শেষ বাসের অপেক্ষা
ইরা স্বপ্ন দেখত ইঞ্জিনিয়ার হবে। গরিব ঘরে নুন আনতে পান্তা ফুরানোর গল্প।
পড়াশোনাতে ভালো হওয়া সত্ত্বেও বাড়ির বংশধর ছেলেকে পড়ানো সমীচীন বয়স্কদের রায় তা সে যতবারে ফেল করুক না কেন। ইরা গ্রামের স্কুল থেকে প্রথম স্থান অধিকার করে এসেছে। উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষাতে ৱ্যাঙ্ক আনলো।
তবু হরিয়ানা প্রদেশে কাজ করে মোড়লের জানাশোনা ছেলের সাথে বিয়ে হয়ে গেল।
ভদ্রলোকের বয়স হয়েছে, বিপত্নীক দুটি সন্তানের পিতা। না ইরা কাঁদেনি শুধু ভদ্রলোকের প্রশ্নের উত্তরে বলেছিল সে পড়তে চায়। মুচকি হেসে বলেছিল সংসার সামলে যদি সে পড়া এগিয়ে নিয়ে যেতে পারে তবে তার আপত্তি নেই।
হরিয়ানাতে এসে দুটি ছেলের মায়াবী চোখ তাকে মা বলে দৌড়ে এসে জড়িয়ে ধরা ইরার চোখের জল থামে না। সংসার সামলে নিতে কিছুটা বেগ পেতে হলো বৈকি। কলেজে ভর্তি হলো নাইট কলেজে। সংসার সামলে ছেলেদের দেখভাল করে তবে কলেজ যাওয়া। ভদ্রলোক সত্যি ভালোমানুষ একটা সাইকেল কিনে দিয়েছিল। ছেলেরা বড় হয়েছে। বিয়ে দিয়েছে সে নিজে একটি স্কুলের দিদিমণি। এতটা সময় পেরিয়ে গেছে বর্ধমানের সেই গ্রাম তার বাপের বাড়ি তার ভাই কারো সংবাদ নেই। কাদের তরফ থেকে বিচ্যুতি তা আজকাল আর ভাবে না। খুব মন টানে একবার যদি যেতে পারতো। পতিদেব অনেক আগেই ইহলোক ছেড়ে চলে গেছে। ওদের মায়ের দরকার সেটা বুঝেছিলেন বলেই বিয়ে করা। তাই ইরার পড়াশোনাতে বাধা হননি।
চোখের জল মুছে দীর্ঘনিশ্বাস ছাড়ে শরীরটা আজকাল ভালো লাগে না। ওনার কাছে যাবার ইচ্ছা। শুধু শেষ বাসের অপেক্ষা। এলেই টুক করে উঠে পড়বেন। টিকিট ও কেটে ফেলবেন। বলবেন পরলোকের টিকিট দাও। কিন্তু একি বললেন বর্ধমানের নিজের গ্রামের নাম।
মা ওমা ঘুমের মধ্যে কি বলছ। ওঠো, বাস্তবে ফিরে এলেন। আমায় একবার বাপের বাড়ি ঘুরিয়ে নিয়ে আয়, জীবনে আয়ু কার কত দিন কে জানে। যাবিরে, চলো।প্লেন বাস ট্রেন করে যখন বর্ধমান পৌঁছালো তখন খুশিতে তার হিতাহিত জ্ঞান শূন্য। এখানে যে বাস কম সেকথা মনে নেই। অন্য কোনো সাধন না পেয়ে শুধু শেষ বাসের অপেক্ষা।
