নতুন করে বাঁচার স্বপ্ন
তন্বী শেষে ঘর ছেড়ে প্রতিমা দেবীর বাড়িতে গভর্নেসের কাজ করে। একটা বিজ্ঞাপন দেখে স্বেচ্ছায় কাজটা নেয়। মা-বাবা অ্যাক্সিডেন্টে মারা গেলে তন্বী বোন টিনাকে নিয়ে একা হয়ে যায়। পাড়ার এক কাকু তাদের দেখভাল করে। বাবার চাকরিটা সে বোনকে দেয়। চাকরি পেয়ে টিনা পাল্টে যায়। নিত্যদিন বন্ধুদের নিয়ে ফূর্তি করে। তন্বী বোনকে সাবধান করলে টিনা গুরুত্ব দেয়না। এরই মধ্যে কাকুর ছেলে নীলাদ্রি বিদেশ থেকে আসে। তন্বীর সঙ্গে আলাপ হলে মাঝে মাঝেই বাড়িতে এসে গল্প করে। টিনার সেটা পছন্দ হয়না। সে নীলাদ্রিকে কাছে পেতে চায়, কিন্তু তেমন পাত্তা পায়না। রাগে তাই দিদির প্রতিই তার বিরূপ ভাব। ছুটি ফুরালে নীলাদ্রি বিদেশে ফিরে যায়।
এদিকে কয়েকমাস পর টিনা ভালোবেসে বিয়ে করে তার কলেজের বন্ধু কৌশিককে। কৌশিক বেকার, কোনো কাজ করেনা। ঘরজামাই থাকে। সারাদিন ঘরে থাকায় তন্বী অসুবিধাবোধ করে। একটা সময় তন্বী খেয়াল করে কৌশিক তার ঘনিষ্ঠ হওয়ার চেষ্টা করছে। টিনাকে জানালে সে দিদিকেই দোষারোপ করে। টিনা প্রেগন্যান্ট হলে কৌশিক তন্বীকে সরাসরি প্রেম নিবেদন করে জড়িয়ে ধরলে তন্বী হাতের সামনে ফুলদানি দিয়ে সজোরে কৌশিকের মাথায় মেরে নিজের ঘরে ঢুকে দরজা বন্ধ করে দেয়। টিনা এসে সব শুনে দিদিকে ভৎর্সনা করে অনেক কটু কথা বলে। কৌশিক প্রশ্রয় পেয়ে আরও বেপরোয়া হয়ে ওঠে। নিজের নিরাপত্তার কারণে এবং টিনার দুর্ব্যবহারে তন্বী চলে আসে বৃদ্ধা প্রতিমাদেবীর সেবা ও পরিচর্যার জন্য গভর্নেস হিসেবে। আসার সময় তার করুণ কাহিনী চিঠি লিখে কাকুর বাড়িতে গিয়ে গোপনে টেবিলে রেখে আসে। একবছর পর নীলাদ্রি এসে খবর শুনে তন্বীর খোঁজে সেখানে যায়। নীলাদ্রিকে দেখে তন্বী কেঁদে ফেলে। নীলাদ্রি প্রতিমাদেবীর ছেলেকে সব জানিয়ে তন্বীকে ঘরে নিয়ে এসে সেদিনই রেজিস্ট্রি বিয়ে করে। তন্বীর চোখে নতুন করে বাঁচার স্বপ্ন।
