অন্ধ গলির ঐ নিঝুম পাড়াটা হঠাৎ
সরব হয়ে উঠল
বোসেদের বাড়িতে আবার নতুন কিছু কি ঘটল ?
এইতো ক বছর আগে ভীষণ রকম হৈচৈ
বাড়ির বউ মনোরমার এখন তখন অবস্থা,
হাসপাতালে নিয়ে গিয়ে মরণপণ যুদ্ধে সেবার অতিকষ্টে ফিরে আসা।
পাঁচমাসের অন্তঃস্বত্ত্বা বউকে কি যেন খাইয়েছিল ওরা
আসলে…বাচ্চা তারা এখন চায়না, কিন্তু মনোরমা …?
তার মনের খবর কি কেউ রাখে ….না ! কেউ রাখেনা।
দরিদ্র পরিবারের অপরূপা শিক্ষিতা মেয়েটা
ভুলেছিল সব কিছু, সহপাঠী রাজর্ষির প্রেমের আহ্বানে ।
বোকা মেয়ে…. বুঝতে পারেনি তার ভবিষ্যৎ পরিণতি ,
তাই ডুবেছিল প্রেম সাগরের অতল গহ্বরে।
বিবাহের পর গদ গদ চিত্তে দিয়েছিল
নিজেকে উজাড় করে , স্বামী সন্তান নিয়ে সুখে থাকবে বলে।
কিন্তু দেখ ….নিয়তির কি নিষ্ঠুর পরিহাস !
অনেক প্রচেষ্টায় বছর পাঁচেক পর যখন সে প্রথম মা হতে চলেছিল
শাশুড়ি মায়ের মনে কেমন সন্দেহ হয়েছিল
গনক ঠাকুরের গণনায় ধরা পড়ল ঠিকুজিতে দোষ
আগত সন্তানের জন্ম সংসারে অশুভ লক্ষণ, যা হতে দেওয়া যাবেনা,
তাই সেদিন ঘটেছিল এমন ঘটনা।
এবারও কি তাই হোল..?
বড় অভাগী বউ মনোরমা, সংসারে যার স্বামীর কথা চলেনা,
প্রতিপদে ভোগ করে তাই এতো লাঞ্ছনা ।
হঠাৎ সেদিন রান্নাঘরে জ্বলে উঠে আগুন দাউদাউ
করুণ কণ্ঠের আর্ত চিৎকারে আবহাওয়া ভারী ভীষণ রকম
“আমি বাঁচতে চাই, আমি মা হতে চেয়েছিলাম
আমি বাঁচতে চেয়েছিলাম । “
ঘটনাক্রমে পরিণতি যা হবার তা হোল,
আজও অন্ধ কুসংস্কারে নিমজ্জিত একাংশ সমাজের কোণে কোণে
ছড়িয়ে আছে কত মনোরমা কে জানে ।
এই বৃহৎ সমাজে হতভাগীদের খোঁজ কেউ রাখেনা ,
মিথ্যা কলঙ্ক প্রবাদ থেকে মুক্তি মিলবে কবে
ভাবার সময় কখনও কি আসবেনা ?
