সোনার মতো রোদ , রূপোর মতো মেঘ আর কাশের
ফুলে ঘেরা কবিতার গ্রামে নেমেছে শরতের কুঁড়ি ।
শব্দের নিঃশব্দ নদী নিজেই নোঙর -মাটির টানে
বয়ে এনেছে প্রবাসী স্রোতের বাস্তু সেতু ।
অনুষঙ্গের শাঁখে ফুঁ দিতে দিতে সেতু পেরিয়ে
কবি এসে বসলেন বিল্বছায়ায় ।
ধীরে ধীরে ছায়া নিভে এলে
শুক্ল বাতাসের গন্ধে ভরে উঠলো সন্ধ্যার কৃষ্ণ শরীর ।
কবি চমকে উঠলেন । পৃথিবীর কূটকূটে অন্ধকার মুছে
প্রকৃতির ঠোঁটে ফুটফুটে জ্যোৎস্না জ্বালিয়ে দিলো কে ?
তক্ষুনি নীলপদ্ম সরোবরে স্নান সেরে শিশিরের শাড়ি পরে
একটি অবিচ্ছেদ্য অনুষঙ্গ ছড়িয়ে দিলেন স্মৃতি , কবির কল্পবাগানে ।
এক আশ্চর্য বিষাদের গভীর আনন্দে কবির সৃজনে এলো
স্বগত’র ভাষা — শিউলির সম্মোহন ছাড়া
অধরা যে শরতের পূর্ণ সমর্পণ !
তাই বুঝি মানুষের ভুলের আড়ালে
সময়-ই খোদাই করে প্রকৃতির প্রসবপাতায়
–শিউলি শরৎ এক পারিজাত বৃষ্টির অভিন্ন জমজনামা ।
