Skip to content

Banglasahitya.net

Horizontal Ticker
বাঙালির গ্রন্থাগারে আপনাদের সকলকে জানাই স্বাগত
"আসুন শুরু করি সবাই মিলে একসাথে লেখা, যাতে সবার মনের মাঝে একটা নতুন দাগ কেটে যায় আজকের বাংলা"
কোনো লেখক বা লেখিকা যদি তাদের লেখা কোন গল্প, কবিতা, প্রবন্ধ বা উপন্যাস আমাদের এই ওয়েবসাইট-এ আপলোড করতে চান তাহলে আমাদের মেইল করুন - banglasahitya10@gmail.com or, contact@banglasahitya.net অথবা সরাসরি আপনার লেখা আপলোড করার জন্য ওয়েবসাইটের "যোগাযোগ" পেজ টি ওপেন করুন।
Home » রূপকথায় রোবটভূত || Subhra Saha Shelley

রূপকথায় রোবটভূত || Subhra Saha Shelley

অডিও হিসাবে শুনুন

রূপকথায় রোবটভূত

প্রতাপগড়ের রাজা কনককুমার ছিলেন একজন দয়ালু, প্রতাপশালী রাজা। প্রজাদের দুঃখ কষ্টে যেমন তার মন কেঁদে উঠতো ঠিক তেমনি কোন অন্যায়কে তিনি প্রশয় দিতেন না। প্রজারা যেকোন বিপদে পড়লে রাজদরবারে গিয়ে জানালে রাজা মশাই তাদের বিপদ থেকে উদ্ধার করতেন। প্রজারা রাজা কনককুমারকে ভালোবেসে “বিপদভঞ্জন মধুসূদন” নাম রেখেছিল।

প্রজাদের ভালোবাসায় কনককুমারের রাজকার্য খুব ভাল চলছিল।

একদিন দুপুরে প্রতাপগড় রাজ্যে চারিদিক অন্ধকার করে এল এক ভয়ঙ্কর ঝড়। ঝড়ের প্রচণ্ড গতিতে রাজ্যের প্রজাদের ঘরবাড়ি, গাছপালা সমস্ত কিছু তছনছ হয়ে গেলো। চারিদিকে শুধু হাহাকার আর কান্নার রোল ভেসে উঠলো।

দয়ালু রাজা নিজেই গেলেন সমস্ত রাজ্য পরিদর্শনে। মন্ত্রীমশাইকে নির্দেশ দিলেন রাজকোষের অর্থ দিয়ে প্রজাদের নতুন বাসস্থান বানিয়ে দিতে। প্রজাদের সমস্ত কর তিনি মুকুব করে দিলেন।

এই বিপর্যয় মোকাবিলা হবার পর থেকেই নতুন এক উপদ্রব দেখা দিলো প্রতাপগড় রাজ্যে।

প্রতিদিন রাতে প্রজাদের গরু, ছাগল, ভেড়া চুরি হতে থাকে। প্রথম প্রথম গৃহস্থ প্রজারা ভাবে বন্য জন্তুরাই এমন কাণ্ড করছে।

তাই তারা ঠিক করে যে রাতে পালা করে পাহারা দিয়ে রহস্যের কিনারা করবে।

সন্ধ্যা হতেই আটদশজনের একটা দল রাতের খাবার খেয়ে কেউ ঘরের চালে, কেউ গাছে উঠে চুপটি করে অপেক্ষা করতে থাকে।

মধ্যরাতে চারিদিকে ঘুটঘুটে অন্ধকার, সেই অন্ধকারে মাঝেমধ্যে জোনাকি পোকার আলো ,ঝিঁ ঝিঁ পোকার আওয়াজ আর মাঝে মাঝে দূরের পদ্মপুকুর ঘাট থেকে শেয়ালের ডাক —হঠাৎ পাহারারত দলটি একটা তীব্র আলোর রশ্মি দেখতে পায়। ধীরে ধীরে সেই আলো এগিয়ে আসতে থাকে লোকালয়ের দিকে। আলোর ছটায় পাহরায় থাকা গৃহস্থরা সচেতন হয়ে যান। আলো ক্রমশ কাছে আসতেই তারা দেখতে পায় এক অদ্ভুত দৃশ‌্য।

মহারাজ কনককুমার এক একজনের গোয়াল ঘরে গিয়ে আর পছন্দমত গরু ,ছাগল টপাটপ গিলে ফেলছেন। এমন করে খান কয়েক গরু, ছাগল গিলে লম্বা একটা ঢেঁকুর তুলে আবার ধীরে ধীরে চলে গেলেন সেই আলোক রশ্মিকে নিয়ে।

