সাইভ করে স্বয়ম্ভূ বলে এই ধাবার খাবার ভালো,চলো খুব খিদে পেয়েছে, আলুর পরোটা ভালো বানায় এরা, সেঁজুতিরও খিদে পেয়েছে কিন্তু একটু ইতস্তত করে বলে পুজোতো? স্বয়ম্ভূ : হুম, নিরামিষ, চিন্তা নেই। আলুর পরোটা, লস্যি অর্ডার দিয়ে, বাবাকে একবার ফোন করে খবর দেয়। খাওয়ার পর হঠাৎ সেঁজুতির একটা ছবি তুলে ওকে দেখালে, সেঁজুতি বলে,এমা লস্যির গোঁফ হয়েছে, তুমি ছবি তুললে কেন? খুব অসভ্য।
স্বয়ম্ভূ ন্যাপকিন দিয়ে মুখটা মুছে বলে,চলো একসাথে একটা সেল্ফি তুলি… দুজনের মনটা বেশ ভালো হয়ে যায়। গাড়িতে উঠে স্বয়ম্ভূ বলে এরকম টেনশন ফ্রি একটা দিন অনেক অপেক্ষার প্রহরের পর আজ আমার কাছে, সেঁজুতি মাথা নেড়ে সম্মতি জানায়। হাইওয়েতে জ্যাম থাকায় ওদের পৌঁছতে সন্ধ্যা সাতটা বেজে যায়। চম্পা দেবী সরবত দিয়ে হেসে জিজ্ঞাসা করলেন আমার ছেলেটা ড্রাইভার হিসাবে কেমন? সেঁজুতি (হেসে) : ভালো..
স্বয়ম্ভূ: সার্টিফিকেট দিতে হবে কিন্তু… সবাই একসাথে হেসে ওঠে…
