ধর্মান্ধরা, ছদ্মবেশী ব্যবসায়ীদের দল,
মন্দির-মসজিদে ফাঁদ পেতে বসেছে নীরবে।
ধর্মের নামে সোনার খনি খুঁড়ে নেয়,
মানুষের বিশ্বাস বেচে কিনে রাজপ্রাসাদ।
গীতা, কোরান, বাইবেল—সবই তাদের দোকান,
ভক্তের পকেট থেকে টাকা ঝরে পড়ে ঝর্ণার মতো।
পূজা-নামাজের নামে চাঁদা তোলে অহর্নিশি,
ধর্মকে পরিণত করেছে লাভের যন্ত্রে।
ধর্ম, যা ছিল আলোর পথ, শান্তির আহ্বান,
এখন বিষাক্ত সাপের মতো কামড়ায় মানুষকে।
বিপদগামী করে তোলে অন্ধ বিশ্বাসের জ্বালায়,
ভাইয়ে ভাইয়ে বিভেদ ঢেলে দেয় রক্তের নদী।
জিহাদের নামে বোমা ফাটায় শিশুর বুকে,
হিন্দুত্বের ছায়ায় পোড়ায় মুসলিমের ঘর।
খ্রিস্টানের ক্রসে ঝুলিয়ে দেয় অমানুষিক নির্যাতন,
ধর্মের নামে মানুষ মানুষকে খায় জীবন্ত।
ধর্মগুরু—মানুষের তৈরি মূর্তি, সোনার খাঁচায়,
তাদের মুখে ফুটে ওঠে লোভের হাসি।
পীর, পুরোহিত, পাদ্রি—সবাই একই জাত,
ভক্তের চোখে ধুলো দিয়ে চুরি করে স্বর্গের চাবি।
তারা বলে, “দান করো, পাপ মোচন হবে,
কিন্তু তাদের গাড়ি চড়ে, ব্যাঙ্কে জমা হয় কোটি।
মানুষের দুঃখে তাদের ব্যবসা ফুলে ওঠে
ধর্মের আড়ালে লুকিয়ে থাকে পাপের পাহাড়।
এখানে শুধু মানবতা কাঁদে নিঃশব্দে,
রক্তাক্ত চোখে চেয়ে দেখে নিজের পরাজয়।
মানুষ মানুষের শত্রু হয়ে ওঠে ধর্মের নামে,
ভালোবাসা হারায়, থাকে শুধু ঘৃণার আগুন।
শিশুরা শেখে বিদ্বেষ, বড় হয় অন্ধ ফানাটিক,
পৃথিবী পরিণত হয় যুদ্ধক্ষেত্রে চিরকাল।
মানবতা কাঁদে, বলে, “আমি তোমাদের মা,”
কিন্তু ধর্মান্ধরা শোনে না, চালায় তলোয়ার।
নারীদের কী অবস্থা এই ধর্মের রাজ্যে!
নিগৃহীতা, পদদলিত, চিরকালের দাসী।
বোরখায় ঢেকে রাখে, বলে “পবিত্রতা,”
কিন্তু ধর্ষণ করে মন্দিরের অন্ধকারে।
সতীদাহের ছায়া এখনো জ্বলে উঠে,
বাল্যবিবাহের শৃঙ্খলে বাঁধে কচি মেয়ে।
ধর্মগ্রন্থের ব্যাখ্যায় করে নারীকে অপরাধী,
পর্দার আড়ালে পচে যায় তার স্বপ্নের ফুল।
তালাকের নামে ফেলে দেয় রাস্তায়,
পাথর ছুঁড়ে মারে “অপবিত্র” বলে।
নারী কাঁদে, রক্ত ঝরে তার গর্ভ থেকে,
ধর্মের নামে তার দেহ হয় যুদ্ধের মাঠ।
ওরে ধর্মান্ধরা, তোমাদের ব্যবসা থামাও,
ধর্মকে ফিরিয়ে দাও তার আসল রূপে।
মানবতাই ধর্ম, ভালোবাসাই প্রার্থনা,
নারী-পুরুষ সবাই সমান ঈশ্বরের সন্তান।
ছিঁড়ে ফেলো এই ফাঁদ, জ্বালিয়ে দাও অন্ধত্ব,
পৃথিবীকে সাজাও মানবতার আলোয়।
কাঁদতে কাঁদতে মানবতা বলে, “জাগো মানুষ,”
ধর্মের ছদ্মবেশে আর নয় পাপের খেলা।
কিন্তু কে শোনে? ধর্মান্ধরা চালায় তাদের দোকান,
নারী কাঁদে, মানবতা কাঁদে, পৃথিবী কাঁদে রক্তে।
এই ক্রন্দন থামবে কবে? যখন মানুষ জাগবে,
ধর্মকে ব্যবসা নয়, হৃদয়ের আলো বানাবে।
