চৈত্র শেষে নিদাঘ ধরায় বৈশাখী মন হায়,
দহন মুক্ত মলয় বায়ের শীতল পরশ চায়।
পর্ণ ঝরার মর্মরতায় বইছে করুণ সুর,
হরিৎ পাতার তারুণ্যতায় বৈশাখী সুমধুর।
আসবে আবার নতুন বছর উতল বোশেখি মন।
খুশির আমেজে মাতবে ভুবন হবে নবীন বরণ।
অলস দুপুরে পিক তান সনে একা কাটে নির্জন,
কুবো তরু ফাঁকে থেকে থেকে ডাকে প্রীত বৈশাখী মন।
ফাগ রেশ খানি দেয় হাতছানি পলাশ শিমুল সাথে,
নব যৌবন পিয়াসায় বুঝি বৈশাখী মন মাতে।
দাবদাহ হেতু দিনভর শুধু ‘লু’ বয় ধরনী মাঝে,
বৈশাখী মন স্নিগ্ধ মধুর সমীরণে সুখি সাঁঝে।
দিন শেষে যবে বলাকার দল সারি বেঁধে উড়ে যায়,
বৈশাখী মন কল্প উড়ানে বলাকার পিছু ধায়।
চাতকের ডাকে ব্যথাতুর হয়ে চেয়ে রয় নভ তলে,
তৃষ্ণা মেটাও বারিধারা দাও বৈশাখী মন বলে।
হঠাৎ যখন কালবৈশাখী প্রলয় নাচন নাচে,
ধ্বংসের ভয়ে বৈশাখী মন সুশীতল ধারা যাচে।
বাতাবির ফুল আম্রমুকুল নানা ফল ফুল ঘ্রাণ,
সুবাসিত বায় বৈশাখী মনে আনন্দ করে দান।
আবার যখন বৃষ্টি সিক্ত শীতল বসুন্ধরা,
বৈশাখী মন গেয়ে চলে গীত উচ্ছলতায় ভরা।
