হঠাৎ ভীষণ হৈ হট্টগোল
চিল চিৎকারে, দুপুরের নিস্তব্ধ পাড়া কাঁপে থরথর,
জানলা দিয়ে মুখ বাড়িয়ে দেখার ব্যর্থ প্রয়াস
উঁচু ফ্ল্যাটের বাসিন্দাদের উঁকিঝুঁকি।
ধোঁয়া ওঠা সিগারেট চায়ের ভাঁড়ে তুফান তোলা,
হৈ হট্টগোলে মেতে থাকা রাতদিন
রকবাজ বেকার লক্ষীছাড়া;
ভীষন ত্রস্তে করছে দৌড়াদৌড়ি দাপিয়ে সারা পাড়া!
পাশেই গজিয়ে ওঠা প্রতাপী প্রমোটারের
সদ্য নির্মিত বহুতলে,
রাস্তার সারমেয়দের ঠিকানা অবাধ,ডেরা অস্থায়ী।
চৌকিদারের নির্বোধ শিশুকন্যা খেলছিল আপনমনে,
সারমেয়দের দখলদারিতে অনাহুত প্রবেশ নিষেধ।
প্রতিহিংসায় উন্মত্ত হিংস্র যৌথ আক্রমণ
খুবলে নিল প্রতিবাদহীন নিরীহ মাংসের নরম দলা তুলতুলে।
রে রে করে ছুটে আসে, রকের লক্ষ্মীছাড়া সদলবলে,
রক্ত গঙ্গায় নিস্তেজ ছোট্ট প্রাণ ধুঁকপুক–
পাঁজাকোলে তুলে নিয়ে ছোটে হাসপাতালে।
ফোঁটা ফোঁটা অমূল্য রক্তের ধারায় সারা শরীর ভিজে যায়, নেই কোন হুঁশ তায়–
লক্ষ একটাই বাঁচাতে হবে যে কোন মূল্যে
সদ্য প্রস্ফুটিত কুসুমিত প্রাণ।
প্রয়োজনে দিতে হবে বেকারত্বের জ্বালায় জর্জরিত অবহেলিত মূল্যহীন জীবন।
তবুওতো বেঁচে যাবে
কেতন উড়াবে আগামীর এক উজ্বল ভবিষ্যৎ।
নব যৌবন তুমি জেগে ওঠো আবার,
অবক্ষয়িত সমাজের অভিমুখ বদলাও
পঙ্কিলতার ধুলা ঝেড়ে স্বমহিমায় শির তুলে দাঁড়াও।
অমূল্য রতন যুবসমাজের
“বেকার লক্ষ্মীছাড়া” তকমা চূর্ণ করে,
জয়ের তিলক পড়াও।
উন্নত মম শির বলে ধ্বনিত হোক আকাশ বাতাস,
সৌরভ ছড়িয়ে নবকিশলয়ে ভরে উঠুক নুয়ে পড়া দগ্ধসমাজ।
