নিষ্কৃতি চাই
মা গত হওয়ার কয়েকমাস পর বিবাহবার্ষিকীর দিন নবলতা শাঁখা পলা খুলে, সিঁদুর মুছে স্নান সেরে রান্নাঘরে এসে ঢুকলো। শাশুড়ি দেখে অবাক।
বললেন, একি বৌমা তোমার শাঁখা সিঁদুর কোথায়?
নবলতা বললো, মা আপনার হয়তো খেয়াল নেই, আজ আমার বিয়ের আট বছর পূর্ণ হলো। আপনার ছেলের সঙ্গে বিয়ে হয়েছিল, মানে আজ বিবাহবার্ষিকী।
আপনার ছেলেতো বেশিরভাগ দিনই রাতে ঘরে আসেনা। আপনারা জানতেন, ছেলে অন্য মেয়েকে ভালোবাসে।
নিচু জাতের মেয়ে বলে আপনারা মেনে নিতে পারেননি।
বিষয়টা চেপে আমার সঙ্গে বিয়ে দিলেন। ভেবেছিলেন ছেলে পাল্টে যাবে,আর মিশবে না ঐ মেয়ের সাথে।
কিন্তু আপনার ছেলেতো তাকে বিয়ে করে দিব্যি সংসার করছে।
আমিই শুধু বিয়ের নামে প্রহসনের দিনযাপন করছি।
তাই ঠিক করলাম আজ বিবাহবার্ষিকীর দিন থেকে পুনরায় অনূঢ়া রূপে থাকবো।
একটা অনুরোধ,আপনি আমাকে আর বৌমা ব’লে ডাকবেন না। সবার কাছে নিজের মেয়ে বলে পরিচয় দেবেন।
অনেকদিন সহ্য করেছি, আর পারছিনা।
বিয়ের নামে প্রহসন প্রতিনিয়ত কাঁটার মত বিঁধছে আমার শরীর, মনে, সিঁথির সিঁদুরে।
শাশুড়ি রত্নাদেবী বললেন, আজ এমন শুভদিনে আমার ছেলেটার কল্যাণের কথা চিন্তা করলে না।
অগ্নিসাক্ষী রেখে তোমাদের বিয়ে। আইনত সে তোমার স্বামী।
নিজের অধিকার কেন ছিনিয়ে নাওনি?
কতবার আমি তোমাকে বলেছি সেকথা!
চেষ্টা করেছিলাম, আপনিও জানেন সে কেমন বেপরোয়া।
আপনাদের সম্মান আর নিজের মায়ের কথা ভেবে চুপ ছিলাম।
বাবাকে তো কবেই হারিয়েছি ; এখন মা’ও নেই।
সত্যিটা জানলে মা আমার আগেই মরে যেতেন।
তাই কোনোরকমে মানিয়ে চলেছি।
কিন্তু আর নয়। আর পারছিনা।
এবার নিষ্কৃতি চাই।
আপনিও তো একজন মেয়ে।
আপনিই বলুন না, এভাবে থাকা সম্ভব?
রত্নাদেবী নবলতাকে জড়িয়ে ধরে বললেন, তোকে আর কষ্ট পেতে হবেনা।
লোকলজ্জা ত্যাগ করে আমিই তোকে ভালো ছেলের সাথে বিয়ে দেবো।
