লাজুক হাসি হাসে ময়না
বসন্ত আসে লালের রঙে পলাশ শিমুল কৃষ্ণচূড়ার রঙে রঙিন হয়ে। দোলের আবির ফাগের রঙে মাতোয়ারা।সবাই খুশি, মুহুর্মুহু কোকিলের কুহুতানে। প্রেমের বাতাবরণে কর্কশ তানে বেজে ওঠে ঠাকুমা বুড়ি, মুখপুড়ি একটু হাতে গলায় পলাশের মালা দিয়ে ঘুরতে পারিসতো, রূপ খোলতাই হয় , কারো পছন্দ হলে বিয়ে দিয়ে বাঁচি। আমি আর কতদিন, চোখ বন্ধ করলেই মামা মামি দূর দূর করে তাড়িয়ে দেবে।তখন কি হবে শুনি।
আমার জন্য বিদেশ থেকে রাজপুত্র আসবে দেখো। মাথায় করে রাখবে, অযথা টেনশন কেন নিচ্ছো। মামি বলছে মামাতো ভাই এর বউ করবে।
হা হা পালিয়ে যাবো তোমাকে ছেড়ে।
ওই ময়না কটা ডাব পেড়ে দে। তার আগে দাঁড়াও একটু পলাশ ফুলে সাজাই নিজেকে, সাঁওতালি মেয়েদের মতন। তরতর করে নারকেল গাছে উঠল মেয়ে। কি ডানপিটে , হর্ন দিয়ে মোটর থামল। সাঁওতালি মেয়ের সাজে ডাব পেড়ে ময়না অতিথি দেখে লজ্জায়।
মামির বাপের বাড়ির লোক। পুকুরের মাছের ঝোলভাত খেয়ে বিজ্ঞানীর ময়নাকে মনে ধরে গেল। মেয়ে সব কাজে পারদর্শী, এরকম মেয়েই দরকার। ভাগ্যিস দিদি আসতে বলেছিল।
কি ঠাকুমা বলেছিলাম না আমার বর বিদেশ থেকে এসে নিয়ে যাবে। চিন্তা গেল তো।
দিদি আবার কবে আসবো জানি না। এখনই বিয়ে দিয়ে দে। আমার ভাইএর বিয়ে ধুমধাম করে হবে। এক মাসের নোটিশ দিই, ততদিন চুটিয়ে প্রেম কর। রেজিস্ট্রি করেই বিয়ে দেবো। বউ নিয়ে চলে যাবি। পাসপোর্ট করাই আছে। এবার শুধু ভিসার অপেক্ষা।
ময়নার মুখে লজ্জার রেখা। ছুটে পালায় গোয়াল ঘরে, কেউ খুঁজে পাবে না। ও মা একি কাণ্ড, ভদ্রলোক দেখি এদিক পানেই আসে, আপনি কি বলুন তো, আর জায়গা পেলেন না, আমি তো ভাবলাম এখানেই আমি খানিকক্ষণ নির্জনে থাকতে পারবো। দুজনের চিন্তাধারার মিল আছে। আমি খুব অগোছালো, গুছিয়ে রেখো। লাজুক হাসি হাসে ময়না।
একি ঠাকুমা তুমি আবার এখানে কেন? দাদুভাই আমার নাতনির খেয়াল রেখো। তোমার হাতে তুলে দিয়ে আমি নিশ্চিন্ত হবো।
চিন্তা করবেন না, আমি অনেক আগে থেকেই মযনাকেই বিয়ে করব দিদির বিয়ের সময় বলে রেখেছি।
বড্ড ছোটো ছিল তাই অপেক্ষা।
