আশ্বিনের সকালে আকাশটা যেন কেউ ধুয়ে-মুছে দিয়েছে
নীল এত পরিষ্কার যে তোমার চোখে মিশে যায়।
শিউলি ঝরে পড়ছে রাস্তায়,
তুমি হেঁটে যাও, প্রতি পায়ে একটা করে ফুল মরে
আমি পিছনে হাঁটি, সেই মরা ফুলগুলো কুড়িয়ে নিই
পকেটে ভরে রাখি, যেন তোমার পায়ের ছোঁয়া চিরকাল বয়ে নিয়ে বেড়াই।
শরৎ এলে প্রেমটা হালকা হয়ে যায়
কিন্তু হালকা বলে ভারী হয়ে বুকে চেপে বসে।
কোনো গুমোট নেই, কোনো ভারী শ্বাস নেই
শুধু একটা স্বচ্ছ হাওয়া বয়ে যায় দুজনের মাঝখান দিয়ে
আর আমরা চুপ করে থাকি,
কারণ কথা বললে এই হাওয়াটা ভারী হয়ে যাবে।
সন্ধ্যায় কাশফুলের মাঠে দাঁড়ালে
তোমার চুলে সোনালি আলো পড়ে,
আমি বলি, “তুমি যেন শরতের আকাশ।”
তুমি হাসো, “তুমি যেন শিশির।”
দুজনেই জানি, দুটোই ক্ষণস্থায়ী
তবু এই ক্ষণটাকে আমরা আঁকড়ে ধরি
যেন চিরকাল থেমে থাকতে পারে।
রাতে চাঁদটা এত উজ্জ্বল
যে ছায়া পড়ে না, শুধু আলো পড়ে।
তোমার গালে, ঘাড়ে, কপালে
আমি সেই আলো চুমু খাই,
চাঁদ দেখে হিংসে করে,
কারণ তার আলো আমি নয়, আমি চুরি করে নিচ্ছি।
শরতের প্রেমে কোনো তাড়া নেই
কোনো জ্বালা নেই, কোনো ভিজে যাওয়া নেই
শুধু একটা নরম নীল বিষাদ
যে বলে, সবকিছুই একদিন শেষ হবে
তাই এখন যা আছে, তাকে পুরোপুরি ভালোবাসো।
তাই আমরা হাঁটি ধীরে ধীরে
কাশফুলের মাঠ পেরিয়ে, শিউলিতলা পেরিয়ে
কোনো গন্তব্য নেই
শুধু একটা নরম সত্য আছে—
যে শরৎ যতই ফুরোবে
আমাদের এই নীল প্রেম ততই গভীরে ঢুকে যাবে
যেন শিশিরে ভেজা ঘাসের নিচে
একটা বীজ চুপ করে অঙ্কুরিত হচ্ছে
যে একদিন বড় গাছ হবে
আর তার ছায়ায় বসে
আমরা বলব,
“দেখো, শরৎ চলে গিয়েছিল
কিন্তু আমাদের প্রেম থেমে যায়নি।
