তপন আতপে তপ্ত দুপুর বেলা,
শূন্য কলসে চলেছে পল্লীবধূ,
শীর্ণ নদীতে ভরবে কলস বালা,
ফাঁকা নদীতট, প্রসারিত মাঠ ধূ ধূ।
ফুলে ফুলে ভরা কনকচাঁপার গাছে,
কপোত-কপোতি দুলছে তারই শাখে,
শরৎ আকাশে মধুর রাগিনী বাজে,
শারদলক্ষ্মী আসবে আরতি-শাঁখে।
তুলোর মতন শুভ্র মেঘের দল,
ভেসে ভেসে ফেরে আকাশ-পাথার মাঝে,
শেফালিকা যত বিছায়ে বীথিকা তল,
দশভূজা দেবী চরণ রাঙাবে সাজে।
গগনে আঁচল লুটায়ে রয়েছ বুঝি,
ললাটে তোমার নয়ন কমল আঁকি,
জোছনা আলোকে তোমাকেই শুধু খুঁজি,
বাতায়নে আজ শরৎ দিতেছে উঁকি।
মঙ্গলপ্রাতে চরণ পড়িবে তব,
আসিবে হেথায় জাগিয়া উঠিবে ধরা,
নীপনিকুঞ্জে বকুল বিকাশে নব,
গোলাপি শালুকে রয়েছে সরসী ভরা।
