এসেছেন একলব্য দ্রোণাচার্য কাছে, প্রশ্ন তরে,
এসেছিলাম সেদিন, আপনার শিষ্যত্ব আশা করে।
কিন্তু দুর্ভাগ্যবশত আমাকে জাতিতে নীচু ব’লে,
শিষ্যত্ব নাকচ ক’রে তাচ্ছিল্য করেন রাগে জ্ব’লে।
তবু আমি মনে মনে আপনাকেই মেনে গুরু রূপে,
আপনার মৃন্ময় মূর্তি বানিয়ে সাধনা করি চুপে।
অস্ত্রে পারদর্শী শুনে সভয়ে দ্রুত এলেন ছুটে,
অর্জুন যদিনা হয় শস্ত্রবীর যাবে আশা টুটে!
কৌশলে আমাকে শিষ্য মেনে গুরুদক্ষিণার নামে,
নির্বিকারে বৃদ্ধাঙ্গুষ্ঠ চেয়ে নিলেন নিভৃত ধামে।
দিলাম কর্তন করে অঙ্গুষ্ঠ নীরবে হাসি মুখে,
নিস্ক্রিয় হলাম আমি সাধনা দিলেন মোর রুখে।
সিদ্ধ উদ্দেশ্য আপনার, সাধনা আমার গেলো থামি,
বিশ্বাস করুন তবু করিনি সেদিন ক্ষোভ আমি।
শুধু ব্যথিত হৃদয়ে বিষাদে ছিলাম ঘোরে ডুব,
এমন নিষ্ঠুর মতি দেখে হতবাক হই খুব।
আমি জানি রাজ-আজ্ঞা আপনার পালন করা রীতি,
কিন্তু কেন ? পারতেন না, নিজ আদর্শতে রাখতে স্থিতি?
অথচ অর্জুন বীর হয়ে ইতিহাসে কলঙ্কিত,
জাত বৈষম্যে কর্ণকে যে করা হয়েছিল বঞ্চিত।