এই দৃশ্য দেখে গৃহস্থরা মাথায় হাত দিয়ে বসে পড়লেন। তাদের প্রিয় মহারাজ রাতে যে রাক্ষসের রূপ ধারণ করে এসমস্ত কাণ্ড করেন সেটা প্রজারা কিছুতেই মানতে পারছিল না। আবার নিজেদের চোখে দেখা ঘটনাকেও অবিশ্বাস করতে পারছিল না।

প্রজাদের মধ্যে মাতব্বর গোছের কয়েকজন প্রস্তাব দেন পরেরদিন দিনেরবেলায় তারা রাজসভায় গিয়ে গরু ,ছাগল চুরির বিষয়টি জানাবে আর তাতে মহারাজের কি প্রতিক্রিয়া হয় সেটা দেখবে। রাজামশাইয়ের সিদ্ধান্তেই সব পরিষ্কার হয়ে যাবে।

পরিকল্পনা মাফিক পরদিন সকালে রাজসভায় গিয়ে গ্রামবাসীরা গরু, ছাগল চুরি হবার কথা বলতেই মহারাজ কনককুমার উদ্বিগ্ন হয়ে উঠলেন আর বিষয়টিকে তদন্ত করে দেখবেন বলেও প্রজাদের আশ্বস্ত করলেন।

রাজামশাইয়ের ঘোষনার পরেও প্রজাদের কপালে চিন্তার ভাঁজ গেল না । তাই দেখে মহারাজ কনককুমার বললেন “কি ব্যাপার বলতো —তোমরা এখনও কি এতো ভাবছো বলো তো। আমি আছি তো। সব ঠিক হয়ে যাবে। কোন ভয় নেই “।

কোন সমাধান না পেয়ে অসহায় গৃহস্থ গ্রামবাসীরা রাজসভা ত্যাগ করে। আর ঠিক করে রাতে তারা যেমন পাহারা দিচ্ছিলো তেমনিই দেবে।

সেইদিন রাতেও তারা একই ভাবে একই ঘটনা দেখে। চোখের সামনে থেকে প্রাণের প্রিয় কালি, রামুকে মহারাজের পেটে যেতে দেখে ভীষণভাবে বিমর্ষ হয়ে পড়েন নবীন গোয়ালা।

এই আলো চলে যেতেই টগবগ করে ঘোড়ার খুঁড়ের আওয়াজ পেয়ে সবাই সজাগ হয়ে পড়ে।অন্ধকারে আওয়াজ কাছে আসতেই ঘোড়ার পিঠে দেখা যায় অদ্ভুত একজনকে। তার বুকে লাল, সবুজ, হলুদ নানান আলো জ্বলছে। চারপাশ দিয়ে নানান তার ঝোলানো। পিঠের দিকে বেশ কয়েকটা ব্যাটারী লাগানো।

এমন আজব জীব দেখে অনেকে ভিমড়ি খেলেও কয়েকজন নিরাপদ দুরত্বে থেকে সাহস করে প্রশ্ন করে “তুমি কে? এমন অন্ধকার রাতে ঘোড়ায় চেপে আমাদের গ্রামে এসেছো কেন “?

বলামাত্র চারদিক কাঁপিয়ে অট্টহাসি হেসে “আমাকে চেনো না। আমি তো রোবোট ভূত “।

“ভূ—-ত, ওরে বাবা রে ভূ—–ত”।

গ্রামবাসীদের এমন চিৎকারে থতমত খেয়ে “শোন, শোন, –আমি তোমাদের কোন ক্ষতি করবো না, ভয় পেয় না “।

“কি বলছো, তুমি ভূত আর তোমাকে ভয় পাব না “

“হ্যাঁ বলছি, আমার চেহারাটা ভূতের মতো জন্য আমার বন্ধু মহারাজ কনককুমার আমার নাম রোবট ভূত রেখেছে। “

“মহারাজ কনককুমার? “

“হ্যাঁ গো মহারাজ কনককুমার চর পাঠিয়ে আজ আমায় ভিনদেশ থেকে ডেকে পাঠিয়েছে । রাজ্যের সমস্যার সমাধান করতে –।”

“আমরা বিশ্বাস করি না, মহারাজ নিজেই তো একটু আগে এসে আমাদের চোখের সামনে টপাটপ গরু, ছাগল গিলে খেয়ে ফেললেন “।

