দ্রুত মুছে দেবো || Shamsur Rahman
সদ্য সন্ধ্যা সাঁঝের সজ্জা ছেড়েশরীরে জড়ালো রাতের রেশমি শাড়ি।এক লহমায়…
সদ্য সন্ধ্যা সাঁঝের সজ্জা ছেড়েশরীরে জড়ালো রাতের রেশমি শাড়ি।এক লহমায়…
কী যে হয়েছে তাঁর, ইদানীং কোনো কিছুইতেমন স্পষ্ট দেখতে পান…
মোরগের গর্বিত ঝুঁটি, স্বপ্নে-দেখারক্তিম ফুলের উন্মীলন, অন্ধকার ঠেলেঘোষণা করে, আজ…
আখেরে দক্ষিণ বাংলার সুদূর গ্রাম থেকেএল সেই চিঠি, যার জন্যে…
বনেদি ঘরের কেউ নই, বলা যায়অত্যন্ত অগণ্য আমি। গোলাপ, রজনীগন্ধা…
নানা জনের নানা কথা,কেউ কারো কথা শুনছে বলেমনে হলো না।…
এ-কথা নিশ্চয় তুমি কখনো ভুলেও বলবে না-‘ভালোবাসতেই হবে, এই মুচলেকা…
দৈবাৎ এক রাতে ভুলক্রমে তোমার সঙ্গে আমারঅদৃশ্য যোগাযোগ। এমনই আকস্মিকসেই…
কালেভদ্রে একটুখানি দেখার জন্যেঘুরে বেড়াই যত্রতত্র, দাঁড়িয়ে থাকিপথের ধারে।রোদের আঁচে…
মজুরের ঘামের ফোঁটার মতো সকালবেলার আলোচুঁইয়ে চুঁইয়ে পড়ছে আমার ঘরে।…
“একটি স্বপ্নের পথে হেঁটে গিয়েছি সমুদ্রতীরে”,বলে তুমি দিয়েছিলে স্বপ্নটির নিখুঁত…
বৃষ্টির সেহ্রা পরে ফ্ল্যাটবাড়িটা দাঁড়ানোরাস্তার ধারে। তোমার ড্রইরুমেআমরা দুজন গল্প…
আরো কিছু সময় আমাকে দিলে, প্রিয়তমা, খুববেশি ক্ষতি হবে কি…
একবারও আমি কি বলেছি আসবো না আগামীতেতোমাদের কাছে আর? উত্তোলিত…
প্রায়শ ঘরেই থাকি, গৃহকোণে বসে বই পড়া,কবিতা আবৃত্তি করা কিংবা…
এক্ষুণি বলে ফেলা দরকার, নইলে খুব বেশিদেরি হয়ে যাবে। সত্যাসত্য…
মেহন্ত হলুদ পিঠ খানিকটা চুল্কে নিয়ে উদাস হয়েছেপড়ে না চোখের…
জ্যৈষ্ঠের দুপুর সোনার কলস উপুড় করেচতুর্দিকে ছড়িয়ে দিয়েছে সুবর্ণ ধারা;…
শুরুতেই বাগানটা পরিষ্কার করা প্রয়োজন;বড় বেশি উপেক্ষিত ছিলএতকাল, চতুর্দিক আগাছায়…
সবাই ঘুমিয়ে আছে সে সাধেরবিছানায় শেষ রাতে। এখন লোকটা ভাবে…
আজ রাতে নাগরিক নিসর্গ বিষয়ে একটি কবিতালেখার কথা ভাবছিলাম,আমার কলম…
সাত বাজার ঘুরে ভরদুপুরে এক বুক তৃষ্ণা নিয়েঘরে ফিরে এসে…
যখন সুবেসাদিকে মুয়াজ্জিনের আজানচুমো খেলো শহরের অট্রালিকার নিদ্রিত গালে,ফুটপাতের ঠোঁটে,…
এই যে এখন চারপাশে যা ঘটছে ইতস্তত,বস্তুত সেসব দেখে শুনে…
প্রায়শ আমার স্বপ্নে একটি ময়ূরপঙ্খী নাওভেসে ওঠে কুয়াশায়। মাঝে মাঝে…
মাঝে মাঝে স্বপ্নের ভেতরে চলে যাইউন্মুক্ত প্রান্তরে, হু হু হাওয়াআমাকে…
উস্কোখুশকো যুবকটি অতল জলে সাঁতারহীন।পকেট হাতড়ে সিগারেটের শস্তাপ্যাকেট খুঁজে নৈরাশ্যকে…
আমার দেহঘরে ধেড়ে ইঁদুরের মতো গর্ত খুঁড়ছেনানা ব্যাধি, দৃষ্টিহীন বাদুড়েরডানার…
‘তোমার শরীরে এত ধুলোবালি কেন?’আমাকে হামেশা প্রশ্ন করেন পাড়ার পাঁচজনচোখে…
আমরা কুয়াশাঘেরা জনসাধারণগোলকধাঁধায় ঘুরি, বুঝি কি না বুঝি, ঘুরছি তোঘুরছি…
‘এখানে জিরিয়ে নেই কিছুক্ষণ’ বলে এক শ্রান্ত রাহাগীরগাছের সুবজ ছায়া…
নিজেকে নতুন করে গড়েতোমার নিকট যাবো বলে কিছুদিনথেকে আর থাকি…