“ও তাই বুঝি। আমাকে সেই জায়গাটা দেখিয়ে দাও দেখি “

“তোমাকে দেখিয়ে কি হবে শুনি। তুমি তো আবার ওনার বন্ধু “।

” শোন, এই যে আমার বুকে যে লাল, হলুদ, সবুজ আলোগুলো দেখছো এগুলো কি করে জানো “

সবাই সবার মাথা নাড়িয়ে সমস্বরে বলে “না তো “।

“তবে শোন, এই আলো হলো জাদু আলো। এই আলোর মাধ্যমে কিছুক্ষণ আগে ঘটে যাওয়া ঘটনা সমস্ত কিছুর ছবি দেখা যায়, আর প্রয়োজন মত বোতাম টিপে ঘটনার পরবর্তী খবরও পাওয়া যায় “।

“সত্যি নাকি। তাহলে দেখাও দেখি। এখন মহারাজ গরু, ছাগল গিলে কি করছেন “

“শোন, আমাকে আগে ঘটে যাওয়া ঘটনাটা দেখে নিতে হবে। বলেই নিজের বুকের লাল, হলুদ বোতামে চাপ দিতেই ঘোঁ ঘোঁ করে একটা আওয়াজ করে রোবট ভূতের পেটের থেকে একটা পর্দা বেড়িয়ে এলো। আর তাতে স্পষ্ট দেখা গেলো –মহারাজ গোয়ালে ঢুকে এক এক করে গরু, ছাগল টপাটপ করে গিলে লম্বা একটা ঢেঁকুর তুলে বেড়িয়ে গেলেন। এইটুকু হয়েই কটাস করে আওয়াজ হয়ে পর্দাটা কালো হয়ে গেলো।

“দেখলে তো আমরা বলেছিলাম না, মহারাজ কনককুমারই এই কাজ করছেন “।

“সত্যি তো। তবে এখন দেখা যাক তো মহারাজ খাবার খেয়ে এখন কি করছেন, বলেই সবুজ বোতাম টিপে দিতেই ঘরঘর ঘড়াৎ করে একটা আওয়াজ হয়ে কালো পর্দাতে ফুটে এলো ছবি মহারাজ কনককুমার তেপান্তরের মাঠে পা দিতেই একি কাণ্ড তার ছবি এমন হচ্ছে কেন! চোখগুলো যেন আগুনের গোলা,
হাতির মতো দাঁত, মাথায় দুটো শিং নিয়ে কি বিভৎস্য রূপ ধরে অট্টহাসিতে ফেটে পড়েছেন– ” আঁহা,কিঁ ভাঁলো হেঁলদি ফুঁড খেঁলাম কঁনককুমারের ছঁদ্মবেশ ধঁরে।ঐঁ পুঁরোনো খাঁবার আঁজকাল এঁকদম স্যুঁট কঁরে নাঁ। ফিঁগারটাও তোঁ মেঁনটেন কঁরতে হঁবে। নাঁহলে পেঁত্নীগুলো আঁজকাল এঁকদম পাঁত্তা দেঁয় নাঁ। —

ঝপাং আওয়াজ করেই আবার পর্দাটা কালো হয়ে গেলো।

ততক্ষণে গ্রামবাসীরা আসল সত্যিটা বুঝে গেছে।

“ভাই রোবট ভূত তোমার তো এত ক্ষমতা –আমাদেরকে আর মহারাজ কনককুমারকে রক্ষা করো ভাই “—

এমন সময়ে মহারাজ কনককুমার হাজির হয়ে বলেন “তোমাদের কাছে খবর পেয়ে আমি নিজেই রাতে ঘটনা প্রত্যক্ষ করি। আর খুব ভালো করে বুঝতে পারি এটা কোন ষড়যন্ত্র। কিন্তু তোমাদের এমনি এমনি বললে তো তোমরা বিশ্বাস করতে না। বন্ধু রোবটভূতের কথা মনে পড়লো তাই তো ওকে ডেকে পাঠালাম বিপদের দিনে —“

সমস্ত প্রজারা মহারাজ কনককুমারের পায়ে পড়ে ক্ষমা চাইতে লাগলো।

কিন্তু মহারাজ সবাইকে থামিয়ে রোবট ভূতকে আদেশ দেন সেই ছদ্মবেশী ভূতকে যথাযথ শাস্তি দিতে।

মহারাজের আদেশে রোবোট ভূত পেছনের ব্যাটারীটা একটু নাড়াতেই পর্দায় ছদ্মবেশী ভূতের ছবি ভেসে ওঠে। ছদ্মবেশী ভূতের চারদিকে একটা আগুনের কুণ্ড। আর সেই কুণ্ডতে পরে ছদ্মবেশী ভূত হাত পা ছুঁড়তে ছুঁড়তে শেষ হয়ে গেলো।

প্রতাপগড়ে মহারাজ কনককুমার প্রতাপের সঙ্গে সুখী প্রজাদের নিয়ে মনের আনন্দে রাজত্ব করতে থাকলেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *